মাধ্যমিকে ফেল ইজাজ-ই জেএমবি-র ভারত শাখার প্রধান! ঘরের ছেলের জঙ্গি পরিচয়ে হাঁ অবিনাশপুর

৩ বছর আগে আচমকাই একদিন গ্রামের বাড়িতে ফেরে ইজাজ ওরফে ইউসুফ। সঙ্গে বউ ও দুই সন্তান।

Updated By: Aug 26, 2019, 08:52 PM IST
মাধ্যমিকে ফেল ইজাজ-ই জেএমবি-র ভারত শাখার প্রধান! ঘরের ছেলের জঙ্গি পরিচয়ে হাঁ অবিনাশপুর
বীরভূমে গ্রামের বাড়ি (ইনসেটে ইজাজ)

নিজস্ব প্রতিবেদন : গ্রামের আর পাঁচটা বাড়ির মতোই খড় ছাওয়া সাদামাটা একটা কুঁড়েঘর। কিন্তু সেই বাড়ির ছেলেটাই নাকি জঙ্গি! দেশজুড়ে নাশকতামূলক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। এখনও বিশ্বাস করতে পারছে না বীরভূমের প্রত্যন্ত অবিনাশপুর গ্রাম। এই গ্রামেরই ছেলে কুখ্যাত জেএমবি জঙ্গি ইজাজ আহমেদ। জামাত-উল-মুজাহিদিনের ভারত শাখার 'আমির' বা প্রধান। খাগড়াগড় থেকে বোধগয়া বিস্ফোরণ, একাধিক নাশকতা কাণ্ডের অন্যতম মাথা। বিহারের গয়া থেকে আজ ইজাজ আহমেদকে গ্রেফতার করে কলকাতা এসটিএফ। আর তারপরই সামনে আসে তার পরিচয়। সংবাদমাধ্যমে 'ঘরের ছেলে'র এই পরিচয় দেখে তাজ্জব হয়ে যায় গোটা অবিনাশপুর গ্রামও।

ইজাজ আহমেদ, ভালো নাম শেখ ইউসুফ।  বীরভূমের পাঁড়ুইয়ের অবিনাশপুর গ্রামে বাড়ি। বাড়ির ছোট ছেলে ইজাজ। বাড়ির লোক জানিয়েছে, গ্রামের মাদ্রাসা থেকেই মাধ্যমিক অবধি পড়াশুনা করেছিল ইজাজ। কিন্তু মাধ্যমিকে অকৃতকার্য হয়। আর তারপরই গ্রাম ছাড়ে সে। নদিয়ার কুলসুনা মাদ্রাসায় পড়তে যায়। সেখান থেকে মাঝেমধ্যে আসা যাওয়া করত ঠিকই, কিন্তু তারপর থেকে দীর্ঘ সময় বাড়ির সঙ্গে সেভাবে আর কোনও যোগাযোগ ছিল না। গ্রামেও আর আসেনি ইজাজ।

এরপর ৩ বছর আগে আচমকাই একদিন গ্রামের বাড়িতে ফেরে ইজাজ ওরফে ইউসুফ। সঙ্গে বউ ও দুই সন্তান। বাড়ির লোকদের সে বলে, মুর্শিদাবাদের একটি মাদ্রাসায় কাজ করে সে। দীর্ঘদিন পর ঘরের ছেলে ঘরে ফেরায় পরিবারও খুশি হয়। বিশ্বাস করে তার কথায়। এরপর একবছর স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে অবিনাশপুরে গ্রামের বাড়িতেই ছিল ইজাজ। কিন্তু তারপর আবারও, যেভাবে হঠাৎই একদিন সে বাড়ি ফিরেছিল, ঠিক সেইভাবেই আবার বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। আর ইজাজ বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পরই তার খোঁজে গ্রামে আসে এনআইএ।

খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে নেমে অবিনাশপুরের বাড়িতে ইজাজের খোঁজে আসে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। তদন্তকারী অফিসারদের মুখ থেকেই বাড়ির লোক জানতে পারে ইজাজ ওরফে ইউসুফ একজন জঙ্গি। জঙ্গি সংগঠন জেএমবি-র সঙ্গে যুক্ত সে। কৃষক পরিবারের ছেলে ইজাজরা চার ভাই। বাবা চাষবাস করতেন। বাকি তিন ভাই মহম্মদ ইয়ামিন, শেখ এহিয়া ও আবদুল খালেকের মধ্যে একমাত্র মেজোজন মাদ্রাসায় কাজ করেন। বাকি দুজন চাষবাস ও রাজমিস্ত্রির কাজের সঙ্গেই যুক্ত।

আরও পড়ুন, আদিবাসী ঘরে চা পান 'দিদি'র, মেটালেন খুদেদের খেলার মাঠের আবদারও, বৈঠক সেরে জনসংযোগে মুখ্যমন্ত্রী

এদিকে এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতারির পর ইংরেজিতে চোস্ত ইজাজ নিজেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বলে দাবি করে। জানা গিয়েছে, খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডের মূলচক্রী কওসরের কাছেই প্রশিক্ষণ নিয়েছিল ইজাজ। বছর সাতেক আগে কওসরের সঙ্গে দেখা হয় তার। আইডি তৈরি থেকে জঙ্গি নিয়োগ সব বিষয়েই কওসরের কাছে হাতেখড়ি হয় ইজাজের। ধীরে ধীরে 'দক্ষ' হয়ে ওঠে। কওসরের গ্রেফতারির পর জেএমবি-র ভারত শাখার দায়িত্ব পায় সে। ধৃতের কাছ থেকে স্যাটেলাইটে ফোন, জেহাদি নথি, ল্যাপটপ ও বেশকিছু সার্কিট বোর্ড উদ্ধার করেছে এসটিএফ।