কাশ্মীরে তো মুফতি-মোদী জোট করেছিলেন, নৈতিকতার প্রশ্নে পাল্টা উদ্ধবের

শিবসেনা ও বিজেপি জোট করে নির্বাচনে লড়াই করলেও মুখ্যমন্ত্রিত্বে দাবি নিয়ে শুরু হয় টানাপোড়েন।

Updated: Nov 12, 2019, 11:57 PM IST
কাশ্মীরে তো মুফতি-মোদী জোট করেছিলেন, নৈতিকতার প্রশ্নে পাল্টা উদ্ধবের

নিজস্ব প্রতিবেদন: এনসিপি-কংগ্রেসের সঙ্গে শিবসেনার জোট নিয়ে নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বিজেপি। প্রাক্তন শরিককে বিঁধতে ইতিহাস মনে করালেন উদ্ধব ঠাকরে। ব্যঙ্গের ছলে তাঁর মন্তব্য, জম্মু-কাশ্মীরে পিডিপি-বিজেপি যেভাবে জোট করেছিল, সেভাবেই সমঝোতা হবে মহারাষ্ট্রে। প্রসঙ্গত, পিডিপি ও বিজেপি দুই ভিন্নমেরুর দল জোট নিয়েও উঠেছিল প্রশ্ন। 

মহারাষ্ট্রে জারি হয়েছে রাষ্ট্রপতি শাসন। বিজেপি হাত তুলে নেওয়ায় এনসিপি ও কংগ্রেসকে জোটবার্তা দিয়েছেন উদ্ধব ঠাকরে। এদিন মুম্বইয়ে বৈঠকে বসেন দুই দলের নেতারা। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি দুই দল। আরও কিছুটা সময় নিতে চাইছে তারা। সাংবাদিক বৈঠকে এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ার বলেন, ''আমরা তাড়াহুড়ো করতে চাই না। কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।'' কোনও রাখঢাক না রেখেই শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে জানিয়ে দিয়েছেন, এনসিপি-কংগ্রেসকে প্রস্তাব দিয়েছেন। আরও আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু একেবারে ভিন্নমেরুর দলের সঙ্গে জোট করবেন? উদ্ধবের জবাব, মুফতি ও মোদী যেভাবে আদর্শ ভুলে একজোট হয়েছিলেন, সেভাবেই হবে। বিহারে বিজেপি ও জেডিইউ তো জোট করেছে।

শিবসেনাকে বিজেপি মিথ্যুক প্রমাণের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছেন উদ্ধব। তাঁর কথায়, ''ওরা আমাদের মিথ্যাবাদী সাজানোর চেষ্টা করছে। ওরা আসলে হিন্দুত্ববাদী নয়। রামের নীতি মনে চললে সত্য বলা দরকার। ওদের রামভক্ত বা হিন্দুত্ববাদী পার্টি বলার কোনও অধিকার নেই।'' বিজেপি জোটের শর্ত মেনে নিলে দরজা খোলা রয়েছে বলেও স্পষ্ট করেন উদ্ধব। 

মহারাষ্ট্রে বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের ২০ দিন পরও কুর্সির দখল নিয়ে চলছে ঠান্ডাযুদ্ধ। মঙ্গলবারই সে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ করেছেন রাজ্যপাল ভগতসিং কোসয়ারি। তাঁর সুপারিশ মঞ্জুর করেছেন রামনাথ কোবিন্দ।

শিবসেনা ও বিজেপি জোট করে নির্বাচনে লড়াই করলেও মুখ্যমন্ত্রিত্বে দাবি নিয়ে শুরু হয় টানাপোড়েন। ৫০-৫০ শর্তে জোট হয়েছিল বলে মনে করিয়ে দেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। শিবসেনা দাবি করে, আড়াই আড়াই বছর করে দু'দলের মুখ্যমন্ত্রী থাকবে মহারাষ্ট্রে। প্রথম পর্যায়ে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী থাকলেও আড়াই বছর পর তাঁকে সরে দাঁড়াতে হবে। আর সেটা লিখিত দিতে হবে বিজেপিকে। কিন্তু উদ্ধবের শর্ত মানতে রাজি হয়নি গেরুয়া শিবির। রাজ্যপালের কাছে গিয়ে হাত তুলে দেয় মোদীর দল। 

বলে রাখি, মহারাষ্ট্রে বিজেপির সঙ্গে জোট করে শিবসেনা পেয়েছে ৫৬টি আসন। এনসিপি ও কংগ্রেসের আসন সংখ্যা যথাক্রমে ৫৪ ও ৪৪। ১০৫টি আসন নিয়ে বৃহত্তম দল হয়েছে বিজেপি। ২৮৮ আসনের মহারাষ্ট্র বিধানসভায় সরকার গঠনের জাদু সংখ্যা ১৪৫। কংগ্রেস, এনসিপি ও শিবসেনা জোট করে আসন দাঁড়াবে ১৫৪টি।

আরও পড়ুন- সনিয়াকে ফোন করেছিলেন উদ্ধব, বাগে পেয়ে শিবসেনাকে ঝুলিয়ে রাখল এনসিপি-কংগ্রেস