৯ মিনিটের 'মোদী সংকল্প' পালনের পর দেশকে আলোয় ফেরাতে রুদ্ধশ্বাস লড়াই পাওয়ার গ্রিডের

রবিবার রাত ৯ টা থেকে সোয়া ৯ টার মধ্যে প্রায় ২৬ গিগাওয়াট চাহিদা কমেছে। 

Reported By: শ্রাবন্তী সাহা | Updated By: Apr 6, 2020, 09:11 AM IST
৯ মিনিটের 'মোদী সংকল্প' পালনের পর দেশকে আলোয় ফেরাতে রুদ্ধশ্বাস লড়াই পাওয়ার গ্রিডের

নিজস্ব প্রতিবেদন : মহাশক্তির মহাপ্রকাশ। করোনা মোকাবিলার লড়াইয়ে দেশবাসীর মনোবল যাতে কোনওভাবেই টাল না খায়, তাই ঐক্যতার বার্তা দিতে সবাইকে রবিবার রাত ৯টায় ৯মিনিটের জন্য প্রদীপ, মোবাবাতি, টর্চ, মোবাইলের আলো জ্বালানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়েছে দেশবাসী। রাত ৯টায় দেশজুড়ে জ্বলে উঠেছে প্রদীপ, মোমবাতি, টর্চ, মোবাইলের আলো। কিন্তু একসঙ্গে সারা দেশের আলো নেভানো মুহূর্তে ঠিক কেমন ছিল পাওয়ার গ্রিড ইঞ্জিনিয়ারদের সেই ৯ মিনিটের লড়াই? 

আলো নেভানোর ৯ মিনিট পর দেশের সর্বত্র আলো জ্বালানো সুনির্দিষ্ট করতে সন্ধে থেকেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েন পাওয়ার গ্রিড ইঞ্জিনিয়াররা। চাহিদা কমে যাওয়ার জন্য ন্যাশানাল পাওয়ার  গ্রিড প্রস্তুত করা হয়েছিল। সন্ধে  সাড়ে ৭টা থেকে ধীরে ধীরে তাপবিদ্যুৎ গ্রিডের  উত্পাদন কমানো হচ্ছিল। তবে গ্যাসভিত্তিক এবং হাইডেল পাওয়ার উত্পাদনের ইউনিট থেকে ছোট ছোট করে সামান্য বিদ্যুৎ উত্পাদন করা হচ্ছিল সামগ্রিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য।

জানা যাচ্ছে, রবিবার রাত ৯ টা থেকে সোয়া ৯ টার মধ্যে প্রায় ২৬ গিগাওয়াট চাহিদা কমেছে। গোটা দেশের  নাগরিকরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে যখন আলো বন্ধ করতে শুরু করেন, তখন রাত ৯টা থেকে ৯টা বেজে ৫ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ১৬.৬ গিগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা কমেছে। পরের ১০ মিনিটে আরও ৯ গিগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। রাত ৯টা থেকে ৯টা ১৫-র মধ্যে মোট পতন প্রায় ২৬ গিগাওয়াটে চলে গিয়েছে। রাত ৯টায় প্রায় ২৩.৯ গিগাওয়াট হাইডেল বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছিল, যা ৩ মিনিটের মধ্যে অর্ধেকে নামিয়ে ১২.২২ গিগাওয়াট করা হয়। যেহেতু ওই সময় থেকেই আলো বন্ধ হয়ে যায় এবং সামগ্রিক চাহিদা কমে যায়। প্রসঙ্গত হাইডেল বা জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করে যে গ্রিড তা নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষ৷ । যারফলে সেই গ্রিডগুলির বিদ্যুৎ উৎপাদন রাত সোয়া ৯টার দিকে অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল।

রাত সোটা ৯টার পরই চাহিদা ফের বাড়তে শুরু করে। রাত সোয়া ৯টা থেকে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে থার্মাল পাওয়ার বা তাপবিদ্যুৎ, হাইডেল ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকে ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়। গ্রিডের ভারসাম্য বজায় রাখতে হাইডেল ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উত্পাদন দ্রুত বৃদ্ধি করা হয়েছিল। জানা যাচ্ছে, রাত ৯টায় চাহিদা ছিল ১,১৪,৪৫৬ মেগাওয়াট। যা ৫ মিনিটে কমেছে প্রায় ৯৭,৭৯৮ মেগাওয়াট। পরের ১০ মিনিটে আরও কমে দাঁড়ায় ৮৮,৫৫৯ মেগাওয়াট। রাত সোয়া ৯টার পর চাহিদা বাড়তে শুরু করে এবং রাত ৯টা ৪০ নাগাদ চাহিদা হয় ১,১০,০৪০ মেগাওয়াট।

আরও পড়ুন, করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মোদীমন্ত্র, মোমবাতি-প্রদীপ জ্বেলে সংহতির সঙ্কল্প গোটা দেশের