হাথরস কাণ্ড : নতুন ভিডিয়ো ভাইরাল, আহত অবস্থাতেও নির্যাতিতার মুখে ছিল সন্দীপের নাম

মূল অভিযুক্ত সন্দীপ দাবি করেছে, নির্যাতিতাকে খুন করেছে তাঁর মা ও ভাই। তাঁদের সঙ্গে বুলগড়ী গ্রামের ওই নির্যাতিতার বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল।

Updated By: Oct 9, 2020, 12:23 PM IST
হাথরস কাণ্ড : নতুন ভিডিয়ো ভাইরাল, আহত অবস্থাতেও নির্যাতিতার মুখে ছিল সন্দীপের নাম

নিজস্ব প্রতিবেদন- প্রায় প্রতিদিনই হাথরস কাণ্ড যেন নতুন মোড় নিচ্ছে। রোজই তদন্তের মুখ যেন নতুন রাস্তার দিকে ঘুরে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আটক চার যুবক হাথরসের এসপি-কে একটি চিঠি দিয়েছে। সেই চিঠিতে মূল অভিযুক্ত সন্দীপ দাবি করেছে, নির্যাতিতাকে খুন করেছে তাঁর মা ও ভাই। তাঁদের সঙ্গে বুলগড়ী গ্রামের ওই নির্যাতিতার বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। এমনকী দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে ফোনে কথা হত। আর এই ব্যাপারটাই নির্যাতিতার মা ও ভাই মেনে নিতে পারত না। চার যুবকের সঙ্গে নির্যাতিতার মেলামেশা নিয়ে বারবার আপত্তি জানাতে বাড়ির লোক। শেষমেষ রাগের বশে নিজেদের মেয়েকে তাঁরা খুন করেছে বলে অভিযোগ করে ওই চার যুবক। তবে এরই মধ্যে এই ঘটনায় আরেকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এবার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, আহত অবস্থাতেও নির্যাতিতার মুখে ছিল মূল অভিযুক্ত সন্দীপের নাম।

এর আগেও নির্যাতিতার একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে সেই ভিডিও কোনও সংবাদমাধ্যম তুলে ধরেনি। নির্যাতিতার পরিচয় গোপন রাখাই ছিল সংবাদমাধ্যমের মূল লক্ষ্য। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও দেদার শেয়ার হচ্ছে। এবারও যে ভিডিওটি শেয়ার হয়েছে সেটি সেপ্টেম্বর মাসের। নির্যাতিতা তখন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেই সময় ঘটনার মূল অভিযুক্ত সন্দীপের নাম ছিল তাঁর মুখে। তাহলে কি ওই চার অভিযুক্তই তাঁকে ধর্ষণের পর খুন করেছে! ইতিমধ্যে অনেকেই অনার কিলিং-এর তথ্য তুলে ধরেছিলেন। পুলিস জানিয়েছে, নির্যাতিতার ভাই ও সন্দীপ, লবকুশ, রবিদের মধ্যে মোট ১০৪ টি ফোন কল হয়েছে। কথা হয়েছে পাঁচ হাজার মিনিটের বেশি সময় ধরে। ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত দু'পক্ষের ফোনে কথা হয়েছে।

আরও পড়ুনহাথরস কাণ্ড : এসপিকে চিঠি অভিযুক্তদের! আমরা মারিনি, ও আমাদের বন্ধু ছিল, ফোন করত

নির্যাতিতার ভাইয়ের অবশ্য দাবি, ওই চার যুবকের সঙ্গে কখনো সামনাসামনি তাঁদের কথা হয়নি। তাহলে ফোনে কেন কথা হতে যাবে! সবটাই পুলিস, প্রশাসনের সাজানো ঘটনা বলে দাবি করেছেন তিনি। নির্যাতিতার ভাই আরও বলেছেন, আমার ফোন নম্বর চিনতে পারছি। কিন্তু আরেকটি ফোন নম্বর কার জানি না। ওই নম্বর যে চারজন অভিযুক্তের মধ্যে কারও, তার কোনও প্রমাণ নেই। আমাদের বাড়িতে একটাই ফোন নম্বর। সেই ফোন আমার বাবার কাছে থাকে। আমাদের মেয়ে কখনোই ওই ফোন থেকে সন্দীপ বা বাকি তিনজনকে ফোন করেনি। আমাদের ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কয়েকজন গ্রামবাসীর দাবি, সন্দীপের সঙ্গে নির্যাতিতার বন্ধুত্ব ছিল। দুজন প্রায়ই দেখা করে কথাও বলতেন।