দামাস্কাসে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী-সহ ৩ নেতা নিহত

Update: July 18, 2012 23:11 IST

আসাদ প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রে আঘাত হানল সিরিয়ার বিদ্রোহীরা। জাতীয় নিরাপত্তা ভবনে জরুরি বৈঠক চলাকালীন বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে সিরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল দাউদ রাজার। প্রাণ হারিয়েছেন আসাদের আত্মীয় তথা উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফ শৌকত এবং প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হাসান তুর্কমানি।  হামলায় গুরুতর আহত সিরিয়ার অভ্যন্তরীণমন্ত্রী এবং গোয়েন্দা প্রধান। নিরাপত্তার বেড়াজাল এড়িয়ে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায় এক দেহরক্ষী। এর ফলে বড় ধাক্কা খেল আসাদ প্রশাসন।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অশান্ত সিরিয়া। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেনা জঙ্গি সংঘর্ষ চলছে। তারই মাঝে গত কয়েকদিন ধরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে রাজধানী দামাস্কাস। এই পরিস্থিতিতে বুধবার দামাস্কাসের হাই সিকিউরিটি জোনে জাতীয় নিরাপত্তা ভবনে ছিল গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। মন্ত্রিসভার সদস্য ও নিরাপত্তাবাহিনীর শীর্ষকর্তাদের আলোচনার মাঝেই ঘটে বিস্ফোরণ। জানা গেছে এক দেহরক্ষী আত্মঘাতী হামলা চালায়।

বিস্ফোরণের অভিঘাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ঘনিষ্ঠতম সহযোগী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল দাউদ রাজা এবং প্রেসিডেন্ট আসাদের আত্মীয় ও উপপ্রতিরক্ষা মন্ত্রী আসিফ শৌকতের। বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন জেনারেল দাউদ রাজা। উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী শৌকতও প্রেসিডেন্ট আসাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। মৃত্যু হয় প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল হাসান তুর্কমানিরও।


বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী মহম্মদ ইব্রাহিম অল শার এবং গোয়েন্দা প্রধান হিসাম বখতিয়ার। তড়িঘড়ি দেশের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিয়োগ করা হয়েছে সিরিয়ার সেনাপ্রধান জেনারেল ফাহাদ জাসিম অল ফ্রেজকে। অন্যদিকে দামাস্কাসে সিরিয়ার অত্যাধুনিক সাঁজোয়াবাহিনীর দফতরের বাইরে পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

প্রেসিডেন্ট বাসার অল আসাদের ভাই মাহের আসাদ ওই বাহিনীর কমান্ডার। বিদ্রোহীদের শক্তি হোমস, ডেরা এবং ইদলিবে সংঘর্ষ মোকাবিলায় এই বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র প্রতিবাদ সত্ত্বেও কড়া হাতে বিদ্রোহ দমনে অনড় প্রেসিডেন্ট আসাদ। তবে এই প্রথম বিদ্রোহীরা প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নিশানা করেছে। বুধবারের হামলা নিঃসন্দেহে আসাদ প্রশাসনের কাছে একটা বড় ধাক্কা।




Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।