পরবর্তী সেনাপ্রধান নিয়োগে আপত্তি খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিক্রম সিংয়ের নিয়োগের বিরোধিতা দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলা এদিন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি আর এম লোঢা এবং বিচারপতি এইচ এল গোখলেকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ এদিন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইস্টার্ন কম্যান্ডের বর্তমান কম্যান্ডিং অফিসারের সার্ভিস রেকর্ড ও নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল খতিয়ে দেখে এই নজিরিবিহীন রায় দিয়েছে।

Updated: Apr 23, 2012, 04:22 PM IST

ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিক্রম সিংয়ের নিয়োগের বিরোধিতা দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলা এদিন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি আর এম লোঢা এবং বিচারপতি এইচ এল গোখলেকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ এদিন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইস্টার্ন কম্যান্ডের বর্তমান কম্যান্ডিং অফিসারের সার্ভিস রেকর্ড ও নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল খতিয়ে দেখে এই নজিরিবিহীন রায় দিয়েছে।
সেনাপ্রধান বিজয়কুমার সিংয়ের উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিক্রম সিংয়ের বিরুদ্ধে কিছুদিন আগে ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যার একটি অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, জম্মু ও কাশ্মীরে রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের একজন ব্রিগেডিয়ার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় এক সাধারণ গ্রামবাসীকে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করে ভুয়ো সংঘর্ষে খুন করিয়েছিলেন। ২০০১ সালের মার্চ মাসে অনন্তনাগ জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে আবদুল্লা ভাট ওই ৬০ বছরের বৃদ্ধকে সাজানো সংঘর্ষে খুন করে বিক্রম সিংয়ের কমান্ডে থাকা ১ নম্বর সেক্টরের রাষ্ট্রীয় রাইফেলস-এর কয়েকজন জওয়ান ও অফিসার। নিহত আবদুল্লাকে বিদেশি সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন বিক্রম সিং। আর তার জেরে সেনা পদকও জুটেছিল এই সেনাকর্তার।
গত ৪ এপ্রিল ভুয়ো সংঘর্ষের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে অভিযুক্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিক্রম সিং`কে পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ করার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। আবেদনকারীদের তালিকায় ছিলেন ভারতীয় নৌবাহিনীর দুই প্রাক্তন অ্যাডমিরাল লক্ষ্মীনারায়ণ রামদাস ও বিষ্ণু ভাগবত এবং প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এন গোপালস্বামী। শুধু কাশ্মীরের মাটিতে `ফেক এনকাউন্টার` সংগঠিত করাই নয়, শীর্ষ আদালতে দায়ের করা মামলার আবেদনকারীদের অভিযোগ, ২০০৮ সালে আফ্রিকার কঙ্গোতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্বে থাকার সময় ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত অধস্তন সেনা অফিসারদের আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিক্রম সিং। নানা গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত বিক্রম সিংকে পরবর্তী সেনাপ্রধানের কুরসিতে না বসিয়ে আপাতত জেনারেল ভি কে সিংকেই স্বপদে বহাল রাখার জন্য কেন্দ্রকে নির্দেশ দিতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আর্জি জানান দুই প্রাক্তন নৌপ্রধান-সহ অভিযোগকারী পক্ষের সদস্যরা।

এই জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে এদিন লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিক্রম সিংয়ের সার্ভিস রেকর্ডের ফাইল তলব করে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি আর এম লোঢা এবং বিচারপতি এইচ এল গোখলে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ বেলা ২ টোর মধ্যে মনমোহন সরকার নির্বাচিত পরবর্তী সেনাপ্রধানের সার্ভিস রেকর্ড ও পদোন্নতি সংক্রান্ত ফাইল জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন কেন্দ্রের হয়ে সওয়ালকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জি ই বাহনবতী এবং সলিসিটর জেনারেল রোহিনটন এফ নরিম্যানকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভাবী সেনাপ্রধানের `ইতিহাস` সংক্রান্ত স্পর্শকাতর অভিযোগ সম্পর্কে অস্বস্তি এবং জনস্বার্থ মামলার গুরুত্বের বিষয়ে ওয়াকিবহাল থাকার কারণেই এদিন সুপ্রিম কোর্টে একই সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল ও সলিসিটর জেনারেলের মতো দুই শীর্ষ আইনি পরামর্শদাতাকে সওয়াল করতে পাঠিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু মনমোহন-অ্যান্টনির অস্বস্তি বাড়িয়ে দুই বিচারপতির বেঞ্চ অভিযুক্ত সেনাকর্তার ফাইল তলব করায় তৈরি হয় প্রবল চাঞ্চল্য।
অবশ্য কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিক্রম সিংয়ের সার্ভিস রেকর্ড ও পদন্নোতি সংক্রান্ত ফাইল দেখে সন্তুষ্ট হয় শীর্ষ আদালত। পত্রপাঠ মামলাটি খারিজ করে যাবতীয় জল্পনায় জল ঢেলে দেন দুই বিচারপতি। সেই আইনি যুদ্ধে রায় সরকারের পক্ষে যাওয়ায় আগামী ৩১ মে জেনারেল বিজয়কুমার সিংয়ের অবসর গ্রহণের পরই তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে পারবেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিক্রম সিং।