দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে ঢুকতে ১৭টি সংবাদমাধ্যমে কয়েকশো কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন সুদীপ্ত সেন

শুধুমাত্র এ রাজ্য নয়। দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দেও তিনি দাপটের সঙ্গে ঢুকে পড়তে চেয়েছিলেন।

Updated By: Aug 26, 2014, 10:29 PM IST
দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে ঢুকতে ১৭টি সংবাদমাধ্যমে কয়েকশো কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন সুদীপ্ত সেন

ওয়েব ডেস্ক: শুধুমাত্র এ রাজ্য নয়। দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দেও তিনি দাপটের সঙ্গে ঢুকে পড়তে চেয়েছিলেন। তাই, সংবাদমাধ্যমের ব্যবসায় ঢেলেছিলেন কোটি কোটি টাকা। সিবিআইয়ের জেরায় এ কথা জানিয়েছেন সুদীপ্ত সেন। আর সেই লক্ষ্যে সাহারা-কর্তা সুব্রত রায়ের পথ অনুসরণ করতে চেয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন সারদা-কর্তা।  

নয় নয় করে ১৭টি সংবাদমাধ্যমে কয়েকশো কোটি টাকা বিনিয়োগ। বাজার থেকে তোলা টাকার একটা বড় অংশই কেন তিনি ঢেলে দিয়েছিলেন একাধিক টিভি চ্যানেল আর খবরের কাগজের পিছনে? জেরায় সুদীপ্ত সেনের কাছে এ কথা জানতে চান সিবিআইয়ের গোয়েন্দারা। কী উত্তর দিয়েছেন সারদা-কর্তা?

সিবিআই সূত্রে খবর,সুদীপ্ত সেন বলেছেন, রাজধানীর ক্ষমতার অলিন্দে অবাধ যাতায়াতই ছিল তাঁর লক্ষ্য। আর সে জন্যই তিনি একাধিক সংবাদমাধ্যমের মালিকানা হাতে রাখতে চেয়েছিলেন। পরিকল্পনা করেছিলেন, জাতীয় স্তরে প্রভাব থাকবে এমন একটি মিডিয়া সংস্থার মালিক হতে।

সিবিআইয়ের দাবি, দিল্লিতে পাওয়ার ব্রোকার হওয়ার লক্ষ্যে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন সুদীপ্ত। সেবি থেকে সাউথ ব্লক পর্যন্ত পৌছে যেতে তাঁর রাস্তা ছিলেন ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত সরকার। নানা ক্ষেত্রে ওপরমহলের কর্তা-ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে সারদা-কর্তার অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন রাজ্য পুলিসের প্রাক্তন ডিজি রজত মজুমদার। চিটফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে চোদ্দোই অগাস্ট দেশের তিরিশটি জায়গায় তল্লাসি চালায় সিবিআই। তল্লাসি চলে অসমের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী রাজেশ বাজাজের বাড়িতে। তাঁর গুয়াহাটির অফিস সিল করে দেন গোয়েন্দারা।

সিবিআইয়ের দাবি, এই রাজেশ বাজাজের মাধ্যমেই প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মাতঙ্গ সিং ও তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী মনোরঞ্জনা সিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ হয় সুদীপ্ত সেনের। পরে, মাতঙ্গ ও মনোরঞ্জনার কাছ থেকে টিভি চ্যানেল কেনার পরিকল্পনা করেন তিনি। সিবিআইয়ের দাবি, জেরায় সারদা-কর্তা জানিয়েছেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে গুয়াহাটি থেকে সংবাদপত্র প্রকাশ করতেন তিনি। যোগাযোগ রাখতেন অসমের কংগ্রেস নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে। অসমে ব্যবসা চালাতে গিয়ে আলফার হুমকির মুখে পড়েন সুদীপ্ত। টাকার বিনিময়ে আলফার সঙ্গে রফা করেন তিনি।

সারদার কাগজে ছাপা হয় পরেশ বড়ুয়ার সাক্ষাতকার। চিটফান্ডের কারবার চালাতে গিয়ে কলকাতার একটি সংবাদপত্র গোষ্ঠীর বিরোধিতার মুখে পড়েন সুদীপ্ত।

সিবিআইয়ের দাবি, সংবাদমাধ্যমের ক্ষমতা বুঝতে পেরে এরপরই সারদা-কর্তা ঠিক করেন তিনি নিজেই হয়ে উঠবেন মিডিয়ার মালিক। জেনাইটিস কর্তা শান্তনু ঘোষের কাছ থেকে ৩০কোটি টাকায় কিনে ফেলেন চ্যানেল টেন। সাংবাদিক গৌতম বিশ্বাস এই কেনাবেচায় মধ্যস্থতা করেছিলেন বলে সিবিআই সূত্রে খবর। এ নিয়ে মঙ্গলবার গৌতম বিশ্বাসকে প্রায় তিন ঘণ্টা জেরা করে সিবিআই। গোয়েন্দাদের দাবি,

সুদীপ্ত ভেবেছিলেন, সংখ্যালঘুদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করতে পারলে রাজনীতির কারবারিরা তাঁকে খাতির করতে বাধ্য হবেন।  তাই, উর্দু সংবাদপত্র 'আজাদ হিন্দ' কিনে ফেলেন তিনি।

সারদার গণেশ না উল্টোলে এই মুহূর্তে সংস্থার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকতেন ছ-জন সাংসদ। ফলে, প্রকাশ্যে রাজনীতি না করেও নিজের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খা মেটাতে সারদা-কর্তা পরিকল্পনামাফিক পা ফেলছিলেন বলেই মনে করছেন সিবিআইয়ের গোয়েন্দারা। যদিও, যে মিডিয়া ব্যবসাকে সিঁড়ি করে তিনি ক্ষমতার শীর্ষে পৌছতে চেয়েছিলেন সেই মিডিয়া ব্যবসাই তাঁকে ডুবিয়েছে বলে জেরায় স্বীকার করেছেন সুদীপ্ত সেন।

 

.