মায়ানমার সফরে সুকি এবং জুন্টা প্রশাসনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক ওবামার

Update: November 20, 2012 10:22 IST

প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে মায়ানমারের মাটি ছুঁয়ে গেলেন বারাক ওবামা। গতকাল তিনি সে দেশের প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন ও বিরোধী দলনেত্রী আং-সান-সুকির সঙ্গে দেখা করেন। গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় গতি আনার জন্য মায়ানমারের শাসকদের আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইয়াঙ্গনে ৬ ঘণ্টার ঝটিকা সফর সেরে গতকালই কম্বোডিয়া পৌঁছন তিনি।   

আং-সান-সুকি ও তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি। সুকি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি। আপাতভাবে হলেও আইনসভাকে অসামরিক চেহারা দেওয়ার চেষ্টা। এ সবই মায়ানমারের জুন্টা প্রশাসনের রাজনৈতিক সংস্কারে সদিচ্ছার প্রকাশ বলে মনে করছে আমেরিকা। তাঁর দেশের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য ওয়াশিংটন সহ পশ্চিমী দুনিয়াকে অনুরোধ করেছেন খোদ আং-সান-সুকি। এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ইয়াঙ্গনে পা রাখলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে একইসঙ্গে মায়ানমারের সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট ও বিরোধী নেত্রী সুকির সঙ্গে দেখা করলেন। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে রাখিনদের হিংসাত্মক কার্যকলাপ বন্ধ করা ও গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় গতি আনার জন্য মায়ানমার প্রশাসনকে বলেন ওবামা। 

সোমবার, বিদেশসচিব হিলারি ক্লিন্টনকে নিয়ে সুকির বাড়িতে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে, সুকি বলেন, দেশ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করলেও তাঁদের সদাসতর্ক থাকতে হবে।

সোমবার ইয়াঙ্গন বিশ্ববিদ্যালয়েও বক্তব্য রাখেন বারাক ওবামা। সংস্কারের পথে হাঁটতে গিয়ে জুন্টা প্রশাসনেরই একাংশের বিরোধিতার মুখে পড়ছেন মায়ানমারের প্রেসিডেন্ট। ওবামার সফর তাঁর হাত শক্ত করবে বলেই মনে করছে ওয়াশিংটন। ইস্ট এশিয়া শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে এদিন কম্বোডিয়া পৌঁছন বারাক ওবামা। সে দেশের  প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।