)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশে এবার নতুন আতঙ্ক মানুষখেকো নেকড়ে। গত দুমাসে উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচ এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামজুড়ে নেকড়্রের হানায় প্রাণ গিয়েছে ১১ টিরও বেশি, যার মধ্যে ৯ জন রয়েছে শিশু। রক্তাত হয়েছেন একাধিক মানুষ। সংখ্যাটা প্রায় ৪০ এর কাছাকাছি। মঙ্গলবার রাত্রেও ১১ বছরের এক ঘুমন্ত বালিকার ঘাড়ে কামড় দিয়ে তাকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এক নেকড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় ওই বালিকাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রায় ২৮ বছর আগে একইভাবে উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ে একের পর এক গ্রামে হামলা চালিয়েছিল একদল নেকড়ে। গত জুলাই মাস থেকে মানুষখেকো নেকড়ের আতঙ্কে তটস্থ বাহরাইচ এলাকার মানুষ। কখন নেকড়ে হামলা করবে এই ভয়ে, প্রায় ৪০টি গ্রামের মানুষ এই আতঙ্কে বাইরে পর্যন্ত বেরতে পারছেন না। মানুষখেকো এই নেকড়ের দলকে ধরার জন্য ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে উত্তরপ্রদেশ বনদফতর। অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ভেড়িয়া’। জানা গেছে, ৬টি নেকড়ের দল এই হামলা চালাচ্ছে এলাকাজুড়ে। তাঁদের পাতা ফাঁদে ৫টি নেকড়েকে ধরা গেলেও অবশিষ্ট এক 'ল্যাংড়া' নেকড়ের তাণ্ডবেই ঘুম উড়েছে গ্রামবাসীদের। নেকড়েদের এমন আচরণের কারণ খতিয়ে দেখতে পৌঁছেছেন দেহরাদুনের ‘ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া’ (ডব্লিউআইআই)-র বিশেষজ্ঞের একটি দল। উত্তরপ্রদেশ সরকার নেকড়ের এই হামলাকে ‘বন্যপ্রাণী বিপর্যয়’ হিসাবে ঘোষণা করেছে। এবং নেকড়েদের গুলি করে মারার জন্য নির্দেশিকা জারি করেছে যোগী আদিত্যনাথের সরকার। নেকড়েদের ধরতে ২৫টি দল গঠন করা হয়েছে। এলাকাবাসীদের নিরাপত্তার জন্য প্রায় দুই শতাধিক পুলিস মোতায়েন করা হয়েছে। তবুও ধরা পড়ছে না ওই 'ল্যাংড়া' নেকড়ে। ওই নেকড়ে হয়ত মনে মনে বলছে 'ল্যাংড়া'কো পকড়না মুশকিলহি নেহি, নামুমকিন হ্যায়!
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেকড়েরা সাধারণ ভাবে লাজুক প্রাণী। মানুষকে আক্রমণের নজির খুবই কম। নেকড়েদের ক্ষতি না করলে তারা সাধারণত লোকালয়ে ঢোকেনা। যদি কোনও মানুষ তাদের ডেরা বা তাদের সন্তানদের ক্ষতি করে, তাহলে তারা মানুষের উপর প্রতিশোধ নেয়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)