ভারতের প্রথম ইনিংসের শেষ, পুজারাকে কুর্নিশ ওয়াংখেড়ের

অবশেষে পরিসমাপ্তি ঘটল একটা রূপকথার ইনিংসের। মুম্বই টেস্টের দ্বিতীয় দিনে সোয়ানের বলে আউট হয়ে চেতেশ্বর পুজারা যখন প্যাভিলিয়নে ফিরে যাচ্ছেন তখন গ্যালারিতে সবাই উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছেন। দর্শকদের সঙ্গেই পুজারাকে অভিবাদন জানাল গোটা ভারতীয় ড্রেসিং রুম। ৩৫০ বলে করা ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন তারার ১৩৫ রানের ইনিংসটিকে কোন সংখ্যার মাপকাঠিতে বিচার করা যাবেনা। বিট্রিশ বোলিং-এর সামনে নুয়ে পড়া টিম ইন্ডিয়ার পৃথিবী বিখ্যাত ব্যাটিং লাইনআপ-এর মেরুদণ্ড টাকে কার্যত একার চেষ্টায় সোজা করে দিয়ে গেলেন তিনি। মূলত তাঁর ভরসার ব্যাটের উপর নির্ভর করেই ভারতের প্রথম ইনিংস শেষ হল ৩২৭ রানে। ব্যর্থ রথী-মহারথীদের ব্যর্থতাকে কিছুটা হলেও ঢেকে দিয়ে তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ভারতীয় টেল এন্ডারদের মধ্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করলেন হরভজন সিং। তিনি ভারতীয় স্কোরবোর্ডে যোগ করলেন অতি মূল্যবান ২১ টি রান।

দিনের শেষে ধোনির তৃপ্ত হাসি!

আধারের পিছনে সর্বদা আলো লুকিয়ে থাকে। দীর্ঘ পরিশ্রম, নিঃস্বার্থ সাধনায় সেই আলোর ঠিকানায় কিভাবে পৌচ্ছানো যায়, চেতাশ্বর পুজারা শতরান করে তা দেখিয়ে দিলেন। আর তার যোগ্য সঙ্গ দিলেন `অলরাউন্ডার` রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তিনি ভারতীয় শিবিরের অন্যতম বোলার হলেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ের সময় নিজের ব্যাট শক্ত করে ধরতে কখনও ভয় পান না। গতবছর এই ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে শতরান করেন তিনি। আর আজ অশ্বিন দিনের শেষে ৬০ রানে অপরাজিত থেকেছেন। চেতাশ্বর পুজারাও অনবদ্য ১১৪ রানে ক্রিজে টিকে রয়েছেন।

টালমাটাল পরিস্থিতি থেকে কার্যত একাহাতে দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন ভারতীয় ক্রিকেটের এই নতুন তারকা। বাইশ গজ পিচে আবহাওয়া যতই খারাপ হোক তাঁর শুরুর মধ্যে যেমন কোনও তাড়াহুড়ো নেই, তেমনি সেঞ্চুরির পথেও একই রকম অবিচল তিনি। স্বভাবত ওয়াংখেড়ের দর্শকরা পুজারার ব্যাটিং-এ `ডিপেন্ডেবলের ছায়া` দেখতে পেলেন। একের পর এক মহারথীরা যখন `শুধু যাওয়া আসা`-র ফর্মুলা মেনে প্যাভিলিয়নমুখী তখন দলকে বাঁচাতে তিন নম্বর স্থানে আসা রক্ষণশীল পুজারা হাল ধরেন। পাহাড় প্রমাণ চাপের মধ্যেও কোনও রকম তাড়াহুড়ো না করে সারাক্ষণ অবিচল, অনড় থেকেছেন পুজারা। তাই কোনও অসুবিধাই হল না নিজের কেরিয়ারের তৃতীয় শতরানটি পুরণ করতে।