রিও থেকে সোনা আনতে চান মেরি কম

Update: August 9, 2012 12:20 IST

লন্ডন অলিম্পিকের সেমিফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে মেরি কমের। সোনা অধরাই থেকে গেছে ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই বক্সারের। প্রথম অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে মণিপুরের এই মহিলা বক্সারকে। কিন্তু সোনা অধরা থাকলেও দমতে রাজি নন মেরি। বক্সিংকে বিদায় জানানোর কথাও একেবারেই ভাবছেন না দুই সন্তানের জননী, ২৯ বছরের বক্সার। লন্ডনে ২৪ঘণ্টাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্‍কারে মেরি কম জানালেন, রিও-তে পদকের রঙ বদলাতে চান তিনি। আগামী ২০১৬ সালে ব্রাজিলের রাজধানী শহরে অনুষ্ঠিতব্য অলিম্পিক থেকে আনতে চান সোনা।

বুধবার লন্ডনের এক্সেল সাউথ এরিনায় ৫১ কেজি(ফ্লাইওয়েট) বিভাগের সেমিফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রিটেনের নিকোলা অ্যাডামসের কাছে পরাজিত হন মণিপুরের মেয়ে। দু'নম্বর বাছাই নিকোলা অ্যাডামস ৪ টি রাউন্ডেই পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন মেরির থেকে। শেষ পর্যন্ত ৬-১১ পয়েন্টে ম্যাচ হেরে যান ওই মণিপুরি কন্যা। ৪ রাউন্ডের বাউটের পয়েন্টের ফল যথাক্রমে ১-৩, ১-২, ২-৩, ২-৩। ঘরের রিং'য়ে প্রবল জনসমর্থন ওজন আর উচ্চতার সুযোগ নিয়েই মেরিকে পেছনে ফেললেন লিডসের মেয়ে নিকোলা। তবু নিজের স্বাভাবিক ওজনের থেকে বেশি ওজনের বিভাগে নেমে ২৯ বছর বয়সে প্রথম অলিম্পিকেই ব্রোঞ্জ নিঃসন্দেহে অনবদ্য কীর্তি। চলতি বছরের মে মাসেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে এই নিকোলার কাছেই হেরে গিয়েছিলেন তিনি।

অলিম্পিকে এই বারই চালু হয়েছে মহিলাদের বক্সিং ইভেন্টে। আর প্রথম বারেই পদকজয়ীদেরক তালিকায় নাম তুলে ইতিহাসের পাতায় ঢুকে গেলেন মেরি। ২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিকেও এই একই ইতিহাস গড়েছিলেন কর্ণম মালেশ্বরী। সেবারও প্রথম বার অলিম্পিকে অনুষ্ঠিত হয়েছিল মহিলাদের ভারোত্তোলন ইভেন্ট। প্রথম বারেই ব্রোঞ্জ জিতে আগেই ইতিহাস গড়েছিলেন মালেশ্বরী। বুধবার সেই একই বন্ধনীতে ঢুকে পড়েছেন মেরি কম। তা ছাড়া এতদিন অলিম্পিক বক্সিংয়ে ভারতের সেরা সাফল্য ছিল ২০০৮ সালে বেজিং-এ বিজেন্দ্র সিংহের ব্রোঞ্জ। বিজেন্দ্রর সেই কীর্তিকেও ছুঁয়েছেন মেরি।

এবারের অলিম্পিকে বারেবারেই অবিচারের শিকার হয়েছে ভারতীয় বক্সিং দল। সেমিফাইনালে মেরির পরাজয়ের পরও উঠে এসেছে কিছু প্রশ্ন। তবে এ ক্ষেত্রে নিশানায় ইন্ডিয়ান টিম ম্যানেজমেন্ট। ইম্ফলে মেরির প্রাক্তন কোচ ইবঞ্চা সিংহের অভিযোগ, অলিম্পিকের মতো মঞ্চেও ভারতীয় বক্সিং দলের কেউ ঠিক মতো হেড-গিয়ার বেঁধে দেননি মেরিকে। বাউটের মাঝেই লড়াই থামিয়ে হেড গিয়ার ঠিক করতে হয়। এই ঘটনা মেরির মনঃসংযোগে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে বলেই দাবি করেন ইবঞ্চা।

সোমবার কোয়ার্টার ফাইনালে টিউনিশিয়ার বক্সার মারোয়া রাহালিকে হারিয়ে দেশের জন্য ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করে ফেলেছিলেন মেরি। প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে মেরি কমের সেই জয়ের স্বপ্নেই বিভোর ছিল গোটা দেশ। কিন্তু শেষপর্যন্ত স্বপ্নভঙ্গ হল। কিন্তু প্রতিপক্ষ শক্ত হলেও নিজের সেরাটা দিতে পারায় আক্ষেপ নেই মণিপুরী কন্যার।




Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।