ফের নিপার হানা কেরলে, বছর তেইশের যুবকের রক্তে মিলল মারণ ভাইরাস

ইতিমধ্যেই আক্রান্ত যুবককে আলাদা রুমে রেখে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, তাঁর সংস্পর্শে আসা কমপক্ষে ৮০ জনকেও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে ১২ জন পড়ুয়া রয়েছে

Updated By: Jun 4, 2019, 12:10 PM IST
ফের নিপার হানা কেরলে, বছর তেইশের যুবকের রক্তে মিলল মারণ ভাইরাস
ফাইল চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদন: কেরলের অজানা জ্বরে আক্রান্ত এক যুবকের রক্তে নিপা ভাইরাস মিলেছে বলে সরকারি তরফে জানাল কেরল। কয়েকদিন ধরে প্রবল জ্বর নিয়ে কেরলের এর্নাকুলামের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বছর তেইশের ওই যুবক। রক্তের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি ল্যাবে। সেখান থেকেই জানানো হয়, ওই যুবকের শরীরে নিপার ভাইরাস মিলেছে।

ইতিমধ্যেই আক্রান্ত যুবককে আলাদা রুমে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, তাঁর সংস্পর্শে আসা কমপক্ষে ৮০ জনকেও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে ১২ জন পড়ুয়া রয়েছেন। আক্রান্ত যুবক ইদুক্কির তদুপুঝার কলেজের ছাত্র। জানা গিয়েছে, তাঁর সংস্পর্শে আসা ৪ ব্যক্তি নতুন করে জ্বরে পড়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন দুই নার্সও।

আরও পড়ুন- জাল রিপোর্টের ভিত্তিতে ‘বেআইনি অনুপ্রবেশকারী’ হিসাবে চিহ্নিত প্রাক্তন সেনা!

কেরল সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অযথা আতঙ্ক হওয়ার কারণ নেই। গত বার কেরলে নিপা হানায় মৃত্যু হয় ১৭ জনের। সেই অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে পিনারাই বিজয়নের সরকার দাবি করে, তাদের হাতে নিপা ভাইরাস মোকাবিলা করার মতো অভিজ্ঞ লোক রয়েছে। আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা মানুষদের অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে বলে দাবি প্রশাসনের তরফে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধণ জানিয়েছেন, কেরলের স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কেরলকে মোনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি পাঠানো হবে। যাবতীয় সিদ্ধান্ত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নেওয়া হবে বলে জানান হর্ষ বর্ধণ।

উল্লেখ্য, গত বছর মারণ ভাইরাস নিপায় আক্রন্ত হন ১৮ জন। এর মধ্যে ১৭ জনেরই মৃত্যু হয়। প্রায় ২৬০০ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। এর আগে ২০০৪ সালে বাংলাদেশে নিপার হানা দেখা যায়। ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় প্রথম শূকরের শরীর থেকে নিপা ভাইরাস পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, বাদুরের (ফ্লাইয়িং ফক্সেস) শরীরের ওই ভাইরাস মেলে। যা মানুষের রক্তে মিশে দ্রুত ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।