"প্রধানমন্ত্রীকে মারার কথা বলিনি", কথা ফেরালেন মুখ্যমন্ত্রী

Last Updated: Tuesday, January 22, 2013 - 16:23

প্রধানমন্ত্রীকে বেনজির আক্রমণের ঘটনায় পাল্টা সংবাদমাধ্যমকেই দুষলেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ এসএসকেএম হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান দফতরের একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "সংবাদ মাধ্যম মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।" তাঁর বক্তব্যের অর্ধেক প্রচার করা হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমের একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা।  সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমি মারার কথা বলিনি। তাঁকে অপব্যাখ্যা করা হয়েছে বলেও অভিযগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ দিন প্রধানমন্ত্রীকে বেনজির আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেস কর্মীরা। আজ কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। প্রতিবাদে আজ মহাকরণের সামনেও বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনামূলক স্লোগান ছিল তাঁদের গলায়। তবে বিক্ষোভকারীদের দ্রুত হঠিয়ে দেয় পুলিস। কংগ্রেস কর্মীদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য শুধু কুরুচিকরই  নয়, এতে বাংলার সম্মানহানিও ঘটেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর গতকালের বক্তব্যে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়েছে সব মহলে। নিন্দায় সরব হয়েছেন অনেকেই। প্রধানমন্ত্রীকে বেনজির আক্রমণ করে গতকাল মুখ্যমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন, তা `অনভিপ্রেত`  এবং `দুর্ভাগ্যজনক`। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আজ দিল্লিতে এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মানস ভুঁইঞা।
কিন্তু গতকাল ঠিক কী বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী? সারের দাম বাড়ানো নিয়ে কেন্দ্রের সমালোচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নজিরবিহীন ভাবে আক্রমণ করে বসেন তিনি। ক্যানিংয়ের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সারের দাম বাড়ানোর বিরোধিতা করে তিনি দশবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, "তাহলে আর কী করব? তাহলে কি মারব?"
রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের গতকালের এই মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন সিপিআইএম নেতা মহম্মদ সেলিম। তাঁর বক্তব্য, এই পর্যায়ের কোনও নেত্রীকে আগে এ ভাবে মন্তব্য করতে শোনেননি তিনি। তাঁর মতে, "এ ধরনের মন্তব্য নজিরবিহীন ঘটনা।" ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই পূর্বের মন্তব্য অস্বীকার করে সংবাদমাধ্যমের উপর দোষারোপ করায় মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করতেও ছাড়েননি সিপিআইএম নেতা। 
আজ এসএসকেএম হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান দফতরের উদ্যোগে গঠিত ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, এনআরএস, আরজিকর ও বাঙ্গুর হাসপাতালে পিপিপি মডেলে পরিচালিত এই ধরনের দোকান ইতিমধ্যেই খোলা হয়েছে। আজ শম্ভুনাথ পন্ডিত হাসপাতালের ৩০ শয্যার নেফ্রোলজি বিভাগ এবং এসএসকেএমের জরুরি বিভাগের ৪৪ শয্যার পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ডেরও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ডে রোগীকে ২৪ ঘণ্টা রেখে তবেই চিকিত্সকরা তাকে ভর্তি নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। 



First Published: Tuesday, January 22, 2013 - 16:23


comments powered by Disqus