বৈধ স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে নাকাল রোগী, গুনতে হচ্ছে নার্সিংহোমের বিল

হাসপাতালের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছে, "অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত আমি কিছু বলতে পারব না। স্বাস্থ্যভবন থেকে অনুমোদন না পেলে চিকিৎসা দেব কীভাবে?" 

Reported By: অয়ন ঘোষাল | Updated By: Jan 15, 2021, 10:41 AM IST
বৈধ স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে নাকাল রোগী, গুনতে হচ্ছে নার্সিংহোমের বিল

অয়ন ঘোষাল: বৈধ স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে নাকাল রোগী। যে কার্ড ভোটের আগে মমতা সরকারের 'মাস্টার স্ট্রোক' বলে দাবি করছেন অনেকে, সেই কার্ড নিয়েই নাজেহাল এক শহরবাসী। বাঘাযতীন স্টেশন থেকে ঢিল ছোঁড়া দুরত্বে রেড প্লাস নার্সিংহোম। তারা স্বাস্থ্যসাথী কার্ড জমা নিতে অস্বীকার করায়, মোটা অঙ্কের বিল দিয়ে চলছে চিকিৎসা। রোগীর পরিবার যখন রিসেপশনে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড জমা দেয়, তখন তাঁকে জানান হয় অপারেশন হবে না। তাই এই কার্ড জমা রাখা যাবে না এবং চিকিৎসার জন্য বৈধ নয়। 

রোগীর নাম শিখা রানি সেন। তাঁর নামেই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড। ১২ জানুয়ারি পেটে অসহ্য ব্যাথা হওয়ায় তাঁর ছেলে কানু সেন তাঁকে নিয়ে রেড প্লাস নার্সিংহোমে ভর্তি করান। কানু সেনের আর্থিক অবস্থা মোটে ভাল নয়। তিনি পাড়ায় ধোপার কাজ করেন। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের উপর ভরসা করেই দ্রুত চিকিৎসার আশায় ভর্তি করেন বাড়ির নিকটে রেড প্লাস নার্সিংহোমে। কিন্তু তাঁর হাতে বৈধ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও কোনও লাভ হয়নি। কারণ, হাসপাতাল কানু সেনের কাছ থেকে ওই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিতে চায় না। রিসেপশন থেকে তাঁকে জানান হয়, তাঁর মা শিখা রানি সেনের অপারেশন হবে না। সুতরাং এই কার্ড নেওয়া যাবে না। টাকা দিয়েই চিকিৎসা করাতে হবে।

এই প্রসঙ্গে, হাসপাতালের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছে, "অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত আমি কিছু বলতে পারব না। স্বাস্থ্যভবন থেকে অনুমোদন না পেলে চিকিৎসা দেওয়া হবে কীভাবে?" 

কানু সেন স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে প্রথমবার মায়ের চিকিৎসা করাতে এসেছেন। তিনি জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড সম্পর্কে তাঁর বিস্তারিত কোনও জ্ঞান নেই। সেই সুযোগ নিয়েই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেখে রোগী ফেরানোর চেষ্টা করেছে হাসপাতাল। কিন্তু কোনও উপায় না দেখে কানু সেন মায়ের চটজলদি চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে দেন রেড প্লাস নার্সিং হোমে। এখনও পর্যন্ত তাঁর বিল হয়েছে ২২,০০০ টাকা। মহাজনের কাছ থেকে ১০% সুদে টাকা ঋণ নিয়ে হাসপাতালের বিল মেটাচ্ছেন কানু সেন। 

প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকলে, সেই কার্ড দেখে রোগীকে ভর্তি করা হবে। সেই কার্ড এবং রোগী রোগ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সহ পরিচয়পত্র সমস্তটাই পৌঁছে যাবে স্বাস্থ্য ভবনে। যা অনলাইন মারফত করা হবে। সেখান থেকে অনুমোদন আসবে। তবে এর মাঝে রোগীর চিকিৎসা বন্ধ থাকবে না। অপারেশন বা অন্য কোনও চিকিৎসা সংক্রান্ত স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে কোনও ভাগ নেই। যদি পাঁচ লক্ষ টাকা পার করে যায় নার্সিংহোমের বিল। সেক্ষেত্রে বাকি টাকা দিতে হবে রোগীর পরিবারকে।

কিন্তু শিখা রানির চিকিৎসায় প্রথমেই জমা নেওয়া হয়নি স্বাস্থ্যসাথী কার্ড। উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য সাথী কার্ড সম্পর্কে কেউ না জানলে তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য হেল্প ডেক্স রাখা থাকবে প্রতি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে। কিন্তু রেড প্লাস নার্সিং হোম সেই নিয়ম মানেনি বলে অভিযোগ রোগীর ছেলে কানু সেনের। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যে নার্সিংহোম স্বাস্থ্যসাথী কার্ড মানবে না, সেই হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হবে।