জমি জটে বন্ধ জোকা-বিবাদী মেট্রো প্রকল্পের কাজ

মেট্রো প্রকল্পে বড় ধাক্কা।  জমির অভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেল জোকা বিবাদী মেট্রো প্রকল্পের কাজ। তারাতলার মোড়ের কাছে আলিপুর মিন্টের জমি না মেলার কারণেই তৈরি হয়েছে জটিলতা। মিন্টের জমিতে মেট্রোর লাইন পাতার অনুমতি দেয়নি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। ফলে  গোটা প্রকল্পই এখন বিশ বাঁও জলে।  

Updated: Dec 26, 2012, 05:12 PM IST

মেট্রো প্রকল্পে বড় ধাক্কা।  জমির অভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেল জোকা বিবাদী মেট্রো প্রকল্পের কাজ। তারাতলার মোড়ের কাছে আলিপুর মিন্টের জমি না মেলার কারণেই তৈরি হয়েছে জটিলতা। মিন্টের জমিতে মেট্রোর লাইন পাতার অনুমতি দেয়নি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। ফলে  গোটা প্রকল্পই এখন বিশ বাঁও জলে।  
জন্ম থেকেই জটিলতা। বেসরকারি সংস্থা রাইটসকে দিয়ে সমীক্ষার পর ২০১০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জোকা-বিবাদিবাগ মেট্রো প্রকল্পের শিলান্যাস করেন তদানীন্তন রেলমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিল। কাজ শুরু হয় সে বছরের ২৯ ডিসেম্বর। শুরুতেই থমকে যায় মেট্রোর কাজ। বাধা দেয় ট্রাম কোম্পানি। ট্রাম লাইন তোলার অনুমতি যোগাড় করে কাজ ফের শুরু হয় ২০১১-র ১২ জুন। আবারও বাধা আসে ২০১২-র মার্চে। সেনা কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় ফোর্ট উইলিয়ামের নিচ দিয়ে মেট্রো সুড়ঙ্গ নিয়ে যাওয়া যাবে না। বাধ্য হয় রুটবদল করে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। নতুন নকশায় মেট্রোর পথ দেড় কিলোমিটার বাড়িয়ে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের উত্তর গেটের সামনে দিয়ে তা নিয়ে যাবার ছাড়পত্র মেলে।
এবার ফের বাধা। বাধা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের। মোমিনপুর পর্যন্ত মেট্রো লাইন যাবার কথা মাটির ওপর দিয়ে `এলিভেটেড করিডোর` এর মাধ্যমে। এরমধ্যে রয়েছে মোমিনপুর মিন্ট। যা একটি সংরক্ষিত ও উচ্চ নিরাপত্তা এলাকা। এখানেই আপত্তি তুলে মেট্রো কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। তাই আপাতত কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। সংকীর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ জায়গা হওয়ায় এই মুহুর্তে রেলের হাতে বিকল্প জমি নেই। জমি না পেলে কাজ এগোনো সম্ভব নয় বলে মেনে নিচ্ছেন মেট্রোকর্তারা।
 
প্রকল্প শুরুর সময় এর আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছিল ২৬১৯ কোটি টাকা। কাজ শেষ করার সময়সীমা ছিল ২০১৫-র ৩১ অক্টোবর। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট টাকায় নির্দিষ্ট সময় কাজ শেষ হবার কোনও আশাই দেখছে না কর্তৃপক্ষ। তারা তাকিয়ে রয়েছে রেলমন্ত্রক ও অর্থমন্ত্রকের কর্তাদের আগামি বৈঠকের দিকে।
 
প্রকল্পে জটিলতার ক্ষেত্রে মূলত টি প্রশ্ন উঠছে..
 ১) কাজ শুরু আগে রাইটস যে সমীক্ষা করল, তাতে মিন্ট এবং ফোর্ট উইলিয়ামকে মেট্রো রুটে রাখা হল কেন?
২) কাজ শুরুর পর রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড এই ২টি উচ্চ নিরাপত্তা জোনে মেট্রো লাইন বসানোর আগাম অনুমতি নেয়নি কেন?
৩) কাজ শুরুর পর একের পর এক বাধা আসবে এটা কর্তৃপক্ষ আন্দাজ করতে পারেনি কেন?
৪) জমি যখন রেলের নয়, তখন একতরফাভাবে কারুর অনুমতির তোয়াক্কা না করে মেট্রো কর্তৃপক্ষ কাজ শুরুর অনুমতি দিলেন কীভাবে?
৫) জোকা মেট্রো প্রকল্পে জমি জট কোনও জবরদখলের কারণে নয়। তা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিরক্ষা ও অর্থমন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক। এক্ষেত্রে রেল-অর্থ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মধ্যে এতদিন কোনও সমন্বয় বৈঠক হয়নি কেন?
৬) ফোর্ট উইলিয়ামের ক্ষেত্রে মেট্রোকে  ঘুরপথে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে।  মিন্টের ক্ষেত্রে তা না পাওয়া গেলে আদৌ কি মেট্রোর কাজ সম্পূর্ণ হবে?