হাথরস কাণ্ডে উত্তরপ্রদেশ পুলিসের বড় বয়ান! নির্যাতিতার ধর্ষণ হয়নি, গুজব রটেছে

অকারনেই ধর্ষণের প্রসঙ্গ তুলে যারা পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলার চেষ্টা করেছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে রাখল পুলিস। 

Updated By: Oct 1, 2020, 04:48 PM IST
হাথরস কাণ্ডে উত্তরপ্রদেশ পুলিসের বড় বয়ান! নির্যাতিতার ধর্ষণ হয়নি, গুজব রটেছে

নিজস্ব প্রতিবেদন- উত্তরপ্রদেশের হাথরসের নির্যাতিতার ময়না তদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণের উল্লেখ ছিল না। বলা হয়েছিল, শরীরের একাধিক জায়গায় চোটের চিহ্ন থাকলেও ধর্ষণের কোনো প্রমাণ মেলেনি। মৃত্যুর কারণ হিসাবে বলা হয়েছিল, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। আর এবার উত্তরপ্রদেশের পুলিস হাথ্রাস কাণ্ডে বড়সড় বয়ান দিল। যোগীর রাজ্যের পুলিসের তরফে জানানো হয়েছে, নির্যাতিতার ধর্ষণ হয়নি। উত্তরপ্রদেশ পুলিসের এডিজি ল অ্যন্ড অর্ডার প্রশান্ত কুমার জানিয়েছেন, নির্যাতিতার শরীরে ধর্ষণের কোনও প্রমাণ নেই। তবে হাথরসের নির্যাতিতাকে কে বা কারা নৃশংসভাবে খুন করেছে তার তদন্ত করা হচ্ছে।

অকারনেই ধর্ষণের প্রসঙ্গ তুলে যারা পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলার চেষ্টা করেছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে রাখল পুলিস। এই কাণ্ডের পর প্রথম থেকেই উত্তরপ্রদেশের পুলিস ব্যাকফুটে ছিল। তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল তদন্তের জন্য। নির্যাতিতার সঙ্গে নৃশংসতার খবর দেশবাসীকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ থেকে শুরু করে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পর্যন্ত এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছিলেন। এবং দোষীদের শাস্তি হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। 

আরও পড়ুন-  পুলিসের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি, হাথরাস যাওয়ার পথে গ্রেফতার রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

হাসপাতালে ১৪ দিন লড়াই করার পর হাথরস নির্যাতিতা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। উত্তরপ্রদেশের পুলিশ দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে নির্যাতিতার দেহ নিয়ে এসে বাড়ির সামনে চুপিসারে দাহ করে দেয়। সেই সময় নির্যাতিতার পরিবারের মহিলারা পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। কিন্তু পুলিস তাঁদের ওপর লাঠিচার্জ করে। আসলে শুরু থেকেই এই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের পুলিশ-প্রশাসন অমানবিকতা দেখিয়েছে। ফলে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। একে তো নির্যাতিতার সময়মতো চিকিৎসা শুরু হয়নি। তার উপর পরিবারের লোকের বিরোধিতা সত্ত্বেও পুলিসকর্মীরা নির্যাতিতার দেহ দাহ করে দেয়। পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে নির্যাতিতার শরীরের ঘাড় থেকে শুরু করে শিরদাঁড়া, একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। কিন্তু রিপোর্টে কোথাও ধর্ষণের উল্লেখ ছিল না।