কর্ণাটক মডেল দেখে, বিহারে বৃহত্তম দল হিসেবে সরকার গড়তে মরিয়া লালুর আরজেডি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, কর্ণাটকের ফল নতুন করে পাশা পাল্টে দিতে পারে গোয়া, মণিপুর ও মেঘালয় বিধানসভায়।

Aniruddha Chakraborty | Updated: May 17, 2018, 08:52 PM IST
কর্ণাটক মডেল দেখে, বিহারে বৃহত্তম দল হিসেবে সরকার গড়তে মরিয়া লালুর আরজেডি

নিজস্ব প্রতিবেদন: কর্ণাটকের ফল ও তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ দেখে এবার বিহারেও সরকার গড়ার দাবি নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করবে আরজেডি। লালুপুত্র তথা প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব বৃহস্পতিবার বলেন, কর্ণাটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়েও যদি বিজেপি সরকার গড়তে পারে তাহলে আমরাও তা করতে পারি বিহারে। শুক্রবার দুপুরে রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের সঙ্গে দেখা করবেন আরজেডি-র বিধায়করা।

কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে ভোটের ফল ত্রিশঙ্কু। ২২৪ আসনের এই বিধানসভায় ভোটগ্রহণ হয়েছে ২২২টি আসনে। তার মধ্যে ১০৪টি আসন পেয়ে বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি। কিন্তু, ১১২-র ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেনি তারা। অন্যদিকে, কংগ্রেস পেয়েছে ৭৮টি আসন। অন্যদিকে, সরকার গড়ার পক্ষে যে দল সে রাজ্যে 'কিং মেকারে'র কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছিল, সেই জেডি(এস) পেয়েছে ৩৮টি আসন।

আরও পড়ুন- ইয়েদুরাপ্পা শপথ নিলেও, কর্ণাটকে নাটক অব্যহত

কে সরকার গড়বে, এই প্রশ্নে যখন জল্পনা চরমে উঠেছে, ঠিক তখনই একক বৃহত্তম দল হিসেবে বিজেপিকে সরকার গড়তে আহ্বান জানান রাজ্যপাল বাজুভাই বালা। বৃহস্পতিবার সকালেই কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি এবারের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী বিএস ইয়েদুরাপ্পা। তবে রাজ্যপাল জানিয়েছেন, ১৫ দিনের মধ্যে সেখানে বিজেপিকে আস্থা ভোটে জিতে এসে নিজেদের সংখ্যা গরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। যদিও, রাজ্যপালের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কংগ্রেস।

২০১৫ সালে বিহার বিধানসভা নির্বাচনে লালু প্রসাদ যাদবের দল আরজেডি, নীতীশ কুমারের দল জনতা দল ইউনাইটেড এবং কংগ্রেস একজোট হয়ে বিজেপিকে পরাস্ত করেছিল। ২৪৩ আসনের বিহার বিধানসভায় ১৫১টি আসন পায় মহাজোট। অন্যদিকে, বিজেপি পায় ৫৩টি আসন। কংগ্রেসের দখলে ছিল ২৭টি আসন। মুখ্যমন্ত্রী হন নীতীশ কুমার। কিন্তু আরজেডি একাই পায় ৮০ আসন। অন্যদিকে, নীতীশ কুমারের দল পায় ৭১টি আসন। এরপর লালু প্রসাদ যাদবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর আরজেডি-র সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে জোট ভাঙে নীতীশ। সেই সঙ্গে পুরানো জোটসঙ্গী বিজেপিকে সঙ্গে নিয়ে নতুন জোট করে সরকার গড়ে জেডিইউ।

আরও পড়ুন- নতুন রাজনৈতিক দল গড়লেন বহিষ্কৃত বিচারপতি সি এস কারনান

এবার কর্ণাটকের মডেল সামনে আসার পরই নতুন করে সরকার গড়ার দাবি নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে চাইছে আরজেডি। লালুপুত্র তেজস্বীর দাবি, ''কর্ণাটকে সংখ্যাগোরিষ্ঠাতা না পেয়ে যদি সরকার গড়তে পারে বিজেপি, তাহলে বিহারেও একক বৃহত্তম দেশ হিসেবে বিহারে সরকার গড়ার দাবিদার আরজেডিই।''

বিহারের পাশাপাশি গোয়াতেও একই রকমভাবে বৃহত্তম দল হিসেবে সরকার গড়ার দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস। ৪০ আসন বিশিষ্ট গোয়া বিধানসভায় ১৭ আসন পেয়ে বৃহত্তম দল হয় কংগ্রেস। কিন্তু বিজেপি ১৩ আসন পেয়েও স্থানীয় দলগুলির সঙ্গে জোট বেঁধে সেখানে সরকার গড়ে ফেলে।  

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, কর্ণাটকের ফল নতুন করে পাশা পাল্টে দিতে পারে গোয়া, মণিপুর ও মেঘালয় বিধানসভায়। ফলে, কর্ণাটকে ইয়েদুরাপ্পাকে শপথগ্রহণ করিয়ে রাজ্যপাল বাজুভাই বালা এক নতুন প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দিলেন।

By continuing to use the site, you agree to the use of cookies. You can find out more by clicking this link

Close