পিপিই পরে ওয়ার্ডে করোনা রোগীর সোনার হার-আংটি ছিনতাই, তুমুল চাঞ্চল্য কলকাতা মেডিকেলে

বার বার এভাবে চুরির ঘটনায় কার্যত অসহায় হাসপাতালের এক আধিকারিক বলেন, "কিভাবে আটকাব তা বুঝতে পারছি না।"

Reported By: তন্ময় প্রামাণিক | Edited By: সুদেষ্ণা পাল | Updated By: Jul 30, 2020, 10:01 PM IST
পিপিই পরে ওয়ার্ডে করোনা রোগীর সোনার হার-আংটি ছিনতাই, তুমুল চাঞ্চল্য কলকাতা মেডিকেলে
ফাইল ফোটো

নিজস্ব প্রতিবেদন : নজিরবিহীন ঘটনা! পিপিই পরে এসে কলকাতা মেডিকেল কলেজের সুপার স্পেশালিটি বিল্ডিংয়ে বেডে শুয়ে থাকা করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসাধীন রোগিণীর গলার হার এবং আংটি ছিনতাই করলো ২ দুষ্কৃতী। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুরে। দুই দুষ্কৃতীই পিপিই পড়ে এসেছিল। সে কারণেই তাদের মুখ চেনা যায়নি বলে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন ওই রোগিণী ও তাঁর পরিবার। দিনেদুপুরে এভাবে ছিনতাই নিয়ে রীতিমত শোরগোল পড়ে গিয়েছে কলকাতা মেডিকেলে। এই ঘটনায় বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিস প্রথমে দুই চুক্তিভিত্তিক অল্পসময়ের কর্মীকে আটক করে। পরে আরও একজনকে আটক করে। মোট ৩ জনকে আটক করা হয়েছে চুরির ঘটনায়।

সুপার স্পেশালিটি বিল্ডিংয়ে ৭৭২ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রোগীর সঙ্গে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ব্যাপক তল্লাশি চলছে মেডিকেলে। চলছে ধরপাকড়। পুলিশ সূত্রে খবর, দুপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনা নজরে আসে এক নার্সের। তিনি কৈফিয়ত চাইতেই পিপিই পরে থাকা দুই দুষ্কৃতী পালাতে থাকে। তাড়া করেও ধরতে পারেননি পিপিই পরে থাকা ওই নার্স। তিনি খবর দেন সুপারের অফিসে। জানা গিয়েছে, চিকিৎসাধীন ওই রোগিণীর বাড়ি বসিরহাটে। বয়স ৪৮ বছর।

ছিনতাইয়ের ঘটনায় করোনা আক্রান্ত চিকিৎসাধীন রোগী কলকাতা মেডিকেল কলেজের সুপারের কাছে প্রথমে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই মেডিকেল কর্তৃপক্ষ কড়া অবস্থান নেন। পুলিসে খবর দেওয়া হয়। তৎপর হয় পুলিসও। বউবাজার থানা এবং কলকাতা মেডিকেল কলেজের ফাঁড়ির কর্তা ও কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখে ও জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রথমে এসএসবিতে কর্মরত দুই কর্মী রোহিত ও ধর্মেন্দ্রকে আটক করে পুলিস। পরে আরও একজনকে আটক করা হয়।

বার বার এভাবে চুরির ঘটনায় কার্যত অসহায়তার সুর ধরা পড়ল হাসপাতালের এক আধিকারিকের কথায়। তিনি বলেন, "কিভাবে আটকাব তা বুঝতে পারছি না। এদিন ভর্তি হয়েছেন ওই রোগী। দুপুরে দুজন পিপিই ড্রেস পড়ে ওই রোগীর কাছে গিয়ে বলে, আপনার হার এবং আংটি খুলে দিন। আপনার পরিবারকে দিতে হবে। হাসপাতালে সোনার জিনিস পড়ে থাকা যায় না। মহিলা দিতে অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু তারপর একপ্রকার জোর করেই তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয় হার এবং আংটি।" সুপার অবশ্য এনিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। উল্লেখ্য, কলকাতা মেডিকেলেই এর আগে করোনায় আক্রান্ত মৃত তরুণীর বেড থেকে মোবাইল ফোন চুরি গিয়েছিল।

আরও পড়ুন, 'বিশ লাখে একটা'! ভিন্ন শরীর অভিন্ন হৃদয় নিয়ে 'একে অপরকে জড়িয়ে ধরে' NRS-এ জন্ম নিল যমজ