Marishda Pradhan Resigns: কাঁথির মঞ্চ থেকে ইস্তফার নির্দেশ অভিষেকের, পদ ছাড়লেন প্রধান-উপপ্রধান-অঞ্চল সভাপতি

কাঁথির সভায় যাওয়ার পথে মারিশদার এক গ্রামে ঢুকে পড়েন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে কাছে পেয়েই একাধিক অভিযোগ করেন গ্রামবাসীরা। জল নেই, সরকারি প্রকল্পের ঘর পাওয়া যায় না-সহ একাধিক অভিযোগ করেন তাঁরা

Updated By: Dec 4, 2022, 04:12 PM IST
Marishda Pradhan Resigns: কাঁথির মঞ্চ থেকে ইস্তফার নির্দেশ অভিষেকের, পদ ছাড়লেন প্রধান-উপপ্রধান-অঞ্চল সভাপতি

প্রবীর চক্রবর্তী: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পদ ছেড়ে দিলেন প্রধান, উপপ্রধান ও অঞ্চল সভাপতি। গতকাল কাঁথির সভায় যাওয়ার পথে মারিশদার এক গ্রামে ঢুকে পড়েন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে কাছে পেয়েই একাধিক অভিযোগ করেন গ্রামবাসীরা। জল নেই, সরকারি প্রকল্পের ঘর পাওয়া যায় না-সহ একাধিক অভিযোগ করেন তাঁরা। এরপরই আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে মারিশদার প্রধান, উপপ্রধান, অঞ্চল সভাপতিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সেই নির্দেশের পর ৪৮ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই তাদের পদ ছেড়ে দিলেন প্রধান, উপপ্রধান ও অঞ্চল সভাপতি।

আরও পড়ুন-অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে নিজের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে দিলেন লিওনেল মেসি   

উল্লেখ্য, গতকাল কাঁথির প্রভাত কুমার কলেজের মাঠে সভা ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই সভায় যাওয়ার পথে মারিশদার একটি গ্রামে ঢুকে পড়ে অভিষেকের কনভয়। মারিশদা পঞ্চায়েতের একটি গ্রামে ঢুকে পড়েন অভিষেক। তাঁকে পেয়েই গ্রামবাসীরা বলতে থাকেন, পানীয় জলটুকু ঠিকমতো পাই না। বর্ষার জল ঢুকলে এক মাসের আসে বের হতে চায় না। একজন বলেন, এখানে টিউব ওয়েল একটা রয়েছে। সেই টিউবওয়েল থেকে নোনা জল বের হয়। ওয়াটার সাপ্লাইয়ের জল এক বেলা দেয়। সেই জল নিতে গিয়ে মারামারিও হয়ে যায়। অভিষেক গ্রামবাসীদের জিজ্ঞাসা করেন, এখানে শুভেন্দু-শিশিরবাবুরা কিছু করেননি? গ্রামবাসীরা বলেন, ওদের এখানে কখনও দেখা যায়নি। তুমি যেমন এসেছো, ওরা কখনও আসেনি। ওদের শুধু ছবিই দেখেছি। গ্রামবাসীদের অভিষেকের প্রশ্ন পঞ্চায়েতের লোকদের আপনারা বলেননি? গ্রামবাসীরা বলেন, ওরা হ্যাঁ করে দেব বলে চলে গিয়েছে। অভিষেক জানতে চান, এখানকার পঞ্চায়েত প্রধানের নাম কী?সরকারি সাহায্য না পাওয়ার অভিযোগ করলেন এক গৃহবধূ। তিনি বলেন, আমার শাশুড়ির পঞ্চাশ বছর বয়স হল কোনও সরকারি সুবিধে পাননি। অভিষেক জানতে চান, ঘরের জন্য নাম লিখিয়েছিলেন কিনা? ওইসব মহিলা বলেন, পঞ্চায়েতে নাম লেখানো হয়েছে। কিন্তু কোনও ফল হয়নি। আমপানের সময় ত্রিপলও পাইনি। জল হলে ঘরে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। জল হলে স্কুলে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়। পঞ্চায়েতের সদস্যরা বলল, ওদের ঘর ইট দিয়ে ঘেরা। এদের কিছু দেওয়া যাবে না। ওই গৃহবধূর ঘরে ঢুকে দেখেন অভিষেক। তাঁদের নিজের ফোন নম্বর দেন। তিনি বলেন, সরকারি লোকজন এসে আপনাদের সুবিধে অসুবিধের কথা জেনে যাবে। তার পর যা করার আমি করব।

মারিশদা থেকে কাঁথির সভায় গিয়ে তাঁর বক্তব্যে মারিশদার কথা টেনে আনেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, মারিশদা ৫ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত, প্রধানের নাম ঝুনুরানী মণ্ডল, উপপ্রধান রামকৃষ্ণ মণ্ডল। অঞ্চল সভাপতি গৌতম মিশ্র। একটা পঞ্চায়েতে যদি কাজ না হয় তাহলে প্রধান যেমন দায়ী তেমনি অঞ্চল সভাপতিও দায়ী। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান ও উপপ্রধানের ইস্তফা আমি আমার টেবিলে চাই। মানুষ পঞ্চায়েতে গিয়ে তাদের ক্ষোভ বিক্ষোভের কথা জানাবে আর আমাদের কেউ দায়িত্ব নেবে না, এটা চলতে পারে না। তাহলে আমাদের রাজনীতি করে কোনও লাভ নেই। স্পষ্ট করে বলছি, প্রধান ইস্তফা দেবে, উপপ্রধান ইস্তফা দেবে, অঞ্চল সভাপতি ইস্তফা দেবে। 

ইস্তফা নিয়ে কী বললেন মারিশদার অঞ্চল সভাপতি গৌতম মিশ্র? গতকাল সভা থেকে আমাদের সর্বভারতীয় সধারণ সম্পাদক যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তারই জেরে ইস্তফা দিয়ে দিলাম। প্রকাশ্য সভায় ইস্তফার নির্দেশ, কোনও ক্ষোভ রয়েছে? গৌতম বলেন, আমাদের তৃণমূল কংগ্রেস একচি পরিবারের মতো। উনি আমাদের নেতা, আমাদের অভিভাবক। আমার যদি কোনও ত্রুটি থাকে তাবলে নিশ্চয় বলবেন। বিধানসবা নির্বাচনের আগে যখন মারিশদা অঞ্চলের যায় যায় পরিস্থিতি তখন আমাকে এই অঞ্চলের দায়িত্ব দিয়েছিল দল। আমি চেষ্টা করেছি। এখন দল মনে করছে আমার সরে যাওয়ার দরকার। ঠিক আছে, আমি সরে যাচ্ছি। অভিষের বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ শিরোধার্য।    

(Zee 24 Ghanta App দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির লেটেস্ট খবর পড়তে ডাউনলোড করুন Zee 24 Ghanta App)