টানাপোড়েন মেনে নিয়েও ন্যাটোর প্রতি নরম গিলানি

Update: May 16, 2012 21:28 IST

এবার খোলাখুলি ন্যাটো তথা পশ্চিমী দুনিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক সরকারের টানাপোড়েনের কথা কবুল করলেন ইউসুফ রাজা গিলানি। সেই সঙ্গে বুধবার ক্যাবিনেটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর পাক প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, দেশের কৌশলগত স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই তাঁর সরকার সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবে। সেই সঙ্গে আফগানিস্তানে মোতায়েন ন্যাটো বাহিনীর রসদ সরবরাহ রুট আবার চালু করার ব্যাপারেও ইসলামাবাদ দেশের স্বার্থ মাথায় রাখবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ছ`মাস আগে ন্যাটোর রসদ সরবরাহ রুট বন্ধ করে দেওয়ায় আগামী ২০-২১ মে`র ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন থেকে পাকিস্তানের বাদ পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। মঙ্গলবার এ বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন গিলানি। এই বৈঠকে দীর্ঘ ছয় মাস ন্যাটোর রসদ সরবরাহ রুট বন্ধ রাখার পর আবার খুলে দেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়। আর এর ফলে শিকাগোয় ন্যাটোর সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির যোগ দেওয়ার পথও খুলে যায়। মঙ্গলবারই ন্যাটোর মহাসচিব জেনারেল অ্যান্ডারস ফগ রাসমুসেন জারদারিকে ফোন করে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান।

বুধবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে গিলানি বলেন, আমেরিকা তথা ন্যাটোর সঙ্গে দেশের সম্পর্ক এখন একটা সঙ্কটকাল অতিক্রম করছে। তবে সরকার তার নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে কোনো দর কষাকষিতে যাবে না এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে তাড়াহুড়াও করবে না। তবে শুধু আবেগের বশে জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন তিনি। প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৬ নভেম্বর সালালা তল্লাশি চৌকিতে মার্কিন বিমান হামলায় ২৪ জন পাক সেনা নিহত হওয়ার পরই আফগানিস্তানে ন্যাটোর রসদ সরবরাহ পথ বন্ধ করে দেয় ইসলামাবাদ।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।