পুরুষরা এখন মহিলাদের থেকে বেশি চেহারা সচেতন, ঝুঁকছেন কসমেটিক সার্জারির দিকে

Last Updated: Monday, January 27, 2014 - 21:13

মহিলাদের মধ্যে সুন্দর হতে ছুরি-কাঁচির ওপর ভরসা করার ইতিহাস এখন বহু পুরনো। আরও সুন্দর হতে ঈশ্বরদত্ত সৌন্দর্যের ওপর কারিকুরি চালিয়েছেন শ্রীদেবী, মাধুরী থেকে বিদ্যা বালন, প্রীতি জিন্টা, বিপাশা বসু কমবেশি সকলেই। তবে সমীক্ষা বলছে মহিলাদের ছাপিয়ে গিয়ে সুন্দর হওয়ার দৌড়ে এখন কসমেটিক সার্জনদের কাছে ছুটছেন পুরুষরাই। সুন্দর চেহারা নাকি ভাল কেরিয়ার তৈরিতে সাহায্য করে।

দিল্লির এনহন্স ক্লিনিকের কসমেটিক সার্জন মনোজ খান্না জানালেন, "প্লাস্টিক সার্জারি আর শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য নয়। বহু পুরুষই এখন সুন্দর হতে প্লাস্টিক সার্জারির সাহায্য নিচ্ছেন। এই প্রজন্ম সুন্দর চেহারার ওপর সত্যিই জোর দিচ্ছে। কসমেটিক সার্জারির কোনও সাইড এফেক্ট নেই। কিন্তু ব্যক্তিত্বে আমূল পরিবর্তন আনে।" তবে পুরুষদের মধ্যে সবথেকে বেশি প্রবনতা হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করানোর। এরপরই রয়েছে লাইপোসাকশন বা মেদ ঝরানোর জন্য সার্জারি। সমীক্ষা বলছে যেইসব পুরুষরা চেহারা সুন্দর করতে কসমেটিক সার্জারির সাহায্য নিচ্ছেন তাঁদের ৭০ শতাংশই আসছেন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে। বয়স ২০ থেকে ৪০-এর মধ্যে। সুন্দর চেহারার কাছে খরচের ব্যাপার অনেক সময়ই নগন্য হয়ে উঠছে তাদের কাছে।

হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের খরচ যেখানে ৫০ হাজার থেকে ৩ লক্ষ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে, সেখানে লাইপোসাকশনের খরচ ৭৫ হাজার থেকে দেড় লক্ষ টাকা। এই সার্জারির সবথেকে সুবিধাজনক দিক হল অস্ত্রপচারের পরদিন থেকেই স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যায়। পুরুষদের মধ্যে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট ও লাইপোসাকশনের পরেই জনপ্রিয় গাইনিকোম্যাস্টিক (ব্রেস্ট রিডাকশন)। এছাড়াও রয়েছে রাইনোপ্লাস্টি (নাকের সার্জারি) ও ব্লেফারোপ্লাস্টি (আইলিড সার্জারি)। কল সেন্টার কর্মী থেকে শুরু করে শিল্পপতিরাও এখন কসমেটিক সার্জারির ভরসা রাখছেন।

শুধু অস্ত্রপচার নয়, বোটক্স ইঞ্জেকশন, লেসার হেয়ার রিমুভাল ও ত্বকের কেমিক্যাল পিলও করাচ্ছেন পুরুষরা। শালিমার বাগ ফর্টিস হাসপাতালের চিকিত্সক রিচি গুপ্তা জানালেন, "মানুষ এখন অনেক বেশি শিক্ষিত। ইন্টারনেটের প্রভাবে খোঁজখবরও বেশি রাখেন। কমবয়সী দেখতে পুরুষদের সমাজে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।"



First Published: Monday, January 27, 2014 - 21:12


comments powered by Disqus