ক্রিকেটকে চোখের জলে বিদায় ভগবানের, মাথা নোয়ালেন ২২ গজে, দেশ বলছে তোমায় সেলাম

Last Updated: Saturday, November 16, 2013 - 14:08

বাবার কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল সচিনের। হাতে ধরা দীর্ঘ তালিকা। একে একে সবার নাম বলবেন ঠিক করেইছিলেন তিনি। বার বার জল খাচ্ছিলেন। আজ যে অনেক বলতে হবে। শেষ বারের মত। অনেক আবেগ, অনেক লড়াই। সোচিনযুগের অবসানে ভগবানের কথা। টিভির পর্দায় গোটা দুনিয়া।
কাঁপা ঠোঁটে বাবা রমেশ তেন্দুলকারকে স্মরণ করলেন সচিন রমেশ তেন্দুলকর।
#স্টেডিয়ামের উচ্ছ্বাস আর উন্মাদোনা দেখে বললেন, অভাবনীয়। আমি এটা মিস করব। মমতা আর যত্নের জন্য ধন্যবাদ জানালেন মাকে।
# বললেন মায়ের প্রার্থণা আমাকে শক্তি জুগিয়েছে। ছেলেবেলায় স্কুলে পড়ার সময় কাকা, কাকিমাকে পাশে পাওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানালেন তাঁদেরও। ভাই নিতিনকেও ধন্যবাদ। নাম নিলেন অজিত ও বোন সবিতার।
`অঞ্জলি আমার জীবনের সেরা পার্টনারশিপ`
সবচেয়ে সুন্দর জিনিসটা হয়, যখন আমার অঞ্জলির সঙ্গে দেখা হয়। সেই বছরগুলো বিশেষ ছিল। এটা এখনও চলছে, চলবে। অঞ্জলি ডাক্তার হতে চায়েছিল, সামনে তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছিল। কিন্তু আমার ক্রিকেট খেলার জন্য সবকিছু ছেরে দিয়েছিল সে। একা পরিবারের দায়িত্ব হাতে তুলে নিয়েছিল। ওকে ছাড়া আমি ক্রিকেট খেলতে পারতাম না। আমার জীবনের প্রতিটা ওঠা পড়ায় আমার পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এটা আমার জীবনের সেরা পার্টনারশিপ।
ছেলে মেয়ের জন্য
সময় গিয়েছে। আমি তোমাদেরকে বেশি সময় দিতে পারিনি। আমি অনেক কিছু ত্যাগ করেছি। আমাকে বোঝার জন্য ধন্যবাদ। তোমার আমরা জন্য বিশেষ। আগামী ১৬ বছর ও তার পরের দিনগুলো এখন থেকে শুধু তোমাদের জন্য।
# অঞ্জলির পরিবারকে সাথ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান সচিন। ছেলেবেলার বন্ধুদের জন্যও কথা বললেন মাস্টার ব্লাস্টার।
গুরুদক্ষিণা
# ক্রিকেট গুরু রমাকান্ত আচরেকর কথা কীভাবে ভুলবেন। কেরিয়ারের সূর্যাস্তে আজ বোধায় তাঁর কথাই সবচেয়ে বেশি মনে পোড়ছিল ২৪ বছর ধরে ক্রিকেটকে উৎসর্গ করা ভপগবানের। প্রতিটা ম্যাচের আগে গুরুর কথা কীভাবে তাঁকে প্রভাবিত করত তাই বলছিলেন সচিন। তিনি আরও বলেন, "তবে স্যার কখনও বলেননি well played।"
# মুম্বই ক্রিকেট এ্যাসোসিয়েশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভগবান। বিসিসিআইকে তাঁর ক্রীড়া দক্ষতাকে বোঝার জন্য ধন্যবাদ দেন সচিন।
# ক্রিকেটের প্রবীণদেরকে স্মরণ করলেন সচিন। ধন্যবাদ তাঁর সঙ্গে খেলার জন্য। রাহুল দ্রাবিড়কেও ধন্যবাদ জানান তিনি। ভারতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি ও লক্ষণের নাম চলে আসে স্বাভাবিক ভাবেই। নিজের টিমকে এগিয়ে যাওয়ার কথা আর দেশের নাম আরও উজ্জ্বল করার কথা মনে করিয়ে দেন তিনি।
# ভারতীয় দলের কোচেদেরকেও ধন্যবাদ জানান তিনি। নাম করেন ম্যানেজারদেরও।
সবশেষে এল সেই পালা। গোটা স্টেডিয়াম তখন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনছে ভগবানের বাণী। দর্শক, ভক্ত, পাগল সব্বার জন্য বললেন লিটিল মাস্টার।
"বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আজ খেলা দেখতে আসার জন্য ধন্যবাদ। আমি আপনাদের মধ্যে অনেকের সঙ্গে দেখা করেছি যারা দিনের পর দিন আমার খেলার জন্য উপোষ করেছেন। `সচিন সচিন`। আমার জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত এই আওয়াজ আমার কানে বাজবে...Goodbye"।
গোটা দেশের চোখে তখন জল। জাতীয় পতাকা হাতে সচিন। সত্যিও গোটা দেশের আজ তাঁকে সেলাম জানানোর পালা। শেষ বেলায় পাশে পেলেন গোটা পরিবার। ক্রিকেটিয় পরিবারও তাঁর পাশে।
#ফেয়ারওয়েল ল্যাপের পালা এল এর পরেই। ধনি-কোহলি... একে একে সবাই কাঁধে তুলে নিলেন তাঁকে। হঠাৎ ক্যামেরার ফ্রেমে সেই মুহূর্ত। মুখোমুখি দু`জন। সুধির। এক হাতে শঙ্খ, আর এক হাতে জতীয় পতাকা। জাতীয় পতাকায় রাঙা শীর্ণ শরীরটা প্রাণ পণে দোলাচ্ছে তেরঙা।
# মাঠ ছাড়ার আগে এগিয়ে গেলের ক্রিকেটের ভগবান। একা। শেষ বারের মত। ২২ গজে। মাথা নোয়ালেন। ফিরে তাকালেন না। শেষবারের মত প্যাভেলিয়নে ফেরা। আর পেছন থেকে পিচ বলে উঠল...`বিদায় সচিন`।



First Published: Saturday, November 16, 2013 - 16:52


comments powered by Disqus