ষষ্ঠীতে 'বাঙালি' হলেন প্রধানমন্ত্রী, বাংলার উদ্দেশ্যে মোদীর বক্তৃতার ১০টি পয়েন্ট এক নজরে

তাঁর এই বক্তৃতা আদৌ বাঙালির মন জয় করল কি না তার উত্তর সময় দেবে। তবে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর এমন ভাষণে বঙ্গ বিজেপি যে কিছুটা অক্সিজেন পাবে, তা বলাবাহুল্য। 

Edited By: সুমন মজুমদার | Updated By: Oct 22, 2020, 01:36 PM IST
ষষ্ঠীতে 'বাঙালি' হলেন প্রধানমন্ত্রী, বাংলার উদ্দেশ্যে মোদীর বক্তৃতার ১০টি পয়েন্ট এক নজরে

নিজস্ব প্রতিবেদন- গো-বলয়ের পার্টি। বিজেপি আর যাই হোক না কেন, বাংলার ও বাঙালির দল নয়! এমন একখানা বদনাম রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির। তবে মহাষষ্ঠীর সকালে সেই বদনাম ঘোঁচাতে কোমর বেঁধে নামলেন প্রধানমন্ত্রী। অনেকেই বলছেন, বাংলার ঐতিহ্য, ইতিহাস ও মণীষীদের অবদানের কথা তুলে তিনি বঙ্গ দখলের চেষ্টায় নেমেছেন। ২১-এর ভোটে কাঠি পড়ল তাঁর এই ভাষণের মাধ্যমে। তাঁর এই বক্তৃতা আদৌ বাঙালির মন জয় করল কি না তার উত্তর সময় দেবে। তবে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর এমন ভাষণে বঙ্গ বিজেপি যে কিছুটা অক্সিজেন পাবে, তা বলাবাহুল্য। বাংলা ও বাঙালির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর এই তাত্পর্যপূর্ণ ভাষণের দশটি পয়েন্ট তুলে ধরছি আমরা, এক নজরে-

১. শুরুতেই বাংলা উচ্চারণ। প্রধানমন্ত্রী বললেন, ''সবাইকে দুর্গা, কালী পুজোর শুভেচ্ছা। এত মানুষের উত্সাহ দেখে মনে হচ্ছে যেন দিল্লিতে নয়, কলকাতাতেই আছি।''

২. রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র, শরচত্চন্দ্রের সঙ্গে বিদ্যাসাগর, রাজা রাম মোহন রায়ের নামও স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী। বললেন, শিল্প ও সাহিত্যে বাঙালিদের অবদানের কথা। এমনকী ক্ষুদিরাম বোস, প্রফুল্ল চাকী, মাতঙ্গিনী হাজরা, শ্রী অরবিন্দের মতো মতাত্মাদের স্মরণ করে স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালির সর্বোত অবদানের কথাও মনে করিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। অগ্নিযুগে বাংলার বিপ্লবীদের প্রণাম জানান প্রধানমন্ত্রী। এমনকী, স্বামী বিবেকাননদের কথাও স্মরণ করতে ভুললেন না তিনি।

৩. প্রধানমন্ত্রী বললেন, করোনা আবহের মধ্যেই দুর্গা পুজো হচ্ছে। আয়োজকরা প্রবল সংযম দেখিয়েছেন। দো গজ কি দুরি মেনে, মাস্ক পরে, স্যানিটাইজার ব্যবহার করেই সবাই উত্সবে মাতুন। আনন্দ করুন। 

৪. প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বললেন, উমা এল ঘরে। বাংলার এই সনাতন পরম্পরা দীর্ঘদিনের। মা দুর্গার আশীর্বাদে গোটা দেশ আজ বাংলাময়। আয়োজন সীমিত হলেও দুর্গাপুজো নিয়ে আনন্দ কম নয়। গোটা দেশ দুর্গা পুজোয় বাংলার সঙ্গে মেতে ওঠে।

৫. বাংলা উচ্চারণে প্রধানমন্ত্রী বললেন, আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে। সব মা-ই চায়, তাঁর সন্তান যেন ভরপেট খেয়ে থাকে। তার জন্য শ্রমিক, কৃষককে আত্মনির্ভর হতে হবে। তবেই সোনার বাংলা গড়া সম্ভব হবে। গোটা দেশকে পথ দেখায় বাংলা।   

৬. মোদী বললেন, প্রতিটি মহিলাকে দেবী দুর্গার মতো সম্মান ও শ্রদ্ধা করতে হবে। দেশের নারীদের সম্মানরক্ষায় বিজেপি সরকার বদ্ধপরিকর। এখন মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কড়া আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এখন দুষ্কর্ম করলে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

৭. বাংলা ভাষা এত মিষ্টি! আমার বাংলা উচ্চারণে খামতি রয়েছে জানি! তবুও এই ভাষা উচ্চারণের লোভ সামলাতে পারলাম না। প্রধানমন্ত্রী এর পরই বাংলা বন্দনায় বলেন, বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল... পূণ্য হোক...হে ভগবান।

৮. উত্সবের শুভেচ্ছাবার্তা দেওয়ার মাঝে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির কথা মনে করালেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করলেন, এই প্রকলপগুলি বাংলা ও বাঙালির জীবন ও জীবিকার উন্নতিতে অনেক সহায়তা করেছে। তিনি জনধন যোজনা থেকে শুরু করে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি সরকারি টাকা এসে পৌঁছনোর কথাও বলেন। 

৯. প্রধানমন্ত্রী বললেন, বাংলার মানুষ আগেও দেশকে পথ দেখিয়েছেন। এখনও দেখাচ্ছেন। বাংলার অতীত গৌরবের। আমার বিশ্বাস, বাংলাই ভবিষ্যতেও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। 

১০. ম দুর্গা ও মা কালীর কাছে প্রার্থনা করি, প্রতি বছর যেন এভাবেই মায়ের পুজো ও সেবা করে যেতে পারি। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উত্সবে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে বললেন প্রধানমন্ত্রী।