বিতর্কের মাঝেও চোয়াল চাপা লড়াইয়ের শপথ রন্টিদের

Update: March 19, 2013 19:54 IST

টাইম মেশিনে চেপে একবছর আগে ফিরে যেতে বারবার করে চাইবেন মরগ্যান ব্রিগেড। কিন্তু শিল্ড ফাইনালের আগে এই অফার ছুঁড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দেবেন এলকোবাহিনী। ঠিক এক বছর আগে শিল্ড ফাইনালে পেনাল্টি মিস করার ছবি দেখলে এখনও আঁতকে ওঠেন মনিপুরি মিডিও জেমস সিং এবং তাঁর প্রয়াগ ইউনাইটেড দল।

আর একবছর পর আবার শিল্ড ফাইনালে মুখোমুখি সেই ইস্টবেঙ্গল ও প্রয়াগ ইউনাইটেড।কিন্তু গতবারের পেনাল্টি মারার ব্যর্থতা থেকে কি আদৌ কোনও শিক্ষা নিয়েছে প্রয়াগ ইউনাইটেড? ফাইনালের আগে শেষ অনুশীলনে তো শুধুই গোলকিপিং নিয়ে বিতর্কের সাতকাণ্ড। কোনও পেনাল্টি অনুশীলনই হল না। তা নিয়ে বিন্দুমাত্র হেলদোল নেই এলকোর। বরং তাঁর মুখে দার্শনিক ভাবনা।
 
ধনচন্দ্রণ না থাকায় ফ্রি কিক স্পেশ্যালিস্টের অভাব বোধ করবেন বলে দাবি এলকোর। তার উপর চোট পেয়ে হঠাত্ ভিনিথ অনিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় তড়িঘড়ি তার জায়গায় আসিফকে খেলানোর চিন্তা ভাবনা করতে হচ্ছে প্রয়াগ টিম ম্যানেজমেন্টকে।

সময় হলেই সব বলবেন তিনি। প্রয়াগ ইউনাইটেডের গোলরক্ষক সুব্রত পালের এই মন্তব্যে আঁচ পাওয়া গেল প্রয়াগ শিবিরে গোলকিপিং বিতর্ক ঠিক কতদূর পৌঁছেছে। ময়দানে করিম বনাম টোলগে নাটক মিটতে না মিটতেই নতুন পালা এলকো বনাম সুব্রত পাল ।এদিন অনুশীলনের আগে সুব্রত পালের সঙ্গে বৈঠকে বসেন এলকো। কিন্তু সমাধানসূত্র তো দূরের কথা।শুরু হল  উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। নিটফল শূন্য।

কিন্তু কেন হল এলকো-সুব্রত পালের বৈঠক? গত কয়েকদিন ধরেই এলকোর সঙ্গে সাপে নেউলে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে জাতীয় দলের গোলরক্ষক সুব্রত পালের। এলকো জমানা শুরু হওয়ার পর সুব্রত পালের স্থায়ী ঠিকানা রিজার্ভ বেঞ্চ। তিনকাঠির তলায় দাঁড়াচ্ছেন সংগ্রাম মুখার্জি। এলকোর সংগ্রাম প্রীতি এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে, যে শিল্ড সেমিফাইনালের আগের দিন সংগ্রাম অফিস ম্যাচের জন্য অনুশীলনেই আসেননি। দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছিলেন সুব্রত। অথচ গোলকিপিংয়ের দায়িত্ব পান অফিস ম্যাচ খেলে সেমিফাইনালের দিন সকালে ফেরা সংগ্রাম মুখার্জি।

এই ঘটনা অপমানিত সুব্রত পালের সঙ্গে এলকোর সম্পর্কে ঘি ঢালে। সোমবারও এই বিতর্কের জেরে কোনও গোলকিপার না আসায় প্রয়াগ ইউনাইটেডে গোলকিপিং অনুশীলনই হয়নি। ফাইনালের আগের দিনও অফিস ম্যাচের জন্য সংগ্রাম মুখার্জি না এলেও অনুশীলন করেন সুব্রুত।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।