বিধানসভায় হাতাহাতি: কী বলছে দণ্ডবিধি

Update: December 12, 2012 17:06 IST

বিধানসভার ভিতরে যা হয়েছে, তাতে পুলিস বা প্রশাসনের কিছু করণীয় নেই। এমনটাই নিয়ম। কিন্তু বিধানসভার বাইরে এমন ঘটনা ঘটলে গ্রেফতার বা হাজতবাস শুধু নয়, জেলও খাটার সম্ভাবনা ছিল। ভারতীয় দণ্ডবিধিই সেকথা বলছে। বিধায়ক হলেও রেহাই মিলত না। বিধানসভার মধ্যে তুমুল উত্তেজনা, মারধর, এমনকী আক্রান্ত হলেন মহিলা বিধায়কও। কিন্তু আইন ও নিয়ম অনুসারে পুলিস-প্রশাসনের কিছুই করার নেই। কিন্তু বাইরে হলেই বদলে যেত চিত্রটা। যে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে, তাতে গ্রেফতার হওয়ার সম্ভাবনা ছিল বেশ কয়েকজন বিধায়কেরও।

আইনজ্ঞরা জানাচ্ছেন কালকের ঘটনার নিরিখে কোন কোন ধারায় মামলা রুজু করা যায়। ৩২৩, ইচ্ছাকৃত আঘাত-এক বছর জেল বা হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা দুটোই। ৩২৪,অস্ত্রসহ ইচ্ছাকৃত আঘাত-তিন বছর পর্যন্ত জেল বা জরিমানা অথবা দুটোই। ৫০৪, শান্তি নষ্ট করার জন্য উত্তেজিত করা-দুবছর পর্যন্ত জেল। ধারা ৫০৬,হুমকি দেওয়া-দুবছর পর্যন্ত জেল। ৫০৯, মহিলাদের প্রতি অশালীন আচরণ করা-এক বছর পর্যন্ত জেল। ৩৫৪, শ্লীলতাহানি-দুবছর পর্যন্ত জেল। ৩৫৫, সম্মানহানির জন্য আক্রমণ-দুবছর পর্যন্ত জেল। এরমধ্যে ৩২৪ ধারাটি জামিন অযোগ্য। বাকি যে কোনও ধারাতেই পুলিস কাউকে গ্রেফতার করতে পারে।

অর্থাৎ বিধানসভার বাইরে এমন ঘটনা ঘটলে, গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় বা দেবলিনা হেমব্রমের উপর আক্রমণের অভিযোগে এই ধারাগুলি প্রয়োগ করতে পারত পুলিস। আর দণ্ডবিধি অনুসারে বিধায়ক হলেও গ্রেফতার, হাজতবাসের পরে জেলে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যেত।

Post Your Comment

Total Comments:1

Ashole Amar mone hoi assembly te toh ayin toiri hoi, tai nuton ayin toiri holo, je mara mari korle ebar theke ar offense bole dhora hobe na.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।