কালার প্যালেট: অনিরুদ্ধ চাকলাদার

পুজোর আধডজন মেকআপ টিপস নিয়ে এলেন অনিরুদ্ধ চাকলাদার।

Updated By: Sep 28, 2012, 02:45 AM IST

পুজো মানেই সাজগোজ। পেটপুরে খাওয়া। চুটিয়ে আড্ডা আর দেদার মজা। সারা বছর যেমন তেমন ভাবে কাটিয়ে দিলেও এই সময় সুন্দর করে সাজতে চান সকলেই। কিন্তু নতুন পোষাক, জুতো, অ্যাক্সেসরিজ সব কেনা হলেও কোন পোষাকের সঙ্গে ঠিক কীভাবে সাজবেন ভেবে ভেবে হিমসিম খাচ্ছেন অনেকেই। তাঁদের জন্যই পুজোর আধডজন মেকআপ টিপস নিয়ে এলেন অনিরুদ্ধ চাকলাদার। মেকআপ শেডস থেকে হেয়ার ডু সবকিছুই শেয়ার করলেন ২৪ ঘণ্টার প্রতিনিধি প্রমা মিত্র ও শময়িতা চক্রবর্তীর সঙ্গে।
এবার পুজোর কালার প্যালেটে `ইন` এবং `আউট` শেডস কী কী?
ওয়ার্ম টোন অ্যান্ড ব্রাইট কালারস এখন ফ্যাশনে `ইন`। যেরকম রেড, পিঙ্ক, অরেঞ্জের মতো স্ট্রং ভাইব্র্যান্ট কালারস এবার পুজোয় দারুনভাবে চলবে। তবে ফেশিয়াল কালার প্যালেট সবসময় পোষাকের রঙ এবং স্কিন টোনের ওপর নির্ভর করেই বাছা উচিত্। সেক্ষেত্রে যারা একটু ডার্ক বা হুইটিশ কমপ্লেকশন যাদের তারা ওয়াইন বা মেরুন, এই ধরণের শেডসগুলো ব্যবহার করতে পারেন। কুল বা প্যাস্টেল শেডস এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। চোখে ওয়ার্ম টোনের সঙ্গে ঠোঁটে ন্যুড শেডস ব্যবহার করলে ভালো লাগবে। আর যাদের স্কিন টোন একটু ফর্সা তারা পিঙ্ক ব্যবহার করতে পারেন। তবে যেহেতু এবারের পুজোর জামাকাপড়ের ট্রেন্ডটাই একটু ওয়ার্মার টোনে থাকবে তাই তারাও মেক আপটা ওয়ার্ম টোনেই করতে পারেন। যেরকম ডিপ পিচ, সফট ব্রাউন, লাইট ওরেঞ্জ এরকম শেডসগুলো এখন খুব ভালো চলছে। আর আউট বলতে মূলত ইংলিশ টোনগুলো এখন একেবারেই চলছে না। যেরকম ল্যাভেন্ডর, লাইট পার্পল এইসব রঙগুলো। তবে আমি মনে করি কোনও কালারই কখনও একদম ইন বা একদম আউট হয় না। সিজন, পার্সোনাল চয়েস এবং প্রেফরেন্সের ওপর নির্ভর করে ব্যবহার বদলে যায়।  যেহেতু তুমি বলছ যে স্ট্রং কালারগুলো এখন ফ্যাশনে ইন, সেক্ষেত্রে দিন এবং রাতের মধ্যে মেক আপে কতোটা তফাত্‍ হবে?
যেকোনও কালারই দিন এবং রাত যেকোনও সময়ই ব্যবহার করা যায়। শুধু ইনটেনসিটির পার্থক্য হবে। সকালে মেক আপের ইনটেনসিটি একটু হালকা থাকবে। ইভনিং ড্রেসের সঙ্গে সেটাই একটু স্ট্রং হবে।

