নীরবতায় প্রতিবাদ

Update: February 13, 2013 18:32 IST

প্রতিবাদের এক অন্য ভাষা দেখাল বাংলাদেশ। নীরবতার মাধ্যমে যুদ্ধঅপরাধীদের ফাঁসি ও জামায়েত শিবিরকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানালেন অগণিত মানুষ। মঙ্গলবার বিকেল চারটে থেকে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তিন মিনিট নিরবতা পালন করেন বহু মানুষ। তবে শান্তিকামী এই আন্দোলনে পাশাপাশি হিংসারও সক্ষী থাকল মঙ্গলবারের ঢাকা। জামায়েতে ইসলামির পাল্টা মিছিলে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা।

মঙ্গলবার বিকেল চারটে। নীরবতা ছিল প্রতিবাদের ভাষা। যুদ্ধ অপরাধীদের ফাঁসি ও  জামাতে শিবিরকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে এই কর্মসূচীর ডাক দিয়েছিল শাহবাগের আন্দোলনকারীরা। মঙ্গলবার বেলা চারটে বাজতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ তিন মিনিট নিরবতা পালন করে এই আন্দোলনে নিজেদের সমর্থন জানান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিবালয় সর্বত্রই তিন মিনিট নিরবতা পালিত হয়।

গত পাঁচই ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধে জামাতের নেতা আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় আদালত। এই রায় প্রত্যাখান করে আন্দোলনে নামে বাংলাদেশের যুব সমাজ। অন্যদিকে মঙ্গলবার ঢাকার রাজপথে মিছিল করে জামাতে ইসলামি। ট্রাইবুনাল ভেঙে দেওয়া ও আব্দুল কাদের মোল্লাসহ দোষীসাব্যস্ত নেতাদের মুক্তির দাবি জানায় তারা। এর পরেই পুলিসের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়। অশান্ত হয়ে ওঠে মতিঝিল, করওয়ান বাজার এলাকা।

যদিও সে  সময় উল্টো ছবি ছিল শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে। স্তব্ধতার মিছিলে লাখ মানুষের উপস্থিতিতে আরও জোরালো হয়েছে প্রতিবাদ। বৃহস্পতিবার সন্ধে সাতটায় মোমবাতি জ্বালিয়ে ফের প্রতিবাদ জানাবেন আন্দোলনকারীরা।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।