রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে নজিরবিহীন টানাপোড়েন

Update: March 7, 2013 18:39 IST

রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে নজিরবিহীন টানাপোড়েন। টানাপোড়েন পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। আজ নিয়ে তৃতীয় বার রাজ্য সরকারের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিন দফায় ভোট করার সুপারিশ করল কমিশন। সঙ্গে কমিশনের প্রস্তাব অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আঠারো কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হোক। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার।

প্রথা হল, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলে পঞ্চায়েত ভোটের দিনক্ষণ ঠিক করে রাজ্য সরকার। এতদিন কোনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু এবার হল। দুর্গাপুজোর ঠিক আগে মুখ্যমন্ত্রী ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে পঞ্চায়েত নির্বাচন করার কথা বলেছিলেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শেষ না হওয়ায় রাজি হয়নি কমিশন। তাদের সুপারিশ মেনে এপ্রিলের শেষে ভোট করতে রাজি হয় সরকার। কিন্তু কমিশনকে চিঠি দিয়ে সরকার একদিনে ভোট করার কথা বলে।

পাল্টা চিঠিতে কমিশন অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের স্বার্থে ৮০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে নূন্যতম তিন দফায় ভোট করার প্রস্তাব দেয়। সেই চাপের কাছে কিছুটা নতিস্বীকার করে সরকার কমিশনকে জানায়, তিন নয়- তারা দুদফায় ভোটে রাজি। আর কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোনও প্রয়োজন নেই। সরকারের সেই চিঠিও খারিজ করার পাশাপাশি রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মীরা পাণ্ডে রাজ্যপালের সঙ্গেও দেখা করেন।

তিনি জানান, জেলাশাসকরা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গণ্ডগোলের আশঙ্কা করছেন। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে ন্যুনতম তিন দফায় ভোট করার পক্ষেই তারা। অনড় সরকার ফেব্রুয়ারি মাসে কমিশনকে পাঠানো সর্বশেষ চিঠিতে ফের দুদফায় ভোট করার কথা বলে। ২০ ও ২৬ শে এপ্রিল, ভোটের এই দুটো দিনও সুপারিশ করে সরকার।
বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারকে পাল্টা চিঠিতে কমিশন জানিয়ে দিল তারা তিন দফায় ভোটের পক্ষে। ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু করতে আঠারো কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সুপারিশের পাশাপাশি কমিশন জানিয়ে দেয় মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধের জন্য ছাব্বিশে এপ্রিলের আগে কোনও অবস্থাতেই ভোট করা সম্ভব নয়।
বল এখন রাজ্য সরকারের কোর্টে। পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী কমিশনের পরামর্শ মেনে সরকার নির্বাচনের দিন ঠিক করে। কিন্তু কমিশনের সঙ্গে সরকার একমত না হলে কী হবে, সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশিকা পঞ্চায়েত আইনে নেই। এই অবস্থায় কমিশনের পরামর্শ না মেনে এক তরফা বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে সরকার। পনেরোই মার্চের পরেই ওই বিজ্ঞপ্তি জারি হবে বলে মহাকরণ সূত্রে জানা গিয়েছে।

সেক্ষেত্রে নির্বাচনে গোলমাল হলে তার কোনও দায়িত্ব কমিশনের ঘাড়ে পড়বে না। উল্টে অবাধ ভোট না হওয়ার অভিযোগ পেলে কমিশন ঢালাও পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারে। সরকার পরামর্শ না মানলে সে পথে হাঁটার কথাই ভাবা হচ্ছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর।








Post Your Comment

Total Comments:4

mononoyan DM office a joma deoa hok...nahole ora..BDO officer samne dariye thakbe...joma na dite deoar jonnyo...

JE SARKAR COLLEGE NIRBACHON GONDOGOLER JONYO BANDHO KOREDILO TARA ABAR EK DINE PANCHAYAT NIRBACHON KORER JONYO KENO GOO DHORECHEN. MAMATA BANERJEER KOTHAI ``DAL ME KUCH KALA HAI``

Suahu 3 bare prochur poriman bahini diya vote krar ktha blei hbe na...kandrio bahini jate niropekho vabe kaj krte pare tao dakhte hbe...

কিন্তু শেষ কথা বলার অধিকার যদি রাজ্য সরকারের হয় তাহলে এই চিঠির মূল্য কি ?

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।