থ্যালাসেমিয়া থেকে বাঁচতে শরীরে বাসা বাঁধল এইচআইভি

Update: July 15, 2012 22:09 IST

থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের  পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছিল গুজরাটের জুনাগড়ের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। কিন্তু ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ব্লাডব্যাঙ্কের রক্তেই যে ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের শরীরে বাসা বাঁধছে মারণ রোগ। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের ২৩ জনের রক্তে মিলেছে এইচআইভির জীবাণু।

থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের জন্য বিনা খরচে রক্ত দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। গুজরাটের জুনাগরের সর্বদয় ব্লাডব্যাঙ্কের উদ্যোগে আশার আলোয় বুক বেঁধেছিলেন এখানকার ১৫০-রও বেশি বাচ্চার বাবা-মায়েরা। কারণ তারা সবাই ছিল থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। প্রতি মাসেই তাদের রক্ত দিতে হত। সরকারি হাসপাতালের মধ্যেই চলত সর্বদয় নামে সেচ্ছাসেবী সংস্থার ব্লাডব্যাঙ্ক। কিন্তু তারমধ্যেই ঘটল এক শিহরণ জাগানো ঘটনা। হঠাত্‍ একদিন দেখা গেল এই থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের ২৩ জনের রক্তে রয়েছে এইচআইভির জীবাণু। একের পর এক শিশু আক্রান্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তিনজনের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটেছে। কিন্তু প্রশাসন কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি। ছোট্ট ছোট্ট শিশুর শরীর গ্রাস করেছে মারণ ব্যাধি। সমাজও পাশে দাঁড়ায়নি। ঠিকমতো রক্ত সংগ্রহ না করা, সংগৃহীত রক্তের সংরক্ষণে গাফিলতি ও রোগীদের শরীরে রক্ত দেওয়ার সময় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা পদ্ধতি অবলম্বন না করার ফলেই শিশুদের শরীরের দানা বেঁধেছে থ্যালাসেমিয়ার থেকেও ভয়ঙ্কর এই মারণব্যাধি।
 
অবশেষে গুজরাট হাইকোর্ট এক জনস্বার্থ মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতে যার বিরোধিতা করেছে গুজরাট সরকার। পুলিস, প্রশাসন, সরকার সব তরফেই যেন নিজেদের বাঁচার আর এই অভিযোগ গুলিকে নস্যাত্‍ করার চেষ্টা চলছে।






Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।