এবার আসি হেয়ার ডু প্রসঙ্গে। এই পুজোয় কীরকম হেয়ারকাট তুমি সাজেস্ট করছ?
বিভিন্ন টাইপস অফ লেয়ারস বা অ্যাসিমেট্রিক কাটসই এখন সবথেকে ভালো চলছে। মেনটেনেন্স ফ্রি লুক মানে যেগুলো প্রতিদিন সেট না করলেও চলে সেইসব হেয়ারকাটের ওপরই আমি বেশি জোর দেব। ফ্রি ফ্লোয়িং ন্যাচারাল লুক অনেক বেশি সুবিধজনক। স্ট্রেট ফ্লোই হেয়ারের পাশাপাশি কার্ল ইজ কোয়াইট দেয়ার। টং, মেসি কার্লস, সফট কার্লস, ন্যাচারাল ওয়েভ ভীষণ ভাবে চলছে। তবে আমার মনে হয় কলকাতার ফ্যাশন যতো না বেশি স্টাইলিস্ট সাজেশনস এবং ফ্যাশন ট্রেন্ড দ্বারা পরিচালিত তার থেকে অনেক বেশি পরিচালিত হয় মুভিজ এবং টেলিভিশন দ্বারা। সেক্ষেত্রে মুভিজ বা টেলিভিশনে যে ধরণের স্টাইল বেশি দেখা যাচ্ছে সেদিকেই লোকের ঝোঁকার চান্স বেশি।
ঠিক কী ধরণের হেয়ার কালারস এখন চলছে বলে তুমি মনে কর?
সত্যি কথা বলতে কী কালারড হেয়ার এখন সেভাবে ফ্যাশনে নেই। ব্ল্যাক হেয়ার অনেক বেশি ট্রেন্ডি। তবে নেহাতই যদি কেউ কালার করতে চান তাহলে নিজের স্কিন টোনের সঙ্গে ম্যাচ করে সফট গ্লোবাল কালার বাছা যেতে পারে। একটা সময় স্ট্রিকস খুব চলছিল। কিন্তু এখন ব্ল্যাক বা সিঙ্গল টোন হেয়ারই বেশি চলছে।

পুজো মানেই শাড়ি। আর শাড়ির সঙ্গে অনেকেই চুল বেঁধে রাখতে পছন্দ করেন বা ফুল লাগাতে পছন্দ করেন। সেক্ষেত্রে পার্লারে না গিয়েও বাড়িতেই কীভাবে একটু অন্যভাবে চুল বাঁধা যায়?
শাড়ির সঙ্গে চুল খুলে রাখতে চাইলে স্লাইটলি ওয়েট মেসি হেয়ার ডু এখন দারুন ভাবে চলছে। অ্যাসিমেট্রিক লেয়ারসে কাটা চুলে এভাবে খুলে রাখলে দেখতে খুব ভালো লাগে। বাঁধতে চাইলে খুব পরিপাটি করে না বেঁধে একটু অগোছালো ভাবে এলো খোঁপা বা লুজ একটা বেনী করে রাখা যেতে পারে। পুজোয় শাড়ির সঙ্গে অনেকেই মাথায় ফুল লাগাতে চান কিন্তু যেহেতু এইসময় মাথায় লাগানোর মতো ফুল বিশেষ একটা বাজারে পাওয়া যায় না তাই হেয়ার অ্যাক্সেসরিজ যেরকম বিভিন্ন রকমের ক্লিপস, বিডস বা ড্রাই ফ্লাওয়ারস লাগাতে পারেন।

পুজোয় তোমার ফ্যাশন টিপস্?

বি ইএওরসেল্ফ। যেটা পরে তোমার সবথেকে আরাম লাগে সেটাই পরো। যেভাবে সাজলে নিজের নিজেকে ভালো লাগে সেটাই সাজো। বিফোর এনিবডি স্টার্ট লাইকিং ইউ শ্যুড লাইক ইওরসেল্ফ।

.