কিডনির নার্ভে 'ওয়েভ শক'-এ নিরাময় বহু রোগের, কলকাতার চিকিৎসকদের মুকুটে নয়া সাফল্যের পালক!

ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে দেশের মধ্যে প্রথমবার কলকাতাতেই এর প্রয়োগ হল।

Reported By: তন্ময় প্রামাণিক | Edited By: সুদেষ্ণা পাল | Updated By: Oct 12, 2020, 05:21 PM IST
কিডনির নার্ভে 'ওয়েভ শক'-এ নিরাময় বহু রোগের, কলকাতার চিকিৎসকদের মুকুটে নয়া সাফল্যের পালক!
নিজস্ব চিত্র

তন্ময় প্রামাণিক : করোনা পর্বে শহর কলকাতায় নতুন সাফল্য! দেশের মধ্য়ে প্রথমবার, উচ্চ রক্তচাপ রুখতে কিডনির নার্ভে শক দিয়ে চিকিৎসা পরীক্ষামূলকভাবে সফল হল কলকাতায়।

কী এই চিকিৎসা পদ্ধতি?
রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ওয়েভ দিয়ে কিডনির ভিতরে থাকা নার্ভকে প্যারালাইসড করে দেওয়া হচ্ছে। আর তাতেই উধাও হয়ে যাচ্ছে উচ্চ রক্তচাপ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয়, 'রেনাল ডি নার্ভেশন থেরাপি'। 

কোন ধরনের রোগীর উপর প্রয়োগ করা যাবে?
# হাইপারটেনশন 
# ডায়াবেটিক
# পেসমেকার আছে
# পারিবারিক সুগার রয়েছে
# উচ্চ রক্তচাপ আছে 
# যাঁদের একবার স্ট্রোক হয়ে গিয়েছে, আবারও স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে
ইত্যাদি নানা সমস্য়ায় যাঁরা অনেকগুলি ওষুধ খান, সেইসব ক্ষেত্রে নয়া এই চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা যাবে। এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে প্রতিটি সমস্যা-ই। এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। আর ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে নতুন এই প্রযুক্তি দেশে প্রথম প্রয়োগ হল কলকাতাতেই।

কী বলছেন চিকিৎসকরা?
চিকিৎসক প্রকাশ কুমার হাজরা এর সুফল সম্পর্কে বলতে গিয়ে দাবি করেছেন, " এক্ষেত্রে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করার মত কুঁচকির ধমনী দিয়ে কিডনির কাছে পৌঁছনো হয়। তারপর সেখানকার নির্দিষ্ট নার্ভ, যেগুলো রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, সেই নার্ভগুলিতে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি দিয়ে ওয়েভ শক দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ওই নার্ভগুলিকে প্যারালাইসড করে দেওয়া হয় বা ড্যামেজ করে দেওয়া হয়। এতে নার্ভ অকেজো হয়ে রক্তচাপ স্বাভাবিক করে। স্ট্রোক প্রবণতা নির্মূল হয়। ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে ডায়ালিসিসের প্রয়োজন পড়ে না বা প্রবণতা অনেকটা কমে যায়।" 

ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে এই নয়া প্রযুক্তির প্রথম প্রয়োগ হয়েছে দক্ষিণ কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে ৫৫ বছর বয়সী অমরেন্দু দাসের শরীরে। এখন তাঁর রক্তচাপ একদম স্বাভাবিক ১২০/৮০। নয়া প্রযুক্তিতে এই চিকিৎসা পদ্ধতির খরচ সম্পর্কে জানিয়েছেন ওই হাসপাতালেরই সিইও চিকিৎসক রূপক বড়ুয়া। তিনি বলেন, "ওই ইমপ্ল্যান্টের সরকার নির্ধারিত দাম ৫ লক্ষ টাকা। চিকিৎসক ও হাসপাতাল খরচ আরও ১ লক্ষ টাকা। আমরা এই বিষয়ে শুধু খরচাটুকু-ই নিচ্ছি।"

আরও পড়ুন, বাঙালি সেন্টিমেন্টে জড়িয়ে দুর্গাপুজো, ষষ্ঠীতেই রাজ্যবাসীর উদ্দেশে ভাষণ মোদীর