বাম-বন্‌ধে ব্যাপক সাড়া তেহট্টে, কংগ্রেসের কালা দিবস রাজ্য জুড়ে

পুলিসের গুলি চালানোর প্রতিবাদে বামেদের ডাকা বারো ঘণ্টার বনধে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া মিলল তেহট্টে। সকাল থেকেই এলাকার দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। রাস্তাঘাটেও লোকজন বিশেষ নেই। তেহট্টের বনধের পাশাপাশি, নদিয়া জেলাজুডে আজ প্রতিবাদ আন্দোলনও করবে বামেরা। অন্যদিকে, তেহট্টের ঘটনার প্রতিবাদে আজ রাজ্যজুড়ে কালাদিবস পালনের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী দীপা দাশমুন্সিও আজ তেহট্টে যাচ্ছেন। যদিও, এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া কোনও রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রীকে তেহট্টের হাউলিয়ায় যেতে দেওয়া হয়নি।

দুবরাজপুরে পুলিসি অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন তৃণমূল জেলা সভাপতি

দুবরাজপুরের লোবা গ্রামে পুলিসি অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বীরভূমের তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনুব্রত মণ্ডলই পুলিসকে প্ররোচিত করেছিলেন গুলি চালানো জন্য। দুবরাজপুরে পুলিস-জনতা সংঘর্ষে গ্রামবাসীদের কোনও দোষ দেখতে পাননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর চোখে পুলিসও ছিল নিরপরাধ। ঘটনার পিছনে মুখ্যমন্ত্রী দেখেছিলেন ষড়যন্ত্র। আর তাঁর শিল্পমন্ত্রীর অভিযোগ ছিল, পুলিসের ওপর হামলা চালিয়েছে সিপিআইএম ও কংগ্রেস। পরে অবশ্য বয়ান বদল করে উগ্র বামপন্থীদের দোষারোপ করেন তিনি। যদিও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে শিল্পমন্ত্রীর বয়ান মিলছে না।

দুবরাজপুরে পুলিস বাড়াবাড়ি করেনি : মমতা

গতকালের দুবরাজপুরের লোবা গ্রামের ঘটনা নিয়ে অবশেষে আজ মহাকরণে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুরের সঙ্গে এই ঘটনার কোন তুলনাই চলে না বলে তিনি জানালেন। কারণ এর সঙ্গে জোর করে জমি দখলের কোনও সম্পর্ক নেই। তার সঙ্গেই গতকালের ঘটনা নিয়ে তিনি দুঃখপ্রকাশও করেছেন। ঘটনার কথা স্বীকার করে নিলেও তিনি জানিয়েছেন দুবরাজপুরে পুলিস বাড়াবাড়ি করেনি। তিনি জানিয়েছেন তাঁর কাছে আসা খবর অনুযায়ী স্থানীয় পুলিস রাজ্য পুলিসকে না জানিয়ে ঘটনাস্থলে গেলেও গুলি চালায়নি। তবে ঘটনা যে একটা ঘটেছে সে কথাও স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি।