কিষেণজির কবিতা অসিধারা ছদ্মনামে প্রকাশিত

Update: November 26, 2012 21:20 IST

প্রহ্লাদ, রামজী, প্রদীপ, শঙ্কর, বিমল। এই সবকটি নাম একই ব্যক্তির। যাকে সবাই চেনেন কিষেণজি নামে। এবার তাঁর আরও একটি ছদ্মনাম জানা গেল। যে নামে তিনি কবিতা লিখতেন। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে সেই নামেই প্রকাশিত হয়েছে একটি কবিতা সংকলন। কোটেশ্বরলু ওরফে কিষেণজি। গত বছরের ২৪ নভেম্বর, নিহত হওয়ার পর জানা গেছিল তাঁর বেশ কয়েকটি ছদ্মনামের কথা। কিন্তু প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে জানা গেল আরও একটি ছদ্মনামের কথা। তা হল অসিধারা। অসিধারার কবিতা সংকলন, নতুন সকাল নামে এই বইটি প্রকাশিত হয়েছে ২৪ নভেম্বর।
 
প্রকাশক লিখেছেন, "অসিধারা হল শহীদ কমরেড কিষানজির ছদ্মনাম। যে নামে তিনি কবিতাগুলো রচনা করেছিলেন। তাই ২৪ নভেম্বর ২০১২, তাঁর শহীদত্বের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারতের বিপ্লবী আন্দোলনে কমরেড কিষানজীকে স্মরণ করে এবং তাঁকে লাল সেলাম জানিয়ে তাঁর স্বরচিত কবিতা সংকলন প্রকাশ করা হল।"৩৬ পাতার এই বইতে রয়েছে ২০০৬ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে লেখা কিষেণজির ১৫টি কবিতা।
 

লালগড় নিয়ে লেখা এই কবিতায় কিষেণজি লিখেছেন, "লালগড় আজ আমার স্বপ্ন, নকশালবাড়ির নাম আজ লালগড়-লালগড়-লালগড়। শৈশবের ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন, টুটে যাওয়া নিদ্রায়, থমকে যায়নি নকশালবাড়ি। সারাদেশে ছড়িয়েছে সে সংগ্রামের রেণু অবিরাম। গর্বভরে মুচকি হেসে আবার দাঁড়িয়েছে নকশালবাড়ি।"দিশেহারা, দেউলিয়াপনার মেরুদন্ড ভেঙে, নন্দীগ্রামকে বুকে তুলে নিল আমার লালগড়। লালগড় আমার লালগড়, এই লালদুর্গই আমার স্বপ্নের লাল মুক্তাঞ্চল।"
 
জানুয়ারি ২০০৯ লেখা এই কবিতার আগে কিষেণজি লিখেছেন, "বাঁশের ফলার আত্মকথা"কবিতার ফুটনোটে রয়েছে, "দণ্ডকারণ্যের জনযুদ্ধে হাজার হাজার জনগণ দিনরাত বুবি ট্র্যাপ তৈরি করেছেন। দুই মিটার লম্বা, এক মিটার চওড়া, পাঁচ-ছ ফুট গভীর গর্ত করে তার নিচে বাঁশের খুঁটি কিংবা লোহার খুটি পুঁতে দেয়। ২০০৮, এপ্রিলে এবং ছত্রিশগড়ে বিধানসভা নির্বাচনের সময় এরকম হাজার হাজার বুবি ট্র্যাপ জনগণ তৈরি করেছিলেন। ফলে ঐ অঞ্চলে হাজার হাজার আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হলেও তারা গ্রামে ঢুকতে পারেনি। অনেক জওয়ান এই বুবি ট্র্যাপের শিকার হয়।"
 
মাকে উদ্দেশ্য করে লেখা কবিতা, "যুদ্ধের ময়দানেই ভাল আছে" লিখেছেন, "আমার মা সবসময় শুধু আমাদের দুই ভাইকেই নয়, যারাই এই দেশের নিপীড়ন-শোষণের বিরুদ্ধে বিপ্লবী যুদ্ধের ময়দানে আছেন তাঁদের সকলকেই প্রেরণা দেন। অন্ধ্রপ্রদেশের দুই দৈনিক সংবাদপত্রে তিনি সাক্ষাত্কারে আমাদের উদ্দেশ্যে বিপ্লবী যুদ্ধের ময়দানে দৃঢ়ভাবে ছেলেদের দাঁড়ানোর জন্য বলেছেন। তাঁর প্রেরণায় আমার এই কবিতা।"অসিধারা ছদ্মনামে লেখা কিষেণজির আরও বেশকিছু কবিতা ও লেখার সংকলন প্রকাশিত হবে বলে জানা গেছে।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।