নিজস্ব প্রতিবেদন: প্রয়াত প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ কৃষ্ণা বসু।  আজ সকালে বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।  তিন বারের সাংসদ কৃষ্ণা বসু বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ। 


COMMERCIAL BREAK
SCROLL TO CONTINUE READING

নেতাজির ভাইপো শিশিরকুমার বসুর স্ত্রী। তাঁর পুত্র বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সুগত বসুও  তৃণমূল সাংসদ ছিলেন।  নেতাজি রিসার্চ ব্যুরোর প্রধান কৃষ্ণা বসু দীর্ঘ চল্লিশ বছর অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সিটি কলেজের এই অধ্যাপিকার অসংখ্য বই রয়েছে। তারমধ্যে নেতাজি সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণামূলক বই বেশ জনপ্রিয়। হার্টের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি।


আরও পড়ুন- ৮ মাস পর পাম অ্যাভিনিউয়ে বৃদ্ধ খুন রহস্যের কিনারা, গ্রেফতার ১


জন্ম ১৯৩০ সালে অবিভক্ত ভারতের ঢাকা শহরে। তাঁর বাবা চারু চন্দ্র চৌধুরী বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সচিব পদে ছিলেন। ১৯৫৫ সালে সুভাষ চন্দ্র বসুর বড়ভাই শরত্ বসুর পুত্র শিশির কুমার বসুর সঙ্গে বিয়ে হয় কৃষ্ণাদেবীর। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর হন। পরবর্তী সময়ে সিটি কলেজে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে অধ্যাপনা করেছেন। ওই কলেজের অধ্যক্ষও ছিলেন টানা ৮ বছর। তবে, তাঁর পরিচিতির ব্যাপ্তি ঘটে নেতাজি নিয়ে গবেষণায়। কাউন্সিল অব নেতাজি রিসার্চ ব্যুরোর প্রধান ছিলেন। নেতাজি সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর একাধিক লেখালিখি রয়েছে।


রাজনৈতিক পরিসরেও তাঁর ছিল অবাধ যাতায়াত। ১৯৯৬ সালে কংগ্রেসের টিকিটে দাঁড়িয়ে প্রথম সাংসদ হন তিনি। এরপর কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই মমতার সহযোদ্ধা হিসাবে কাজ করেছেন। ১৯৯৮ এবং ১৯৯৯ সালে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে জিতে সাংসদ হয়েছেন। পরপর তিন বার সাংসদ থাকাকালীন কেন্দ্রের বিভিন্ন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলিয়েছেন। বিদেশ মন্ত্রক বিষক কমিটির চেয়ারপার্সনও ছিলেন তিনি। শুধুই শিক্ষাবিদ নন, সমাজকর্মী হিসাবেও তাঁর পরিচিতি ছিল। ট্রাস্ট অব ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেল্থের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি।


কৃষ্ণা বসুর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে বিভন্ন মহলে। তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “ভাল বক্তব্য রাখতেন কৃষ্ণাদি। তাঁকে দেখে মায়ের মতো মনে হতো। বরাবর উত্সাহ করতেন।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টুইটে শোকবার্তা, তাঁর আকস্মিক চলে যাওয়ায় বাকরুদ্ধ এবং শোকাহত। এক ভালবাসার মানুষকে হারালাম। নেতাজি পরিবারের সদস্য ছাড়াও তিনি ছিলেন সমাজ সংস্কারক, কবি এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। তৃণমূল পরিবারের কাছে মায়ের মতো ছিলেন তিনি। বাংলার সংস্কৃতি এবং সমাজে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।