মানুষের অমরত্বের সন্ধান মিলল ১১৫ বছরের বৃদ্ধার রক্ত থেকে

কেতু কতই না চক্রান্ত করেছিল অমরত্বের সন্ধান করার জন্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় তার সময়ে বিজ্ঞানের ঘুম ততটা ভাঙেনি। তবে অমরত্ব আমাদের থেকে আর বেশি দূরে নেই বোধহয়।

Updated: Apr 25, 2014, 04:32 PM IST

কেতু কতই না চক্রান্ত করেছিল অমরত্বের সন্ধান করার জন্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় তার সময়ে বিজ্ঞানের ঘুম ততটা ভাঙেনি। তবে অমরত্ব আমাদের থেকে আর বেশি দূরে নেই বোধহয়।

বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন দীর্ঘায়ু হওয়ার নতুন দিশা। আর এর জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন, ১১৫ বছরে বৃদ্ধা হেনড্রিকজ ভন অ্যান্ডেল স্কিপারকে। ২০০৫ সালে তিনি মারা যান। কিন্তু তাঁর দীর্ঘ আয়ুর রহস্য খোঁজার জন্য শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। দেখা গেছে আমাদের কোষের বৃদ্ধির ক্ষমতার উপর নির্ভর করছে জীবনের আয়ু।

আমরা জন্মাই প্রায় কুড়ি হাজার হেমাটোপোয়েটিক স্টেম কোষ নিয়ে। সেখান থেকে সৃষ্টি হয় রক্তের কোষ। প্রতি ২৫ থেকে ৫০ সপ্তাহের মধ্যে ভাগ হয়ে যায় নতুন দুই কোষেতে (daughter cells)। এই কোষেরা তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের রক্ত কোষ। প্রায় ১৩০০ হেমাটোপোয়েটিক স্টেম কোষ (hematopoietic stem) হাড়ের মজ্জাতে তৈরি করে শ্বেতরক্ত কনিকা কোষ। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মৃত্যুর সময় ওই বৃদ্ধার রক্তে দুই সক্রিয় স্টেম কোষের প্রতিনিয়ত ক্ষয় হয়। পরে কোষগুলি অকেজো হয়ে পড়ে। অন্যদিকে শ্বেত রক্ত কনিকার ক্রোমোজম খুব ছোটো হতে থাকে। এর ফলে ভদ্রমহিলার রক্ত কোষ ধিরে ধিরে বার্ধক্যের দিকে অগ্রসর হয়েছে। জিনম রিসার্চ (Genome Research) জানিয়েছে, মানুষের আয়ু নির্ভর করছে কতবার স্টেম কোষ ভাগ হচ্ছে তার উপর।

গবেষক হেন হলস্টেজ মনে করেন, স্টেম কোষ (stem cell) হল অমরত্বের চাবিকাটি। তিনি জানিয়েছেন, মানুষ জন্মাবার পর থেকেই যদি স্টেম কোষগুলিকে সঠিকভাবে রক্ষা করা যায়, তাহলে আমরা বেশিদিন বাঁচতে পারি।