মহাশূন্যের মায়া কাটিয়ে পৃথিবীতে সুনীতা

মহাশূন্যের মায়া কাটিয়ে পৃথিবীতে সুনীতা

মহাশূন্যের মায়া কাটিয়ে পৃথিবীতে সুনীতাদীর্ঘ ৪ মাসের মহাকাশ অভিযান শেষ। মহাকাশের সীমা ছেড়ে ভারতীয় সময় সকাল ৭.২৩ মিনিটে পৃথিবীর মাটিতে পা রাখলেন সুনীতা উইলিয়ামস। সঙ্গে ফিরলেন তাঁর দুই আকাশ সঙ্গীও। জাপানের এয়ারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সির আকি হোশিদে এবং সয়ূজ কম্যান্ডার রাশিয়ার ইউরি মেলানশেঙ্কো। এবছর ১৫ জুলাই মহাকাশযান সয়ুজ টিএমএ ০৫ এমএ চড়ে সুনীতা পাড়ি দিয়েছিলেন ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের উদ্দেশে। চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় মহিলা হিসেবে ইন্টারন্যাশাল স্পেস স্টেশনের কম্যান্ডার নিযুক্ত হন সুনীতা। ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন ছাড়ার আগে নাসার আরেক মহাকাশচারী কেভিন ফোর্ডের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন সুনীতা।

এর আগেও ৬ মাস মহাকাশে কাটানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে সুনীতার। মহাকাশযাত্রার অভিজ্ঞতায় নিজের ঝুলি পূর্ণ করে এবার যেন আর ফিরতে মন চাইছিল না সুনীতা উইলিয়ামসের। মহাকাশে স্পেস স্টেশনে চার মাসের অভিজ্ঞতাকে এককথায় অনবদ্য আখ্যা দিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত এই মার্কিন মহাকাশচারী। সুনীতা জানিয়েছেন `এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি, আর পরের মুহুর্তেই নামমাত্র চেষ্টায় সম্পূর্ণ উল্টে গিয়ে ঝুলছি...``

এর আগেও ৬ মাস মহাকাশে কাটানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে সুনীতার। ২০০৬ সালে নাসার বিশেষ যানে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। তবে এবারের অভিজ্ঞতার গুরুত্ব গতবারের থেকেও বেশি। সতেরই সেপ্টেম্বর ইন্টারন্যাশাল স্পেস স্টেশনের কম্যান্ডার নিযুক্ত হন সুনীতা। দ্বিতীয় মহিলা হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি 
এর পাশপাশি, সুনীতাই প্রথম সফলভাবে মহাকাশে ট্রায়াথলন করতে পেরেছেন। এর মধ্যে ছিল সাঁতার, বাইকিং, দৌড়। এক ঘণ্টা আটচল্লিশ মিনিট তেত্রিশ সেকেণ্ডে এই গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন ৪৬ বছরের এই নভোশ্চর। স্পেসওয়াকের ক্ষেত্রেও বিরল কৃতিত্বের অধিকারী সুনীতা। কেরিয়ারে মোট ৭ স্পেসওয়াক করেছেন তিনি। একাজে অভিজ্ঞতার নিরিখে তিনি রয়েছেন ৫ নম্বরে। আদ্যোপান্ত মার্কিন নাগরিক হলেও ভারতীয়দের কাছে সুনীতা তাঁদের ঘরের মেয়ে। তাঁর কৃতিত্বে তাই গর্বিত গোটা দেশ।

First Published: Monday, November 19, 2012, 09:46


comments powered by Disqus