মেহুলের নথি খতিয়ে না দেখেই পাসপোর্টের অনুমোদন মুম্বই পুলিসের!

পুলিস সূত্রে খবর, পাসপোর্ট অনুমোদন হওয়ার দু’বছর পর ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ঋণখেলাপি মেহুলের নথি খতিয়ে দেখে পুলিস। কিন্তু পুলিসের এই তত্পরতা ছিল মেহুলের অনুরোধের ভিত্তিতেই

Updated By: Aug 5, 2018, 01:43 PM IST
মেহুলের নথি খতিয়ে না দেখেই পাসপোর্টের অনুমোদন মুম্বই পুলিসের!
ফাইল চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদন: মেহুল চোস্কি কাণ্ডে আরও বিপাকে মোদী সরকার। অ্যান্টিগা প্রশাসনের দাবিকে কার্যত শিলমোহর দিল মুম্বই পুলিস। মুম্বই পুলিসের তরফে শনিবার জানানো হয়, নথি খতিয়ে না দেখেই মেহুলের পাসপোর্ট জারি করা হয়েছে। ২০১৫ সালে ১০ বছরের জন্য মেহুলের পাসপোর্টের মেয়াদ অনুমোদন করে মুম্বইয়ে পাসপোর্ট অফিস।

আরও পড়ুন- মুগলসরাই নয়, নাম বদলে আজ থেকে দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন

পুলিস সূত্রে খবর, পাসপোর্ট অনুমোদন হওয়ার দু’বছর পর ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ঋণখেলাপি মেহুলের নথি খতিয়ে দেখে পুলিস। কিন্তু পুলিসের এই তত্পরতা ছিল মেহুলের অনুরোধের ভিত্তিতেই। কারণ, সে সময় অ্যান্টিগায় নাগরিকত্ব পেতে ভারতীয় পুলিসের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল বলে জানা যায়। সে সময় সিটি পুলিসের ‘ক্রিমিনাল অ্যান্টিসেডেন্টস অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম’-র ডেটাবেস খতিয়ে দেখে পুলিস। সেখানে মেহুলের বিরুদ্ধে কোনও ‘রেড ফ্ল্যাগ’ (অপরাধমূলক অভিযোগ) না থাকায় ২০১৭ সালে ১৪ মার্চ তার আবেদনকে পাস করিয়ে দেয় মুম্বই পুলিস। এক সপ্তাহ পর ‘থার্ড এজেন্সি’ থেকে মেহুলির নথি খতিয়ে দেখা হয় বলে জানা যায়। ভারতের পুলিসের ‘ক্লিন চিট’ দেওয়ার পরই মেহুলের নাগরিকত্ব বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু করে অ্যান্টিগা প্রশাসন।

আরও পড়ুন- বিরোধী জোট ছেড়ে মোদীর শরণে গেলেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সূত্রে খবর, ২০১৬ সালের ১৪ অগস্ট পর্যন্ত মেহুল এবং তার সংস্থা গীতঞ্জলি জেমসের বিরুদ্ধে ৪২টি মামলা চলছিল। মেহুলের বিরুদ্ধে পুলিস, প্রশাসন থেকে পিএমও পর্যন্ত অভিযোগ জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। কিন্তু এই প্রভাবশালী শিল্পপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ সে ভাবে পুলিস আমল দেয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এর পর পুলিসের ডেটাবেসে কীভাবে মেহুলের নামের পাশে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ নেই, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

আরও পড়ুন- চরম আর্থিক অনটন, বলদের জায়গায় দুই ছেলেকে দিয়ে লাঙল টানালেন কৃষক

উল্লেখ্য, অ্যান্টিগা এবং বারবুডার সিটিজেনশিপ বাই ইনভেস্টিগেশন ইউনিট (সিআইইউ)-র তরফে সম্প্রতি এক বিবৃতি দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া চলাকালীন মেহুলের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধমূলক অভিযোগ ছিল না। ভারতের পুলিস তাকে ‘ক্লিন চিট’ দিয়েছে বলে দাবি অ্যান্টিগার। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই মোদী সরকারের সমালোচনায় নামে বিরোধীরা। বিরোধীদের অভিযোগ, মেহুল চোকসি এবং ভাগ্নে নীরব মোদীকে শুধু পালাতে সাহায্য করেনি, তাদের সব ধরনে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেছে বিজেপি সরকার। 

সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, গত বছর নভেম্বরে অ্যান্টিগার নাগরিকত্ব পান মেহুল চোকসি। চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দেশ ছাড়া হয় মেহুল। ওই মাসের ১৫ তারিখে সে দেশের নাগরিকত্ব পেতে শপথ নেন তিনি। মেহুল চোকসি এবং ভাগ্নে হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদীর বিরুদ্ধে ২৯ জানুয়ারি সিবিআইয়ের কাছে অভিযোগ জানায় পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক।

উল্লেখ্য, মেহুল এবং নীরবের বিরুদ্ধে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্রয়াত্ত ব্যাঙ্ক পিএনবি থেকে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার আত্মসাত্ করার অভিযোগ ওঠে। যখন এই খবর প্রকাশ্যে আসে, দেশ ছাড়া হয় পরিবার-সহ মেহুল এবং নীরব। ‘মামা-ভাগ্নে’ ব্রিটেনেই আশ্রয় নিয়েছে বলে প্রথমে অনুমান করেন সিবিআই তদন্তকারীরা। সাহায্য নেওয়া ইন্টারপোলেরও। পরে, মেহুলই জানিয়েছেন ১.৩ কোটি টাকার বিনিয়মে অ্যান্টিগার নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন তিনি। অ্যান্টিগা-তে ব্যবসা বৃদ্ধি করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৩২ দেশের ভিসা-ফ্রি ভ্রমণের সুবিধাও মেহুল আদায় করে নেয় বলে জানা গিয়েছে।