এনসেফ্যালাইটিসের প্রকোপ উত্তরবঙ্গের চা বাগান জুড়ে, মারণ জ্বর প্রতিরোধে প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ এনসেফ্যালাইটিসের প্রকোপ উত্তরবঙ্গের চা বাগান জুড়ে, মারণ জ্বর প্রতিরোধে প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ

মারণ জ্বর প্রতিরোধে প্রশাসনের ভূমিকা ইতিবাচক বলে দাবি করা হলেও চব্বিশ ঘণ্টার ক্যামেরায় ভিন্ন ছবি। উত্তরবঙ্গের চা বাগানের শ্রমিক পরিবারে সর্বত্র দুর্দশার চিত্র। ছোট ছোট শিশুরা জ্বরে আক্রান্ত। অপুষ্টির কারণেও মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে তারা। আসে না মেডিক্যাল টিম। মেলে না চিকিত্সা পরিষেবা। স্বাস্থ্য বিভাগের গাফিলতির অভিযোগ ঝুড়ি ঝুড়ি। চব্বিশ ঘণ্টার এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট।শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে এনসেফ্যালাইটিসের প্রকোপ বেশি। রোজ বাড়ছে মৃত্যু। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বিশেষ করে চা বাগান বস্তিতে ভয়াবহ আকার নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শিশুরা। চিকিত্সা পরিষেবায় চরম গাফিলতির অভিযোগ। প্রশাসনের নজর নেই। শিলিগুড়ি লাগোয়া চা বাগানের প্রত্যেক শ্রমিক পরিবারে জ্বরে আক্রান্ত শিশুরা।

রায়পুর চা বাগানে মৃত্যু মিছিল, ২৪ ঘণ্টার খবরের জেরে ২২ ঘণ্টা পর মৃত শ্রমিকের সৎকারের ব্যবস্থা নিল প্রশাসন

মৃত্যুমিছিল অব্যাহত জলপাইগুড়ির রায়পুর চা-বাগানে। গতকাল সন্ধ্যায় মৃত্যু হয়েছে জিত্‍ বাহান মুন্ডা নামে এক চা শ্রমিকের। এই নিয়ে এক সপ্তাহে মৃত্যু হল ছ জন শ্রমিকের। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান প্রশাসনিক অধিকারিকরা। বিডিও শ্রদ্ধা সুব্বা, এসডিও সদর সীমা হালদার এবং জেলার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক জগন্নাথ সরকার চা বাগান পরিদর্শনে যান। শ্রমিকদের অভিযোগ, সরকারি আধিকারিকরা বাগান পরিদর্শনে গেলেও কথা বলেননি কোনও শ্রমিক পরিবারের সঙ্গে। অভিযোগ, বন্ধ চা বাগানে মৃত্যু মিছিলের জন্য দায়ী অনাহার-অপুষ্টি। শুক্রবার এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে এই অভিযোগ খারিজ করে দেন এসডিও সদর সীমা হালাদার। তাঁর পাল্টা দাবি, অপুষ্টি নয় রোগজনিত কারণেই মৃত্যু হয়েছে ছ জনের। যদিও গত উনিশ জুন থেকে শিশুদের খাবারের সরবরাহ বন্ধ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় অঙ্গনবাড়ি কর্মী রেখা রজক। দু হাজার তেরোর সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ রায়পুর চা বাগান। সরকারি সাহায্য হিসেবে যে চাল-গম দেওয়া হয়, তা খাওয়ার অযোগ্য বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও রয়েছে একাধিক অভিযোগ।

মৃত্যুপুরী জলপাইগুড়ি রায়পুর চা-বাগান, অনাহার অপুষ্টিতে মৃত্যু মুখে শ্রমিকরা

মৃত্যুপুরী হয়ে উঠেছে জলপাইগুড়ির রায়পুর চা-বাগান। গত চার দিনে এই বাগানে মৃত্যু হয়েছে চারজন শ্রমিকের। অভিযোগ উঠছে, মৃত্যুর জন্য দায়ী অনাহার-অপুষ্টি। গতবছর সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ এই বাগান। সরকারি সাহায্য হিসেবে যে চাল-গম দেওয়া হয়, তা খাওয়ার অযোগ্য বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও উঠেছে একাধিক অভিযোগ। জলপাইগুড়ি জেলায় এমুহুর্তে বন্ধ চার-চারটি চা -বাগান। যার মধ্যে রয়েছে রায়পুর চা-বাগানটিও। ছশো পঞ্চাশ জন শ্রমিক কাজ করতেন এখানে। এখন সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে পাঁচশো উনচল্লিশে। পেটের তাগিদে অনেকেই অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন। বেশ কয়েকজন মারাও গিয়েছেন এরই মধ্যে। এই মৃত্যু নিয়েই এবার দানা বেঁধেছে বিতর্ক। এমাসে বাইশ থেকে পচিশ তারিখ, এই চার দিনে চার জন শ্রমিক মারা গিয়েছেন রায়পুর চা-বাগানে। উঠছে অনাহার-অর্ধাহার-অপুষ্টিতে মৃত্যুর অভিযোগ। শ্রমিকদের অভিযোগ অবশ্য মানতে নারাজ জেলা প্রশাসন।

ভোট থেকে মুখ ফিরিয়েছেন কালচিনি ব্লকের তোর্সা চা বাগানের কর্মহীন শ্রমিকরা

ভোট থেকে মুখ ফিরিয়েছেন আলিপুরদুয়ারের কালচিনি ব্লকের তোর্সা চাবাগানের শ্রমিকরা। এক বছরেরও বেশি হয়ে গেছে, বন্ধ চাবাগান। কর্মহীন প্রায় আটশো শ্রমিক। অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটছে তাঁদের। প্রশাসনকে জানিয়েও সুরাহা হয়নি। তাই এবারের ভোটের কোনও গুরুত্বই নেই তোর্সা চাবাগানের শ্রমিকদের কাছে।দোরগোড়ায় লোকসভা ভোট। প্রার্থীদের প্রচার, দেওয়াল লিখন, পোস্টার-ব্যানারে সরগরম গোটা দেশ। অথচ এই ভোট উত্সব থেকে বহু দূরে আলিপুরদুয়ারের কালচিনি ব্লকের তোর্সা চাবাগান। এক বছরেরও বেশি হয়ে গেছে চাবাগান বন্ধ। কর্মহীন প্রায় আটশো শ্রমিক। নেই কাজ, নেই খাদ্যের সংস্থান। এই অবস্থায় দিন গুজরান করাই দায় তোর্সা চাবাগানের শ্রমিক পরিবারগুলির সদস্যদের। কোনওরকমে অর্ধাহারেই দিন কাটে তাদের। ভোট তাঁদের কাছে বাহুল্য মাত্র।