জমিজটে আটকে শিল্পায়ন, শিল্পমন্ত্রীকে নালিশ বণিকসভাদের

Update: June 12, 2012 19:51 IST

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বছর ঘুরলেও রাজ্যে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এখনও বড় সমস্যা জমি। শিল্পমন্ত্রী ও বণিকসভার মধ্যে শিল্পবিষয়ক কোর কমিটির বৈঠকে মঙ্গলবার এই সমস্যার কথাই বারবার উঠে এসেছে। শিল্পপতিরা জানিয়েছেন, রাজ্যে এখনও শিল্পের অনুকূল পরিবেশ গড়ে ওঠেনি। শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক পদ্ধতি আরও সহজ করার প্রয়োজন আছে বলে শিল্পপতিদের তরফে জানানো হয়েছে।

ক্ষমতায় আসার পরেই গতবছর জুন মাসে শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করবে না রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর সেই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী দিনে জমি নীতিই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা তৈরি করবে বলে সে সময় জানিয়েছিলেন শিল্পপতিরা। সমস্যার সমাধান খুঁজতে সরকারের তরফে তৈরি করা হয় শিল্প বিষয়ক কোর কমিটি। গত একবছরে জমি সমস্যার সমাধান খুঁজতে শিল্পপতিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকে বসেছে সরকার। একবছর পরেও শিল্পে বিনিয়োগে  জমিই যে সবচেয়ে বড় সমস্যা তা আরও একবার স্পষ্ট হল মঙ্গলবার শিল্পবিষয়ক কোর কমিটির বৈঠকে। জমি সমস্যাই বিনিয়োগে সবচেয়ে বড় বাধা বলে শিল্পমন্ত্রীকে জানিয়েছেন বণিকসভার প্রতিনিধিরা। বিনিয়োগে ভাঁটার কারণ হিসাবে উঠে এসেছে শিল্পপতিদের বেশকয়েকটি আশঙ্কাও। যে বিষয়গুলি শিল্পপতিদের সব থেকে বেশি ভাবাচ্ছে, তা হল

সরকারি সাহায্য ছাড়া বড় জমি কেনার ক্ষেত্রে সমস্যা
 
জমি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে কেনা জমি বেদখলের আশঙ্কা

একলপ্তে বেশি জমি কেনার ক্ষেত্রে কোনও একজন জমি মালিকের আপত্তিতে আটকে যেতে পারে প্রকল্প
 
সরকার জমি অধিগ্রহণের দায়িত্ব না-নিলে জমি মালিকরা বাজার মূল্যের থেকে অনেক বেশি দাম চাইতে পারেন
 
শিল্পপতিদের বিনিয়োগে উত্‍সাহ বাড়াতে জমির উর্দ্ধসীমা সংক্রান্ত আইনেরও ১৪ ওয়াই ধারায় সংশোধন করেছে সরকার। এরফলে ২৪.৪ একরের বেশি জমি রাখার ক্ষেত্রে অধিকাংশ শিল্পেরই এখন কোনও বাধা নেই। এরপরেও শিল্পমহলের মধ্যে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন।
 
জমি কেনার পর তিন বছরের বেশি জমি ফেলে রাখলে সেই জমি ফের অধিগ্রহণ করবে সরকার। জমি আইনের এই জটিলতাও বিনিয়োগে অন্তরায়ের বড় কারণ বলে মনে করছে শিল্পমহল।
 
শিল্পস্থাপনে বিভিন্ন দফতরের অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রিতা, রাজ্যে নতুন চালু হওয়া এন্ট্রি ট্যাক্স, বিনিয়োগে অনীহার এগুলিও বড় কারণ বলে মনে করছেন শিল্পপতিরা। যদিও শিল্পমন্ত্রীর দাবি বিনিয়োগে জমি সমস্যা কোনও বাধাই নয়।

ক্ষমতায় আসার পরেই যে শিল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে জমি সমস্যাই ছিল সবথেকে বড় বাধা। একবছর পরেও সেই সমস্যাই যে সরকারের মাথা ব্যাথার অন্যতম কারণ হয়ে রয়েছে তাই স্পষ্ট করে দিয়েছে মঙ্গলবারের শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে শিল্প বিষয়ক কোর কমিটির বৈঠক। 
 
এই  নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এখনও বড় সমস্যা জমি। শিল্পমন্ত্রী ও বণিকসভার বৈঠকে মঙ্গলবার এই সমস্যার কথাই বারবার উঠে এল শিল্পপতিদের তরফে। শিল্পপতিরা জানিয়েছেন, রাজ্যে এখনও শিল্পের অনুকূল পরিবেশ গড়ে ওঠেনি। শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক পদ্ধতি আরও সহজ করার প্রয়োজন আছে বলে শিল্পপতিদের তরফে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনে বলা আছে, তিন বছরের বেশি জমি ফেলে রাখা হলে ফের তা সরকার অধিগ্রহণ করবে। নতুন শিল্প তৈরিতে এই আইনও বড় বাধা বলে জানিয়েছেন শিল্পপতিরা। শিল্পপতিরা যে সব সমস্যার কথা তুলেছেন, তা সরকার বিবেচনা করে দেখবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দফতরের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে তাও শিল্পপতিদের লিখিত আকারে জানাতে অনুরোধ করেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তবে রাজ্যের শিল্পন্নোয়নে আরও বেশি করে বণিকসভার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী।
 

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।