close

News WrapGet Handpicked Stories from our editors directly to your mailbox

‘প্রধান বিচারপতির পদকে সম্মান করুন’, বনগাঁ মামলায় সরকারি আইনজীবীদের মন্তব্য বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের

  বনগাঁ মামলায় সরকারি আইনজীবী-বিচারপতি সংঘাত তুঙ্গে। বনগাঁ মামলায় বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় এজলাস বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সরকারি আইনজীবীরা।  তার প্রেক্ষিতে এদিন হাইকোর্টে বনগাঁ মামলার শুনানি চলাকালীন সরকারি আইনজীবীদের কড়া মন্তব্য বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের।

Srabonti Saha | Updated: Jul 22, 2019, 05:51 PM IST
‘প্রধান বিচারপতির পদকে সম্মান করুন’, বনগাঁ মামলায় সরকারি আইনজীবীদের  মন্তব্য বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের

 নিজস্ব প্রতিবেদন:  বনগাঁ মামলায় সরকারি আইনজীবী-বিচারপতি সংঘাত তুঙ্গে। বনগাঁ মামলায় বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় এজলাস বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সরকারি আইনজীবীরা।  তার প্রেক্ষিতে এদিন হাইকোর্টে বনগাঁ মামলার শুনানি চলাকালীন সরকারি আইনজীবীদের কড়া মন্তব্য বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের।

 

তাঁর পর্যবেক্ষণ, বিচারপতির প্রতি অনাস্থা মানে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির প্রতি অনাস্থা। কারণ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিই ঠিক করে দেন কে কোন মামলা শুনবেন। সেক্ষেত্রে সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় এই ধরনের মামলাগুলি শোনার দায়িত্ব পেয়েছেন। সরকারি আইনজীবী যে পদক্ষেপ করেছেন, তাই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকেও অসম্মান দেখানোর সামিল বলে মনে করেন তিনি।

এদিন সরকারি আইনজীবীদের প্রতি বিচারপতির মন্তব্য, “আমি একজন খারাপ বিচারপতি হতে পারি। কিন্তু আমি চেয়ারকে সম্মান করেছি। হাইকোর্টে যে দায়িত্ব দিয়েছিল পালন করার চেষ্টা করেছি। আপনারা চিঠি দিয়ে কী বলেছেন, আমি কি অবিচার করেছি? আপনাদের অনৈতিক কাজকর্ম বরদাস্ত করব না। আমি কাউকে ভয় পাইনা। কোন মামলা শুনব, তা প্রধান বিচারপতি ঠিক করে দিয়েছেন, কোনও সরকারি আইনজীবী ঠিক করেননি। প্রধান বিচারপতির পদকে সম্মান করুন। আমি যদি ঠিক ভুল নির্বিশেষে সরকারের সব সিদ্ধান্তে সহমত পোষণ করি, তাহলে তা অবিচার হবে।”

উল্লেখ্য, বনগাঁ মামলায় বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় এজলাস বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন সরকারি আইনজীবীরা। তাঁদের দাবি,  বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় রাজনৈতিক মন্তব্য করছেন। বনগাঁ মামলায় এই বিচারপতির কাছে ন্যায় ও সুবিচার প্রত্যাশা করেন না বলে দাবি করেন তাঁরা। এবিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়।  এর প্রেক্ষিতেই ক্ষুদ্ধ হন বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়।

এদিন বনগাঁ মামলায় রায় ঘোষণার সম্ভাবনা ছিল। শুনানি চলাকালীন বনগাঁ মামলায় নতুন করে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ। ১১ জন কাউন্সিলরকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়।  সেদিন ঠিক কী হয়েছিল, তা হলফনামায় জানাতে বলা হয়েছে। কে, কীভাবে বাধা দিয়েছিল ঘটনার দিন, তাও উল্লেখ করতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। বিজেপির আইনজীবীকে বিচারপতির মন্তব্য, “প্রমাণ করুন, সেদিন ১১ জনকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।”  

বনগাঁ মামলায় বাদানুবাদের পর বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাস বয়কট রাজ্যের আইনজীবীদের

  অন্যদিকে, তৃণমূল কাউন্সিলরের উদ্দেশে বিচারপতি বলেন,  “অনাস্থা নোটিসে ৩জনকে অংশগ্রহণ করতে হবে। সেটা মানা হয়নি, শকিং। ” তিনি আরও বলেন,  “অনাস্থার পক্ষে কাউন্সিলররা অনুপস্থিত ছিলেন। তাই সময় পিছিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। যাঁরা অনাস্থা প্রস্তাব আনেননি, তাঁরাই কীভাবে সব সিদ্ধান্ত নিলেন?” তৃণমূলকে বিচারপতির আরও তিরস্কার, “এটা কি আইন? আমাকে তো  নতুন করে অঙ্ক শিখতে হবে, যেখানে ‘১০’ ‘১১’-র থেকে বেশি হয়।”  বনগাঁ পুরসভায় তৃণমূলের কাউন্সিলর ১০, বিজেপির ১১। তবুও তৃণমূলই পুরবোর্ড নিজেদের দখলে বলে দাবি করে। তা নিয়েই বিচারপতির এই মন্তব্য। এদিন বনগাঁ মামলায় কোননও রায় দেননি বিচারপতি। আগামিকাল অর্থাত্ মঙ্গলবার ফের এই মামলার শুনানি।