বিদ্রোহী শোভনদেব; নেমে আসতে পারে দলীয় শাস্তির খাঁড়া

Update: December 9, 2012 14:39 IST

ফের বিদ্রোহের সুর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের গলায়। "তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ফেলেছে কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ। যাঁরা নতুন তৃণমূলে এসেছে তারা তৃণমূলকে গুছিয়ে নিতে চাইছে"। আজ কলকাতায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠা দিবসের এক অনুষ্ঠানে এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন প্রবীণ এই তৃণমূল নেতা । তৃণমূল সূত্রে খবর, শোভনদেবের বক্তব্যে যথেষ্টই ক্ষুব্ধ তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় শাস্তির মুখে পড়তে পারেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে, তাঁকে বিধানসভায় দলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে তৃণমূল। শোভনদেবের জায়গায় তাপস রায়কে মুখ্য সচেতক করা নিয়েও ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে।

কয়েকদিন আগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে দলেরই কিছু কর্মীদের হাতে হেনস্থা হতে হয়েছিল শোভনদেবকে। এই ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি বেশ কিছুদিন ধরেই সরগরম। এর আগেও নিজের হেনস্থা নিয়ে সরব হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রবিবার আইএনটিটিইউসির প্রতিষ্ঠা দিবসে তাঁর মন্তব্যে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে শোভনদেব বলেছেন জঙ্গলমহল থেকে উত্তরবঙ্গ বা নন্দীগ্রাম, সর্বত্রই মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গেই তিনি ছিলেন। ভবিষ্যতেও থাকতে চান। তবে সম্মানজনক ভাবে। তিনি জানিয়েছেন `` স্বার্থানেষী কিছু মানুষ মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে রেখেছে। কেউ সিন্ডিকেটের ব্যবসা করছেন, কেউ কাটমানির। দলে যাঁরা নতুন এসেছেন তাঁরা আদতে গুছিয়ে নিতে এসেছেন। দলে এসেই পদ পাওয়া উচিত নয়।`` তবে এখানেই থেমে থাকেননি তৃণমূলের বর্তমান মুখ্যসচেতক। জানিয়েছেন, "কারও ইচ্ছা হলেই সে দলের নেতার উপর হাত তুলতে পারে না। দলের উচিৎ কড়া হাতে এসব নিয়ন্ত্রণ করা"। শোভনদেবের বক্তব্য অনুযায়ী তাঁর অসন্তোষের কথা তিনি সুব্রত মুখার্জী, মুকুল রায়কে বলেছেন। তবে এখনই তিনি দল ছেড়ে বেরিয়ে আসছেন না। তবে দল যদি মনে করে দলের আর তাঁকে প্রয়োজন নেই, সেক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্ত তিনি মাথা পেতে মেনে নেবেন।

অসন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি মমতার প্রতি তাঁর আস্থাও ব্যক্ত করেছেন অভিজ্ঞ এই তৃণমূল নেতা। জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর চারদিকে অশুভ বলয় তৈরি হয়েছে। কিন্তু তিনি অতন্ত বুদ্ধিমতী। তাই অসুখটা সনাক্ত করে ফেলেছেন। দ্রুত মুখ্যমন্ত্রী এই সব সারিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তৃণমূলের
শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্ব শোভনদেবের হাত থেকে দোলা সেনকে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই নিয়েও শোভনদেবের ক্ষোভ এখন সর্বজনবিদিত। আজকে আইএনটিটিইউসির অনুষ্ঠানে ঘুরিয়ে দোলা সেনেকে বিঁধতেও ছাড়েননি তিনি। বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন কেউ করতেই পারেন। তবে জেলা সভাপতিকে ইউনিয়ন সভাপতি করার সিদ্ধান্তকে `গণতন্ত্রকে ধর্ষন` করার সামিল বলে দাবি করেছেন তিনি।

দলীয় কোন্দল নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই বিতর্কে জর্জরিত তৃণমূল কংগ্রেস। আজকে শোভনদেবের এই মন্তব্য সেই বিতর্ককে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।

Post Your Comment

Total Comments:3

তবে শোভন বাবুর এতদিন কিসের উপর ভিত্তি করে অপেখ্যা করছেন জানি না ।কারন আমরা দেখেছি তৃনমূলের প্রথম দিন থেকে শোভন বাবু মমতার সঙ্গে। সুধু তায় নয়, উনি যখন কংরেসে ছিলেন তখন মরজাদা নিয়ে ছিলেন।কিন্তু এত হেনস্তা হয়ার পরে একজন প্রক্রিত শিখিত লক কি করে এত আপমান সজ্য করছে জানি না । উনার জা সন্মান হানি হয়েছে তা দল নেত্রি কেন কন ব্যক্তি তা পুরন করতে পারবে না ।সুতরাং উনার উচিত এই মুহুরতে তৃনমূলকে আল্বিদা জানান।নচেত সামনে উনার জন্য আর বর ধরনের আপমান অই বাহিনি তৈরি করে রেখেছে। এমন দিন আসবে দলনেত্রি আপনাকে দল থেকে তাঁরিয়ে দেবে ।তখন আর আপসোসের শেস থাকবে না ।

DIN DIN BIDRIHIR SANKHYA BARBE.

aaro drirho padakshep nite hobe tmcp r biroddhe. ei thik to somoy.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।