সত্যজিতের জন্মদিনের গুগলের ডুডলিং শ্রদ্ধার্ঘ

কাশবনের মধ্যে দিয়ে ট্রেন দেখতে ছুটে যাচ্ছে দূর্গা। সঙ্গে তার ছোট্ট ভাই অপু। এখনও বিশ্ব চলচিত্রে ভারতীয় সিনেমার সেরা বিজ্ঞাপন এই দৃশ্য। এই সাদাকালো দৃশ্য যে সিনেমার অংশ, সেই `পথের পাঁচালী`-র হাত ধরে ভারতীয় সিনেমায় সূচনা হয়েছিল এক নতুন রঙিন যুগের। বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে তৈরি এই সিনেমার সঙ্গেই ভারত তথা বিশ্ব সেলুলয়েডের জগতে তাঁর অপার সৃজনীর ঝুলি নিয়ে পা রেখেছিলেন এক কিংবদন্তী পরিচালক। সত্যজিৎ রায়। আজ সত্যজিতের ৯৩ তম জন্মদিন। তাঁর জন্মদিনে ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন গুগল জানাল তাদের ডুডলিং শ্রদ্ধার্ঘ। আজকের গুগল ডুডলে সাদাকালো তুলির আঁচরে তৈরি হয়েছে পথের পাঁচালীর অপু-দূর্গার সেই অবিস্মরণীয় দৃশ্য। ধোঁয়া ছেড়ে ছুটে চলা ট্রেন দেখতে কাশবনের মধ্যে দিয়ে ছুটে চলছে দুই ছোট্ট ভাই-বোন। চোখেমুখে অপার কৌতূহলের হাসি। আর তার ফাঁকদিয়ে উঁকি মারছে গুগল লেখাটি।

Updated By: May 2, 2013, 11:22 AM IST

কাশবনের মধ্যে দিয়ে ট্রেন দেখতে ছুটে যাচ্ছে দূর্গা। সঙ্গে তার ছোট্ট ভাই অপু। এখনও বিশ্ব চলচিত্রে ভারতীয় সিনেমার সেরা বিজ্ঞাপন এই দৃশ্য। এই সাদাকালো দৃশ্য যে সিনেমার অংশ, সেই `পথের পাঁচালী`-র হাত ধরে ভারতীয় সিনেমায় সূচনা হয়েছিল এক নতুন রঙিন যুগের। বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে তৈরি এই সিনেমার সঙ্গেই ভারত তথা বিশ্ব সেলুলয়েডের জগতে তাঁর অপার সৃজনীর ঝুলি নিয়ে পা রেখেছিলেন এক কিংবদন্তী পরিচালক। সত্যজিৎ রায়। আজ সত্যজিতের ৯৩ তম জন্মদিন। তাঁর জন্মদিনে ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন গুগল জানাল তাদের ডুডলিং শ্রদ্ধার্ঘ। আজকের গুগল ডুডলে সাদাকালো তুলির আঁচরে তৈরি হয়েছে পথের পাঁচালীর অপু-দূর্গার সেই অবিস্মরণীয় দৃশ্য। ধোঁয়া ছেড়ে ছুটে চলা ট্রেন দেখতে কাশবনের মধ্যে দিয়ে ছুটে চলছে দুই ছোট্ট ভাই-বোন। চোখেমুখে অপার কৌতূহলের হাসি। আর তার ফাঁকদিয়ে উঁকি মারছে গুগল লেখাটি।
১৯২১-এর আজকের দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সত্যজিৎ রায়। বাংলা সাহিত্যে ননসেন্স রাইটিংয়ের জনক সুকুমার রায় সত্যজিতের বাবা। মা সুপ্রভা দেবী। ঠাকুরদা ছিলেন আর এক কিংবদন্তী সাহিত্যিক উপেন্দ্র কিশোর রায়চৌধুরী। এহেন পরিবারের সন্তান সত্যজিৎ তাঁর বহুমুখী প্রতিভায় সমৃদ্ধ করেছেন বাংলাকে। বিশ্ব চলচ্চিত্রের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই পরিচালক ডকুমেন্টারি, শর্ট ফিল্ম সহ পরিচালনা করে ছিলেন মোট ৩৬টি সিনেমার। `পথের পাঁচালী` দিয়ে সেই জয় যাত্রা শুরু হয়েছিল। পথে তৈরি করেছেন অপু ট্রিলজি, অভিযান, মহানগর, গুপী গাইন বাঘা বাইন, কাঞ্চনজঙ্ঘা, হীরক রাজার দেশে, চিড়িয়াখানা, শাখা প্রশাখা, সোনার কেল্লা, পরশ পাথর, দেবী, চারুলতা, শতরঞ্জ কি খিলাড়ির মত আরও বহু অবিস্মরণীয় ছবি। ১৯৯২-এ বিশ্ব সিনেমায় তাঁর অবদানের জন্য দখল করে নেন অস্কারের লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্টের ট্রফি। শুধু সিনেমা নয়, বাংলা সাহিত্যকেও এক অজানা জগতের সন্ধান দিয়েছিলেন তিনি। কয়েক দশক পেরিয়ে এসেও বাংলা গোয়েন্দা কাহিনিতে জনপ্রিয়তার নিরিখে ফেলুদার কোনও বিকল্প নেই । এখনও বাংলা কল্পবিজ্ঞানে প্রফেসর শঙ্কু অপ্রতিদন্ধী। ফেলুদা, শঙ্কু ছাড়াও সত্যজিতের অনান্য ছোট গল্পেরও জুড়ি মেলা ভার। সাহিত্যিক, পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে চিত্রশিল্পী সত্যজিতও অনন্য। তাঁর অধিকাংশ বইয়ের মলাট, ভিতরের ছবি তাঁরই সৃষ্টি। সিনেমার টাইটেল কার্ডের অভিনবত্বও জন্মপেয়েছিল তাঁরই তুলির টানে। তিনি ছিলেন অসাধারণ ক্যালিওগ্রাফার।
১৯৯২-এর ২১ এপ্রিল সত্যজিৎ রায় প্রয়াত হয়েছেন। কিন্তু এখনও তাঁর সমস্ত সৃষ্টির হাত ধরে তিনি বেঁচে আছেন আমাদের মধ্যে। বেঁচে থাকবেনও আরও বহু শতক জুড়ে।

.