শ্যাম ও কুল দুই-ই হাতছাড়া হতে দেখে BJP-র দিকে ঝুঁকলেন শোভন

শনিবার পুরভোটের আগে 'বাংলার গর্ব মমতা' কর্মসূচির দায়িত্ব দেওয়া হয় শোভনজায়া রত্না চট্টোপাধ্যায়কে। 

Reported By: অঞ্জন রায় | Updated By: Mar 10, 2020, 11:54 PM IST
শ্যাম ও কুল দুই-ই হাতছাড়া হতে দেখে BJP-র দিকে ঝুঁকলেন শোভন
ফাইল চিত্র।

 অঞ্জন রায়

পুরভোটে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকা কী হবে? বিজেপিতে থাকবেন না ফিরে যাবেন তৃণমূলে? সেনিয়ে জল্পনা অন্ত ছিল না। বিশেষ করে ভাইফোঁটায় কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে শোভন-বৈশাখী যাওয়ার পর আরও তীব্রতর হয় জল্পনা। কিন্তু তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রের রত্না চট্টোপাধ্যায়ের গুরুত্ব বাড়তেই তত্পর হন শোভন। যোগাযোগ করেন বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে। 

গত অগাস্টে দিল্লিতে গিয়ে ঘটা করে বিজেপিতে যোগদান করেন শোভন চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর বন্ধু বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে শুরু থেকেই বনিবনা হয়নি তাঁর। কখনও খবর এসেছে, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় শোভনের সমান পদ দাবি করছেন। কখনও আবার রাজ্যসভার আসন। বিজেপি নেতারা শোভনের সঙ্গে কথাও বলেন। কিন্তু জট কাটেন। কলকাতা পুরভোটের মুখে তাঁর সঙ্গে আলোচনাও করতে চায় বিজেপি নেতৃত্ব। তবে ঝুলিয়েই রেখেছিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র। এর মাঝে ভাইফোঁটায় কালীঘাটে 'দিদি'র বাড়িতে ঢুঁ দিয়েও এসেছেন।

শনিবার পুরভোটের আগে 'বাংলার গর্ব মমতা' কর্মসূচির দায়িত্ব দেওয়া হয় শোভনজায়া রত্না চট্টোপাধ্যায়কে। তাতেই চটে যান শোভনবাবু। তৃণমূলের সঙ্গেও যে সখ্যতা রেখেছিলেন, তার ইঙ্গিত দিয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন,''শোভনকে নিয়ে তো বার বারই বলেছি, ওর তৃণমূলে থাকা উচিত। এখন শোভন চান, রত্না থাকলে তিনি দল করবেন না। কিন্তু এটা তো তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। রাজনীতিটা রাজনীতির মতো করুক। ব্যক্তিগত বিষয়টা অন্য জায়গায় থাকুক।''   

তৃণমূলের এহেন অবস্থানে শোভন চট্টোপাধ্যায় বুঝতে পারেন, শ্যাম ও কুল-দুই যেতে চলেছে। সোমবার বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, শোভন চট্টোপাধ্যায় দুই দিকেই ভারসাম্য রেখে চলছিলেন। রাজনীতির ভাষায়, জল মাপছিলেন। রত্নার গুরুত্ব বাড়তেই নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ার বাঁচাতে নেমে পড়লেন শোভনবাবু।     

আরও পড়ুন- লোকসভার মতো পুরভোটেও বায়না জুড়ে CPM-কে কার্যত ব্ল্যাকমেলিং কংগ্রেসের