লাদাখে সেনা প্রত্যাহার চিনের, সমস্যা সমাধানে চিন সফরে খুরশিদ

Last Updated: Tuesday, May 7, 2013 - 09:07

লাদাখের দৌলত বেগ ওলদি সেক্টর থেকে চিনা সেনা প্রত্যাহারের ফলে আপাতত স্বস্তিতে ভারত। গত তিন সপ্তাহ ধরে চলা অচলাবস্থা কাটাতে তিনটি ফ্ল্যাগমিটিং ও করে দুদেশের সেনাবাহিনী। তবে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে চিনের সঙ্গে কোনও কুইউ-প্রো-কো বা বিনিময় চুক্তি হয়নি বলেই দাবি করেছে বিদেশমন্ত্রক। নয়ই মে চিন সফরে যাচ্ছেন বিদেশমন্ত্রী সলমন খুরশিদ। চিন-ভারত বৈঠকে সীমান্ত সমস্যা নিয়েও কথা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  
পনেরোই এপ্রিল প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল অতিক্রম করে লাদাখের দৌলত বেগ ওলদি সেক্টরে বেশ কয়েকটি ছাউনি তৈরি করে চিনা সেনা। ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় উনিশ কিলোমিটার ভিতরে ঢুকে চিনা সেনার এই অনুপ্রবেশ নিয়ে উত্তাল হয় জাতীয় রাজনীতি। দেশের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই ঘটনা অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করে সরকারকে কোণঠাসা করতে শুরু বিরোধীরা। প্রশ্ন ওঠে কেন্দ্রীয় সরকারের বিদেশনীতি নিয়েও। চিনা সেনার ছাউনিগুলির বিপরীতে মাত্র তিনশো মিটার দূরে ছাউনি তৈরি করে ভারতীয় সেনাও। সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনে এরপরই কূটনৈতিক স্তরে বিষয়টির মোকাবিলা করতে উদ্যোগী হয় সরকার। শীর্ষস্তরে আলোচনার পাশাপাশি দুদেশের সেনাবাহিনীর মধ্যেও বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাগ মিটিং হয়। অবশেষে রবিবার ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের পর বরফ গলে। দৌলত বেগ ওলদি সেক্টর থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয় চিন। খুলে ফেলা হয় চিনা সেনার ছাউনিও। যদিও  সেনা প্রত্যাহার নিয়ে চিনের সঙ্গে কোনও কুইউ-প্রো-কো বা বিনিময় চুক্তি হয়নি বলেই দাবি করেছে বিদেশমন্ত্রক। 
লাদাখ থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে চিনও। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র হুয়া চুনিং জানিয়েছেন দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বৃহত্তর স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই সমন্বয় এবং সহযোগিতার ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। লাদাখ থেকে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে সরকার সাময়িক স্বস্তি পেলেও, চিনকে কখনোই বিশ্বাস করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা মুলায়ম সিং যাদব।
নয়ই মে, বৃহস্পতিবার চিন সফরে যাচ্ছেন বিদেশমন্ত্রী সলমন খুরশিদ। আগামী বিশে মে চিনের নতুন প্রধানমন্ত্রী লে কেকিয়াংয়ের ভারত  সফরে আসার কর্মসূচি রয়েছে। লাদাখে চিনা সেনার অনুপ্রবেশের পর দুদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের  পাশাপাশি অগ্রাধিকার পেতে চলেছে সীমান্ত সমস্যার বিষয়টিও। এমনটাই মনে করছেন  বিশেষজ্ঞ মহল।



First Published: Tuesday, May 7, 2013 - 09:07


comments powered by Disqus