জঙ্গলমহলে অশান্তির ভোটে বিরোধীরা আক্রান্ত

Last Updated: Thursday, July 11, 2013 - 09:58

পাঁচ দফার পঞ্চায়োত ভোটের প্রথম দিনে ভোট চলছে জঙ্গলমহলে। সকাল সাতটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোটগ্রহণ শুরু হতেই তিন জেলা থেকে আসতে শুরু
করেছে অশান্তির খবর। সেই খবরগুলোই থাকছে এই প্রতিবেদনে--
পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ের গুন্ডুতে তিরবিদ্ধ হয়ে আহত  কংগ্রেস কর্মী দীপঙ্কর ঘোষকে আনা হল এসএসকেএম হাসপাতালে। কংগ্রেস নেতা মানস ভুঁইঞার অভিযোগ,
সিপিআইএম এবং তৃণমূলের লোকজনই সংঘবদ্ধভাবে এই হামলা চালিয়েছে।  ভোটের লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে ঝামেলার জেরে সবংয়ের গুরালে আহত হয়েছেন ছয় কংগ্রেস
কর্মী।  সবংয়ের বেশকয়েকটি বুথে এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ কংগ্রেসের।
প্রথম দফার পঞ্চায়েত নির্বাচনে পুরুলিয়ার ঝালদায় একটি বুথে এক প্রার্থীকে অন্যের দিলেন৷ প্রথমে দিলেন নিজের ভোট৷  তারপর দিলেন আরও একটা৷ এবার এক
ভোটারের হয়ে৷ এভাবে অন্যের হয়ে ভোট দিয়ে বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূল প্রার্থী জহরলাল বাগদি৷
কলমার তৃণমূল গ্রাম পঞ্চায়েত প্রার্থী জহরলালের অবশ্য দাবি, ভোটারের হাত কাঁপছিল, বুঝতেই পারছিলেন না কোথায় ভোট দেবেন৷ তাই তাঁর ভোটটা তিনিই দিয়ে
দিয়েছেন৷
প্রথম দফার নির্বাচনের দিনই আক্রান্ত হলেন পঞ্চায়েত সমিতির সিপিআইএম প্রার্থী। বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার আউসনাড়া বুথে যাওয়ার পথে আক্রান্ত হন সিপিআইএম প্রার্থী
শান্তনা বাগদী। মারধর করা হয় ওই বুথেরই গ্রাম সিপিআইএমের পোলিং এজেন্ট বিশ্বনাথ বাগদীকে। গোটা ঘটনায় অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে।

ব্যালটে প্রতীক বিভ্রাট। এর জেরে বাঁকুড়ার রাইপুরের শ্যামসুন্দরপুরের একটি বুথে বন্ধ রয়েছে ভোটগ্রহণ। এই বুথে কংগ্রেস ও তৃণমূলের প্রতীক চিহ্ন পাল্টে গিয়েছে।
কংগ্রেসের প্রতীক চিহ্ন রয়েছে ঘাসফুল এবং তৃণমূলের প্রতীক রয়েছে হাত।
ভোট দেবেন না ছত্রধর মাহাতর মা। ছেলে এখনও মুক্তি পায়নি। তাই এবার আর বুথমুখো হবেন না তিনি। সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ছত্রধর মাহাতর
মা। ফের নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে জঙ্গলমহলে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতেই ভোট হচ্ছে ঝাড়গ্রামে। এলাকায় যথেষ্ট পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী টহল দিচ্ছে বলে দাবি করলেন ঝাড়গ্রামের সাততরা গ্রামপঞ্চায়েতে নিযুক্ত
পর্যবেক্ষক।
রমজান মাসে নির্বাচন হওয়ায় কোনও অসুবিধা হচ্ছে না বলে দাবি করলেন পশ্চিমমেদিনীপুরের সাততড়া গ্রামপঞ্চায়েতে নিযুক্ত পর্যবেক্ষক।  
ভোটের জন্য আলাদা লাইন না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন পুরুলিয়ার মুসলিম ভোটাররা। রমজান মাসে পঞ্চায়েত ভোট হওয়ায় মুসলিম ভোটারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার
নির্দেশ দেয় রাজ্য নির্বাচন কমিশন। মুসলিম ভোটারদের জন্য আলাদা লাইন এবং ভোটের লাইনে তারা যাতে অগ্রাধিকার পান, তা নিশ্চিত করতে জেলাশাসকদেরও নির্দেশ
দেওয়া হয়। কিন্তু পুরুলিয়ার মানবাজার, কেন্দার একাধিক বুথে সংখ্যালঘুদের জন্য আলাদা কোনও লাইনের ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের বাঁকড়াবাঁধ গ্রাম পঞ্চায়েতের সিপিআইএমের মহিলা প্রার্থী বেলা দোলাই, ইলেকশন এজেন্ট অনন্ত দোলাই সহ সিপিআইএম সমর্থকদের বাড়িতে আটক
করে রাখার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ পুলিসকে জানানো সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিস। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সন্ত্রাসের জেরে ভোট দিতে
পারছেন না তাঁরা। পাশাপাশি ডেবরা থানার রামচন্দ্রপুর বুথে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ভোট না দেখালে
ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না তাঁদের।
পশ্চিম মেদিনীপুরে পঞ্চায়েত ভোটে বুথ দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। মোহনপুর ব্লক এলাকায় একশো পনেরোটি বুথের মধ্যে নিরানব্বইটি বুথ
দখলের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। লালগড়ের ধরমপুরে তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকরা বুথ দখলের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। বৈতা গ্রাম পঞ্চায়েতের
দামুজানা বুথ দখলের চেষ্টা হয় বলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছে বিরোধীরা। গোপীবল্লভপুরে বেলিয়াবেড়া থানার ছয়, সাত ও আট নম্বর বুথে হামলা চালানোর
অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলা হয়েছে সিপিআইএমএল লিবারেশন সমর্থিত নির্দল প্রার্থী দুলেশ্বর বেরার বাড়িতে। গড়বেতার কদমডিহায় একশো ছাব্বিশ
নম্বর বুথে সিপিআইএমের পোলিং এজেন্টকে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে।

পঞ্চায়েত ভোটের আগের রাতে আক্রান্ত হলেন একজন সিপিআইএম প্রার্থী। পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় ঘটনাটি ঘটেছে। আক্রান্ত সিপিআইএম প্রার্থীর নাম অশোক
চৌধুরী। গতকাল রাতে তাঁর বাড়িতে চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। ধারাল অস্ত্রের কোপ দেওয়া হয় তাঁকে। গুরুতর জখম ওই প্রার্থী ভর্তি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
ঘটনায় অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে।
ভোট দিয়ে বেরনোর সময় তৃণমূল কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়লেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদাতে ঘটনাটি ঘটেছে। আজ সকালে
খাকুড়দা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দেন সূর্যকান্ত মিশ্র। ভোট দিয়ে বেরোনোর পরেই তাঁর কাছে গিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন কয়েকজন তৃণমূল সমর্থক। সূর্যকান্ত মিশ্র একে
বিক্ষোভ মনে করেন না। চব্বিশ ঘণ্টাকে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু বক্তব্য পেশ করেছেন কয়েকজন তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থক।



First Published: Thursday, July 11, 2013 - 16:02


comments powered by Disqus