উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তদের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে নীরব ঘাতক হ্যাপি হাইপোক্সিয়া!

কী এই হ্যাপি হাইপোক্সিয়া, কী ভাবে করোনা আক্রান্তদের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে এটি? জেনে নিন এ বিষয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডঃ অরিন্দম পাণ্ডে...

Reported By: সুদীপ দে | Updated By: Jul 16, 2020, 09:14 PM IST
উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তদের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে নীরব ঘাতক হ্যাপি হাইপোক্সিয়া!

সুদীপ দে: প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সারা বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৩৭ লক্ষ ১৭ হাজার ছাড়িয়েছে। এই ভাইরাসে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫ লক্ষ ৮৭ হাজার ৩২৭ জনের। ভারতেও করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হচ্ছে। প্রতিদিনই ২৬-২৭ হাজার মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন করোনায়। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে নীরব ঘাতক ‘হ্যাপি হাইপোক্সিয়া’!

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বেশির ভাগ উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তদের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে এই ‘হ্যাপি হাইপোক্সিয়া’। কী এই হ্যাপি হাইপোক্সিয়া, কী ভাবে করোনা আক্রান্তদের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে এটি? জেনে নিন এ বিষয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডঃ অরিন্দম পাণ্ডে...

কী এই হ্যাপি হাইপোক্সিয়া?

ডঃ পাণ্ডে জানান, হাইপোক্সিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে কমতে থাকে। সবচেয়ে দুশ্চিন্তার বিষয় হল, শরীরে, রক্তে অক্সিজেনের অস্বাভাবিক ঘাটতি হওয়া সত্ত্বেও আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে প্রবল শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরানোর মতো কোনও সমস্যাই দেখা যায় না। সময় মতো চিকিৎসাও শুরু করা যায় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই হ্যাপি হাইপোক্সিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি হঠাৎ করেই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন।

কোনও ব্যক্তি যে হ্যাপি হাইপোক্সিয়ায় আক্রান্ত তা কী ভাবে বোঝা যায়?

ডঃ পাণ্ডে জানান, শরীরে বা রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়া সত্ত্বেও আক্রান্ত ব্যক্তির কোনও সমস্যা না হওয়াই হ্যাপি হাইপোক্সিয়ার প্রধান লক্ষণ। শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৭-এর নিচে নেমে গেলেই শ্বাসকষ্ট হওয়াটা একটা স্বাভাবিক লক্ষণ। কিন্তু হ্যাপি হাইপোক্সিয়ার ক্ষেত্রে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ৭০, ৬০ বা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলেও কোনও সমস্যাই টের পান না আক্রান্ত ব্যক্তি। এই অদ্ভুত পরিস্থিতিকেই হ্যাপি হাইপোক্সিয়া বলা হয়।

Happy hypoxia

রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে কমছে, তা কী করে বোঝা যায়?

ডঃ পাণ্ডে বলেন, “অক্সিজেনের স্যাচুরেশন পরিমাপক যন্ত্র পালস অক্সিমিটার ডিভাইস রোগীর আঙুলের মাথায় লাগিয়ে পরীক্ষা করলেই শরীরে অক্সিজেনের উপস্থিতির পরিমাণ সম্পর্কে জানা যায়।”

কী ভাবে হ্যাপি হাইপোক্সিয়া করোনা আক্রান্তদের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে?

সম্প্রতি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)-এর গবেষণায় জানা গিয়েছে ভারতের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষই উপসর্গহীন করোনা আক্রান্ত। এই উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তরা হ্যাপি হাইপোক্সিয়ায় আক্রান্ত হলে কোনও রকম উপসর্গ বা শারীরিক সমস্যা ছাড়াই শরীরে, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে কমতে থাকে। কোনও উপসর্গ বা শারীরিক সমস্যা না থাকায় চিকিৎসাও হয় না রোগীর। ফলে একটা সময়ের পর শরীরে, রক্তে অক্সিজেনের অস্বাভাবিক ঘাটতির ফলে একাধিক অঙ্গ, প্রত্যঙ্গ বিকল হতে শুরু করে। আক্রান্ত ব্যক্তি হঠাৎ করেই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন, জানান ডঃ পাণ্ডে।

হ্যাপি হাইপোক্সিয়ার চিকিৎসা কী?

ডঃ পাণ্ডে জানান, হ্যাপি হাইপোক্সিয়ার চিকিৎসা বলতে বাইরে থেকে অক্সিজেন দিয়ে রোগীর শরীরের অক্সিজেনের অস্বাভাবিক ঘাটতি পূরণ করা। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে যদি করোনা সংক্রমিত হয়ে থাকে, তাহলে তার চিকিৎসা শুরু করা। রোগী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে, তাঁর সে ভাবে চিকিৎসা করতে হবে।

রোগীকে অক্সিজেন দেওয়ার ক্ষেত্রেও কতগুলি ধাপ বা পর্যায় রয়েছে। প্রথমে নাজাল ক্যাননুলার (nasal cannula) সাহায্যে রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে কাজ না হলে উচ্চ প্রবাহ-যুক্ত মাস্কের (High flow mask) সাহায্যে রোগীর শরীরে অক্সিজেনের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। এতেও রোগীর শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তখন ভেন্টিলেশন বা প্রোন ভেন্টিলেশনে অক্সিজেন দেওয়া হয়।

ডঃ পাণ্ডে বলেন, “চিন্তার কারণ হল, হ্যাপি হাইপোক্সিয়ার কোনও উপসর্গ নেই। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীর চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয়ে যায়। ফলে বেড়ে যায় মৃত্যুর ঝুঁকি।”