অন্তঃসত্ত্বার বিষণ্ণতা শিশুর জন্য মারাত্মক

আপনার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী কি অখুশি? তিনি কি নানা কারণে বিষণ্ণ? তাহলে আপনার সন্তানের মারাত্মক বিপদ। কমে যাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। জন্ম হতে পারে প্রতিবন্ধী শিশুরও।

Updated By: Oct 21, 2016, 11:34 PM IST
অন্তঃসত্ত্বার বিষণ্ণতা শিশুর জন্য মারাত্মক

ওয়েব ডেস্ক: আপনার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী কি অখুশি? তিনি কি নানা কারণে বিষণ্ণ? তাহলে আপনার সন্তানের মারাত্মক বিপদ। কমে যাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। জন্ম হতে পারে প্রতিবন্ধী শিশুরও।

গ্রামের মেয়ে উমার প্রেমে পড়ে গায়ক সুবীর। বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে পাড়ি দেয় মুম্বই। উমার সঙ্গীতজীবনও ধীরে ধীরে বেড়ে উঠতে থাকে। সুবীরের কেরিয়ারগ্রাফ পড়তে থাকে। উমার সাফল্য সুবীরের মধ্যে হিংসার জন্ম দেয়। সেই হিংসা প্রভাব ফেলে তাঁদের দাম্পত্যে। সম্পর্ক ভাঙতে থাকে। ভেঙে যায় তাঁদের বিয়েও। মিসক্যারেজ হয় উমার।

১৯৭৩-এর সেই রিল লাইফের ঘটনাই এখন বাস্তব। চিকিত্সকরা বলছেন, অসুখী দাম্পত্য গর্ভবতী মহিলার মনের ওপর সাঙ্ঘাতিক প্রভাব ফেলে। একাধিক রোগ বাসা বাঁধতে পারে মহিলার শরীরে। মিসক্যারেজের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সাঙ্ঘাতিক প্রভাব পড়ে শিশুর স্বাস্থ্যেও। নরওয়ের একটি সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, অসুখী গর্ভবতী মহিলা সংক্রামিত বিভিন্ন রোগের শিকার হতে পারেন। তার সরাসরি প্রভাব পড়ে শিশুর শরীরে।

সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে পেটের সমস্যা এবং কানের সংক্রমণ ঘটতে পারে। শুধু তাই নয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে সহজেই ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসঘটিত রোগ আক্রমণ করে। গর্ভবতী মহিলার শরীর থেকে এই সব রোগ খুব সহজেই শিশুর শরীরে প্রবেশ করে।

আরও পড়ুন- ফকির লালনের জন্য একটা নোবেল চাই

উন্নয়নশীল দেশেই এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এমনটাই দাবি গবেষকদের। লন্ডেনের ইম্পিরিয়াল কলেজের গবেষকদের দাবি, সারা বিশ্বে পাঁচজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলার মধ্যে একজন মহিলার মধ্যে এই প্রবণতা লক্ষ করা যায়। গর্ভাবস্থায় অসুখী থাকলে মহিলার রক্তচাপ বাড়তে পারে। ডায়াবেটিসের শিকার হতে পারেন ওই মহিলা। এর ফলে তিনি জন্ম দিতে পারেন প্রতিবন্ধী শিশু। সময়ের আগেই সন্তানের জন্ম, কম ওজনের শিশু বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ওজনের শিশুর জন্ম দিতে পারেন ওই মহিলা।

আরও পড়ুন- দুঃস্বপ্ন দূর করতে ঘুমতে যাওয়ার আগে এই মন্ত্রগুলো জপ করুন

মায়ের মানসিক অবস্থা সংক্রামিত হয় তাঁর পেটের ভিতর বেড়ে ওঠা শিশুর মস্তিষ্ক গঠনে। তাই সুস্থ, নীরোগ সন্তানলাভের জন্য সুস্থ রাখতেই হবে মায়ের মন। যে মনে যেন বাসা না বাঁধে কোনও অসুখ।