আজই শেষ সুযোগ, বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের মরিয়া চেষ্টায় ইসরো

কেন অন্ধকারে যোগাযোগ স্থাপন করা যাবে না বিক্রমের সঙ্গে?

Updated By: Sep 21, 2019, 11:46 AM IST
আজই শেষ সুযোগ, বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের মরিয়া চেষ্টায় ইসরো

নিজস্ব প্রতিবেদন : শনিবারই শেষ সুযোগ। চাঁদের মাটিতে আয়ু শেষ হচ্ছে ল্যান্ডার বিক্রমের। এর পরে আর বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করার সুযোগ পাবেন না বিজ্ঞানীরা। 

 

চাঁদের এক রাত পৃথিবীর ১৪ দিনের সমান। গত ৭ সেপ্টেম্বর চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বিক্রমের অবতরণস্থলে দিন শুরু হয়। এর পর টানা ১৪ দিন অর্থাত্ ২১ তারিখ পর্যন্ত দিনের আলো ছিল বিক্রমের চাঁদের দক্ষিণ মেরুর ওই অংশে। তবে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ক্রমশ কমে আসছে দিনের আলো। লম্বা হচ্ছে গহ্বরের ছায়া। ২১ তারিখের পর থেকে আবার ১৪ দিনের জন্য রাত নেমে আসবে চাঁদের ওই অংশে। আর তার সঙ্গেই অস্তমিত হবে বিক্রমের সঙ্গে বিজ্ঞানীদের যোগাযোগ স্থাপনের আশা।

কেন অন্ধকারে যোগাযোগ স্থাপন করা যাবে না বিক্রমের সঙ্গে? সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সক্রিয় হয় চন্দ্রযান-২-এর ল্যান্ডার। সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়েই কাজ করে তার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই ৭ সেপ্টেম্বর করা হয়েছিল অবতরণের পরিকল্পনা। তার পর বিক্রমের আয়ু থাকার কথা ছিল পৃথিবীর ১৪ দিন, অর্থাত্ চাঁদের ওই অংশে যতক্ষণ একটানা সূর্যের আলো থাকবে। 

৭ সেপ্টেম্বর অবতরণের  সময়ে বিক্রমের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল যোগাযোগ। তার পর থেকেই ক্রমাগত বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা চালিয়েছেন ইসরো ও নাসার বিজ্ঞানীরা। তবে, ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্তই সক্রিয় থাকবে বিক্রমের সোলার প্যানেল। এর পরেই আলোর অভাবে তা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। ফলে আর যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে না। 

আরও পড়ুন: ব্যবহারকারীদের স্বাচ্ছন্দের জন্য নতুন ফিচার আনল Whatsapp

ইসরোর পাশাপাশি বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টায় সামিল হয়েছে নাসাও। গত ১২ সেপ্টেম্বর বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টার কথা টুইট করেন মার্কিন জ্যোতির্বিদ স্কট টিলি। এর আগে ২০০৫ সালে নাসার একটি কৃত্রিম উপগ্রহের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। সেই সময়ে সেই স্যাটেলাইটের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের কাজে যুক্ত ছিলেন স্কট। তিনি জানান, আপাতত ডিপ স্পেস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চন্দ্রযান-২-এর ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি সিগন্যালের রেকর্ডিংও টুইট করেন তিনি।

 

তাছাড়াও নাসার লুনার রেকনাশাস অর্বিটার (এলআরও)এর সাহায্যে চন্দ্রযান-২-এর ছবি তোলার প্রচেষ্টা করা হয়। গত ১০ বছর ধরে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করছে এলআরও। মঙ্গলবার বিজ্ঞানীদের পরিকল্পনামাফিক চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে যে অংশে বিক্রম রয়েছে, তার উপর দিয়ে এলআরও-কে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্দিষ্ট অংশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে বিক্রমের ছবি তোলার মাধ্যমে অবস্থান ও পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বিক্রমের নির্দিষ্ট অবস্থানের বিষয়ে জানা না থাকায় ছবি তোলা সম্ভব হয়নি।