ভাঙড় জলসায় নিন্দা সব মহলেই, ড্যামেজ কন্ট্রোলে ডেরেক

Update: January 2, 2013 14:38 IST

ভাঙড়ে প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে অশালীন নাচ-গান এবং টাকা ছড়ানোর ঘটনায় ফের একবার দেশজোড়া সমালোচনার মুখে তৃণমূল নেতৃত্ব। এই পরিস্থিতিতে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে তৃণমূলের থিঙ্কট্যাঙ্ক। আটচল্লিশ ঘন্টার মধ্যে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও`ব্রায়ান।

এই প্রসঙ্গে সাংসদ ডেরেক ও`ব্রায়ান পরপর তিনটে টুইট করেন। প্রথমটিতে তিনি বলেন, "১ জানুয়ারি দলের প্রতিষ্টা দিবস উপলক্ষে রাজ্য জুড়ে অনেকগুলি অনুষ্ঠান হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র একটিতেই এই ঘটনা ঘটছে।" দ্বিতীয় টুইটে তাঁর বক্তব্য, "এই ঘটনায় যদি কোনও দলীয় সদস্য যুক্ত থাকেন তাঁর বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেবে দল।" তৃতীয় টুইটে তিনি বলেন "সাংস্কৃতিক এবং লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর দলের সংবেদনশীলতা প্রধানতম গুরুত্বের বিষয়। চৌত্রিশ বছরের উপহাসের পর আমরা এই বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করবই।"

তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপনে ভাঙর থানার সামনে মঞ্চ বেঁধে বসে অশ্লীল নাচগানের জমজমাট আসর। উদ্যোগে তৃণমূলের এক জনপ্রতিনিধি। সেই আসরে চটুল গানের তালে উদ্দাম নৃত্য শালীনতার সীমা ছাড়ায়। ওড়ে টাকা। মঞ্চ থেকেই দর্শকদের আহ্বান জানানো হল, এই জলসা প্রাণভরে উপভোগ করতে। স্বভাবতই দলীয় জলসায় অশালীনতার ঘটনায় নিন্দায় সরব সমাজের বিভিন্ন বৃত্তের বিশিষ্টজনেরা। তবে এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বলেই আজ মন্তব্য করেন সিপিআইএম নেতা মহম্মদ সেলিম। পঞ্চায়েত ভোটের আগে যুবসম্প্রদায়কে ভুল পথে চালনা করতেই এই সংস্কৃতির আমদানি বলেই মনে করেন তিনি। 

ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন সাহিত্যিক সুচিত্রা ভট্টাচার্য। পাশাপাশি তৃণমূলের নীচের তলার নেতাদের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। থানা থেকে ঢিল ছোঁড়া দুরত্বে ভাঙড়ে তৃণমূলের জলসায় অশালীনতার ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে রাজ্যজুড়ে।  পুলিসের অনুমতি ছাড়া এই ধরনের জলসা কী করে চলতে পারে তাই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেতা বাদশা মৈত্র। রাজ্যে এই অপসংস্কৃতি চলতে থাকলে আগামী প্রজন্মের জন্য তা রীতিমতো ক্ষতিকারক বলে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানান শিক্ষাবিদ সুনন্দ সান্যাল। ঘটনার নিন্দায় জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন মমতা শর্মাও।

Post Your Comment

Total Comments:3

Derekbabubhai, je didi sorbojon sroddheyo Jayprokash Narayanjir garir boneter opor udom nrittyo kore rajnitite obomullyobodh enechhilen, sei didirdole asteprithe mullyo bodhhin narokiyo culture lege royechhe.Aponi sei doler songe jukto, aponi brigader sahid saron udjaponer dine Deber gaoya `paglu` ganer birodhita korenni, tai aponer boktobber kono mullyo nei.

A NEW PROGRESSIVE TEACHER IS IN THE FIELD.MR.DEREK PLEASE TEACH YOUR ``JUBA``.I A AM ALIVE PASSING 34 YEARS OF LEFT RULE. CONGENIAL-CULTURE IN TRINAMUL? HORSES GOT THE SCOPE OF LAUGHING.YOUR LEADER STARTED WITH FALSE DOCTORATE.

Trinamul panthi buddhijibira akhon chup keno jobab to tader e dite hobe.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।