কিষেনজির মৃত্যুর এক বছর পর কেমন আছে জঙ্গলমহল?

গত বছর ২৪ নভেম্বর যৌথ বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছিলেন কিষেনজি। মনে করা হয়েছিল তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে নিশ্চিত হবে জঙ্গলমহলের শান্তি। একইসঙ্গে দ্রুত গতিতে শুরু হয়েছিল জঙ্গলমহলে বিভিন্ন উন্নয়নের কাজ। কখনও মাওবাদীদের আত্মসমর্পণ, একের পর এক সরকারি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বদলে দিয়েছিল জঙ্গলমহলকে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ,কর্মসংস্থানের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতে পরিবর্তনের স্রোতে গা ভাসিয়েছিলেন আমজনতা। কিন্তু মাওবাদী শীর্ষনেতার মৃত্যুর ঠিক একবছরের মাথায় কেমন আছে জঙ্গলমহল? কতটা হয়েছে উন্নয়ন?

Updated: Nov 24, 2012, 10:17 AM IST

গত বছর ২৪ নভেম্বর যৌথ বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছিলেন কিষেনজি। মনে করা হয়েছিল তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে নিশ্চিত হবে জঙ্গলমহলের শান্তি। একইসঙ্গে দ্রুত গতিতে শুরু হয়েছিল জঙ্গলমহলে বিভিন্ন উন্নয়নের কাজ। কখনও মাওবাদীদের আত্মসমর্পণ, একের পর এক সরকারি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বদলে দিয়েছিল জঙ্গলমহলকে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ,কর্মসংস্থানের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতে পরিবর্তনের স্রোতে গা ভাসিয়েছিলেন আমজনতা। কিন্তু মাওবাদী শীর্ষনেতার মৃত্যুর ঠিক একবছরের মাথায় কেমন আছে জঙ্গলমহল? কতটা হয়েছে উন্নয়ন? সময় যতো গড়িয়েছে ততই জঙ্গলমহল যেন ফিরে যাচ্ছে তার পুরনো অবস্থানে। যৌথবাহিনীকে কার্যত আর কোনও অভিযান চালাতে হয়না। প্রতিশ্রুতি রক্ষা দুরে থাক, কাজেও আর সে গতি নেই।
কিন্তু পরিকল্পনায় কোনও খামতি ছিলনা। ক্ষমতায় আসার পরেই জঙ্গলমহলকে নতুন করে সাজিয়ে তুলতে একের পর এক উন্নয়নের ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঝাড়গ্রাম এলাকার উন্নয়নে কালভার্ট,কমিউনিটি হল, হ্যান্ড টিউবয়েল, ডিপ টিউবয়েল, শৌচাগার, প্রাথমিক স্কুল নির্মাণ, এই বাবদ গতবছরই একুশে নভেম্বর সরকারি তরফে জারি হয়েছিল এই টেন্ডার নোটিশটি। ১২ কোটি ১৭ লক্ষ টাকার টেন্ডার ইস্যু করা হয় সরকারি তরফে। টেন্ডারের নোটিশ নম্বর ছিল ০১পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন অ্যাফেয়ার্স, ২০১১-১২,ঝাড়গ্রাম ডিভিশন। টেন্ডারে শর্তাবলীতে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল টেন্ডার নেওয়ার ৩ মাসের মধ্যেই সেই সংস্থাকে কাজ শেষ করতে হবে। কোনও পরিস্থিতিতেই কাজে দেরি বরদাস্ত করা হবেনা। দেওয়া হবেনা বাড়তি সময়ও। প্রাথমিকভাবে কাজের জন্য বেছে নেওয়া হয় ভুলাভেদা,বাঁশপাহাড়ি,জামবনি,গিধনির মতো পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলি।
টেন্ডারে ডিপ টিউবয়েল ও পাম্প হাউসের জন্য বরাদ্দ মোট অর্থের পরিমান ছিল ১১ লক্ষ ২৮ হাজার ৩৪৭ টাকা। শৌচাগার সহ কমিউনিটি হলের জন্য টেন্ডারে বরাদ্দ অর্থ ছিল ৬২ লক্ষ ৮৯ হাজার ৭৭০ টাকা। শৌচাগার সহ প্রাথমিক স্কুলের জন্য টে্ন্ডারে বরাদ্দ অর্থের পরিমান ছিল ১৭লক্ষ ৮২ হাজার টাকা। কালভার্টে বরাদ্দ অর্থের পরিমান ষোল লক্ষ চার হাজার দুশো বিরানব্বই টাকা। সেচে বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ২০ লক্ষ ৫৪ হাজার ১৬৮ টাকা।
কিন্তু এই প্রতিটি কাজই এখন আটকে আছে। কারণ, প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব। অর্থের অভাবেই ঝাড়গ্রাম এলাকার এতগুলি প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। পরিকল্পনা গুলিকে যথার্থ রূপ দিতে অর্থের জোগানে ব্যর্থ রাজ্য সরকার। ফলে শুরু হয়েও এখন সামগ্রিক ভাবেই জঙ্গলমহল উন্নয়নের গতি স্তব্ধ। প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থাননের আশ্বাসও বাস্তবে রূপায়িত হয়নি। ফলে প্রচুর প্রতিশ্রুতি থাকলেও কিষেনজির মৃত্যুর এক বছর পরেও জঙ্গলমহলের বাস্তব অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।