ব্লগার রাজীব হত্যা ঘটনায় গ্রেফতার পাঁচ ছাত্র

Update: March 2, 2013 15:30 IST

বাংলাদেশে ব্লগার রাজীব হত্যার ঘটনায় সে দেশের পুলিস শনিবার এক বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ ছাত্রকে গ্রেফতার করল। পুলিসের দাবি জেরায় ওই অভিযুক্তরা আহমেদ রাজীব হায়দারের হত্যার দায় স্বীকার করে নিয়েছেন। গত মাসের ১৫ তারিখ শাহবাগ আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা রাজীবের মৃতদেহ উদ্ধার করে বাংলাদেশ পুলিস। রাজীবের মৃত্যু ঘিরে আরও বেশি জোরদার হয়ে ওঠে প্রজন্ম মঞ্চের লড়াই। সারা দেশ জুড়ে দ্রুত রাজীবের হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্তকরণ ও  শাস্তির দাবি ওঠে।

ঢাকার পুলিস কমিসনার মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন ওই ধৃত ছাত্ররা জবানবন্দীতে জানিয়েছে  জামাতের জামাত বিরোধী ব্লগকে ইসলামের পরিপন্থী মনে করেই তাঁকে তারা হত্যার পরিকল্পনা করেছিল।
হিংসা অব্যাহত বাংলাদেশে। নতুন করে সংঘর্ষে অগ্নিগর্ভ চট্টগ্রাম, রাজশাহী সহ বিভিন্ন জায়গা।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। জামাত-আওয়ামি লিগ সংঘর্ষে আহত দুজনের আজ সকালে মৃত্যু হয়। 

সকাল থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। মৃত্যু হয় তিন জনের। সাতকানিয়ায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে অসমর্থিত সূত্রে খবর। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় সড়কের ওপর বিভিন্ন জায়গায় অবরোধ করে জামাত শিবিরের সদস্যরা। কয়েকটি বাস ও গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়। অবরোধকারীদের হঠাতে গেলে পুলিসকে লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়ে জামাত সমর্থকেরা। আত্মরক্ষার্থে পুলিসও পাল্টা গুলি চালায় বলে জানিয়েছেন সাতকানিয়া থানার ওসি।

সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে রাজশাহীতেও। হঠাত্‍‍‍‍ই একটি মিছিল বার করে জামাত সমর্থকেরা। মিছিল থেকে পুলিসকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুরুতর জখম হন এক পুলিসকর্মী। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন একজন চিত্রসাংবাদিকও। কুমিল্লাতেও ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে জামাত শিবির। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সুন্দরগঞ্জ, পেকুয়া, কুতুবদিয়া সহ বহু জায়গায় একশো চুয়াল্লিশ ধারা জারি করেছে বাংলাদেশ সরকার।







Post Your Comment

Total Comments:1

Shahbag Hoye uthuk Sara Prithibi theke moulobad ke muche deoar ek prochondo andolon. Shahbag er joddha der Laal Selam

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।